‘বেনোজলে’ ক্ষতিগ্রস্ত গেরুয়া সংগঠন, বিক্ষুব্ধদের নিশানায় রাজ্য নেতৃত্ব

বিশ্বজিৎ ঘোষ, কলকাতা: সাত পুরসভার নির্বাচনে বাম-কংগ্রেসকে পিছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থান দখল করেছে বিজেপি৷ এই ফলাফলকে কেন্দ্র করে উচ্ছ্বাসও প্রকাশ পাচ্ছে গেরুয়া শিবিরের বিভিন্ন অংশে৷ অথচ, রাজ্য বিজেপির বিক্ষুব্ধদের বিভিন্ন অংশের অভিযোগ, গেরুয়া শিবিরে যেভাবে ‘বেনোজলে’র প্রবেশ ঘটেছে, তার জন্য এ রাজ্যে দলের সাংগঠনিক শক্তিই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে৷
শুধুমাত্র তাই নয়৷

গেরুয়া শিবিরের ওই সব অংশের অভিযোগ, রাজ্য নেতৃত্বের একাংশের কারণে যেমন দলে গোষ্ঠী কোন্দল দেখা দিচ্ছে৷ তেমনই, রাজ্য নেতৃত্বের বিভিন্ন অংশের ‘মদতে’ দলে ‘বেনোজলে’র প্রবেশও ঘটেছে৷ এ সবের জন্যই পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে৷ অন্যদিকে, রাজ্য নেতৃত্বের ওই সব অংশের কারণে দলের দীর্ঘ দিনের বহু নেতা-কর্মী কাজের সুযোগ পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ উঠছে৷ যার জেরে দলে বিক্ষুব্ধদের সংখ্যাও বেড়েছে বলে জানানো হয়েছে৷ এবং, এই ধরনের পরিস্থিতিতে কীভাবে এ রাজ্যে সরকার গড়তে পারবে বিজেপি, সেই বিষয়েও গেরুয়া শিবিরের বিক্ষুব্ধ ওই সব অংশে প্রশ্নও উঠছে৷

আরও পড়ুন: কোটি কোটি টাকা পেয়ে ডোনেশনে ‘নম্বর ওয়ান’ বিজেপি

- Advertisement -

গেরুয়া শিবিরের এক সূত্রের কথায়, ‘‘অন্য দল থেকে বহিষ্কৃত কোনও নেতা যেমন বিজেপিতে যোগদান করেছেন৷ তেমনই, অন্য দল ছেড়ে এসেও বিজেপিতে যোগদান করেছেন কোনও কোনও নেতা৷ এই সব নেতার মধ্যে কারও কারও নামে আগে থেকেই বিভিন্ন ধরনের অভিযোগও রয়েছে৷ অথচ, এই সব নেতার কাউকে কাউকে রাজ্য বিজেপিতে পদ দেওয়া হয়েছে৷ এই ধরনের কর্মকাণ্ডের জেরে দলেরই ক্ষতি হচ্ছে৷’’ একই সঙ্গে ওই সূত্রের কথায়, ‘‘রাজ্য নেতৃত্বের এই ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য দলের দীর্ঘ দিনের বহু নেতা-কর্মী ক্ষুব্ধ৷ এ ভাবে দলে বেনোজলের প্রবেশের কারণে এ রাজ্যে বিজেপির সংগঠনও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে৷ এ ভাবে চলতে থাকলে কীভাবে এ রাজ্যে সরকার গড়তে পারবে বিজেপি?’’

আরও পড়ুন: বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন শাসক দলের একাধিক নেতা?

শুধুমাত্র তাই নয়৷ গেরুয়া শিবিরের এক সূত্রের কথায়, ‘‘রাজ্য বিজেপিতে এমন অনেক নেতা রয়েছেন, কোনও কর্মসূচির জন্য যাঁরা সেভাবে কর্মী-সমর্থকদের জোগাড় করতে পারেন না৷ অথচ, এই ধরনের কোনও কোনও নেতাও রাজ্য বিজেপিতে পদে রয়েছেন৷’’ পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সংগঠন মজবুত করার লক্ষ্যে ‘বিস্তারক যোজনা’র কর্মসূচি গ্রহণ করেছিল এ রাজ্যের গেরুয়া শিবির৷ এই যোজনায় রাজ্যের প্রতিটি বুথের প্রতিটি বাড়িতে দলীয় সদস্যদের পৌঁছনোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল৷ কারণ, এ ভাবে দলের সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে ‘মিশন বাংলা’ সফল করতে চেয়েছিল গেরুয়া শিবির৷

আরও পড়ুন: মোদীর উন্নয়নে সামিল হতে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন ১০ বিধায়ক

ইতিমধ্যেই এমন অভিযোগও উঠেছে, ‘বিস্তারক যোজনা’র যে সাফল্যের রিপোর্ট বিজেপির কেন্দ্রীয় স্তরে পাঠানো হয়েছে, সেই রিপোর্ট সঠিক নয়৷ রাজ্য বিজেপির তরফে অবশ্য এই ধরনের অভিযোগ অস্বীকারও করা হয়েছে৷ কিন্তু, যেভাবে ‘বেনোজলে’র প্রবেশের কারণে দলীয় সংগঠনের ক্ষতির কথা বলছে গেরুয়া শিবিরের বিভিন্ন বিক্ষুব্ধ অংশ৷ এবং, এই ধরনের পরিস্থিতির জন্য রাজ্য নেতৃত্বের বিভিন্ন অংশকে যেভাবে নিশানা করছে ওই সব অংশ, সে সব কি আদৌ সত্যি?

আরও পড়ুন: অখণ্ডতা রক্ষার্থে ভারত জুড়বে বিজেপি-র যুবরা

এই বিষয়ে কী বলছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ? এই বিষয়ে জানার জন্য তাঁর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়৷ তবে, ফোনের ওপার থেকে প্রথমে বলা হয়, ‘‘দিলীপ ঘোষ এখন মিটিংয়ে ব্যস্ত আছেন৷’’ কত সময় পরে রাজ্য বিজেপির সভাপতির সঙ্গে কথা বলা যেতে পারে…? বলা হয়, ‘‘এক ঘণ্টা পরে ফোন করুন৷’’ কিন্তু, এক ঘণ্টা পরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি৷

আরও পড়ুন: বাপুজির দেখানো পথেই বিজেপি হঠানোর তোড়জোড় শুরু মমতার

Advertisement ---
-----