লোকসভা ভোট করতে রাজ্যে আসবে ‘দাদার বাহিনী’ : দিলীপ

স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ: পঞ্চায়েত ভোট হয়েছে ‘দিদির বাহিনী’ দিয়ে৷ লোকসভা ভোটে রাজ্যবাসী দেখবেন ‘দাদার বাহিনী’কে৷ রিগিং করার চেষ্টা করা হলে দাদার বাহিনী ছাল ছাড়িয়ে দেবে৷ বৃহস্পতিবার মালদহ থেকে এমন হুমকিই দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ৷

এদিন দলীয় এক কর্মসূচিতে অংশ নিতে মালদহে যান দিলীপ ঘোষ৷ দলের তরফে মালদহ কলেজ অডিটেরিয়ামে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল৷ পদাতিক এক্সপ্রেস থেকে নেমে সকালেই পা রাখেন মালদা টাউন স্টেশনে৷ রাজ্য সভাপতিকে অভ্যর্থনা জানাতে বিজেপি কর্মীরা ভিড় জমান সেখানে৷

স্টেশনচত্বরে সাংবাদিকদের ভিড়ও ছিল৷ সেখানেই দিলীপ ঘোষ বলেন, এ রাজ্যে কারও সুরক্ষা বলে কিছু নেই৷ যেভাবে বিরোধীশূন্য করা হচ্ছে তা কার্যত ভয়ঙ্কর৷ পুরুলিয়া থেকে সেটা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে৷ রাজ্যে গণতন্ত্র, সাংবিধানিক অধিকারের কোনও জায়গা নেই৷ টাকা দিয়ে, ভয় দেখিয়ে বিরোধী শিবির ভাঙানোর চেষ্টা করছে তৃণমূল৷ বিজেপি কর্মীদের প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে৷ তবে তাঁদের মনোবল ভাঙা যে সম্ভব নয় সে দাবিও করেছেন রাজ্য সভাপতি৷

- Advertisement -

তাঁর কথায়, পশ্চিমবাংলায় জুড়ে সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি হয়েছে৷ জোর করে বিরোধীপ্রার্থীদের দলে টানার চেষ্টা করছে শাসকদল৷ চাপ দিয়ে তৃণমূলে শামিল করার চেষ্টা করা হচ্ছে৷ সুবিধা করতে না পারলেই পুলিশি মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হচ্ছে৷ রাজ্যজুড়ে ভয়ের পরিবেশ৷ বিজেপি তাঁদের মাস দু’য়েকের জন্য রাজ্যের অন্যত্র সরিয়ে রেখেছে৷ দিলীপ ঘোষ বলেন, শুধু কর্মী-সমর্থকদের হুমকিই নয়, তৃণমূলের মন্ত্রী-নেতারা যেভাবে বিরোধীশূন্য করার ডাক দিচ্ছেন তাতে বিজেপির কর্মীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন৷ তাঁদের সুরক্ষা দিতেই দল অন্যত্র সরিয়ে রাখছেন বলে দাবি বিজেপি রাজ্য সভাপতির৷

এদিন স্টেশন থেকে একটি বেসরকারি হোটেলে ওঠেন দিলীপ ঘোষ৷ সেখানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে৷ তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী দিল্লি যেতে চাইছেন৷ আর তাঁকে কিছু লোক এগিয়ে দিচ্ছেন৷ কিন্তু একটা আঞ্চলিক দল থেকে প্রধানমন্ত্রী হওয়া মোটেই সম্ভব নয় বলে মনে করেন দিলীপ ঘোষ৷ বলেন, ‘‘জ্যোতিবাবুকেও অনেকে পাম্প দিয়েছিলেন৷ কিন্তু লাভ হয়নি৷ দিদিমনিকেও কেউ টোপ দিচ্ছেন৷ পিসিকে দিল্লি পাঠাচ্ছেন৷ নিজের রাস্তা পরিষ্কারের জন্য৷ দলের লোকজন দিদিমনিকেও পাম্প দিচ্ছেন৷ কিন্তু আঞ্চলিক দল থেকে প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে না৷’’

এদিনের মূল অনুষ্ঠানমঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘‘পঞ্চায়েত দিদির বাহিনী দিয়ে হয়েছে৷ লোকসভা দাদার বাহিনী দিয়ে হবে৷ রিগিং করার চেষ্টা করলে দাদার বাহিনী ছাল ছাড়িয়ে দেবে৷ মহেশতলা উপনির্বাচনে নমুনা দেখেছেন আপনারা৷ ২০১৯ সালে ৪২টি আসনে আধা সামরিক বাহিনী দিয়ে ভোট হবে৷ সেখানে কোনওরকম ঝামেলা, সন্ত্রাস করা যাবে না৷’’

সরকারি আমলাদের বদলি নিয়েও এদিন ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি৷ তিনি বলেন, যে এলাকায় বিজেপি ভালো ফল করছে সেখানেই কোপগুলি পড়েছে৷ বিজেপি যেখানে মাথাচাড়া দিয়েছে সেই এলাকার আমলাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে৷ শুধু তাই নয়, তৃণমূল নিজেদের পদাসীন নেতা, মন্ত্রীদেরও বদলে দিয়েছে৷ কার্যত তিরস্কার করা হয়েছে৷

দিলীপবাবু বলেন, স্বচ্ছ প্রশাসন গড়তে তৃণমূল কংগ্রেসের অনেক বিজয়ী সদস্য বিজেপির সাথে হাত মিলিয়ে বোর্ড গঠনে উৎসাহ দেখিয়েছে৷ তৃণমূলের বিশ্বাসভঙ্গের কারণেই তারা মুখ ফিরিয়ে নির্দল হয়ে লড়াই করেছে ভোটে৷ আসলে তাঁদের লড়াই ছিল তৃণমূলের স্বজনপোষণ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে৷ সেইসব নির্দল প্রার্থীরা যদি স্বচ্ছ প্রশাসন গড়তে বিজেপির সঙ্গে হাত মেলাতে চান, বিজেপিতে আসতেই পারেন৷ শুধু তাই নয়, চাইলে কংগ্রেসের প্রথম সারির রাজ্যনেতারাও যে বিজেপিতে আসতে পারেন সে ইঙ্গিতও এদিন দিয়েছেন দিলীপ৷ জল্পনা, এ ইঙ্গিত অধীর চৌধুরি, দীপা দাশমুন্সি, মৌসম বেনজির নূরের মত নেতৃত্বের জন্যই৷

Advertisement ---
---
-----