স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: প্রতিবাদ মিছিলে লাঠিচার্জ করেছিল পুলিশ। সেই ঘটনার প্রতিবাদে ফের পথে নামল বিজেপি কর্মীরা। থানা ঘেরাও করে চলল বিক্ষোভ।

ঘটনাটি উত্তর ২৪ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়া এলাকার। শুক্রবার দুপুরে পুলিশের বিরুদ্ধে লাঠিচার্জের অভিযোগ তুলে পুলিশের গাড়ি আটকে দিল বিজেপির কর্মী সমর্থকরা। এই ঘটনার জেরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় বীজপুর বিধানসভার অন্তর্গত কাঁচরাপাড়ার কবিগুরু রবীন্দ্র পথ রোডে।

আরও পড়ুন- নাবালিকা ছাত্রীকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠল গৃহশিক্ষকের বিরুদ্ধে

বৃহস্পতিবার কোচবিহারে আক্রান্ত হতে হয় রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষকে। যার প্রতিবাদে শুরু হয় মিছিল। শতাধিক কর্মী-সমর্থক নিয়ে মিছিল শুরু করে বিজেপি। বারাকপুর সাংগঠনিক জেলার পক্ষ থেকে আয়োজিত এই মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অহিন্দ্রনাথ বসু, সন্তোষ সিং, ফাল্গুনী পাত্র,  বিনোদ গোন্দ ও বিনোদ শর্মা, উজ্জল সেন, সমর দাস, অপর্না বল, তন্ময় আইচ ,সুরজিৎ দাস , হীরা মন্ডল সহ বিভিন্ন নেতা কর্মীরা।

কাঁচরাপাড়া কলেজ মোড়ের কাছে বিজেপির এই প্রতিবাদ মিছিল আটকে দেয় পুলিশ। বীজপুর থানার পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিজেপি কর্মীদের এই মিছিল করার কোন অনুমতি বীজপুর থানার পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি। বিজেপির কর্মী সমর্থকদের প্রতিবাদ মিছিল বন্ধ করে দিতে বলা হলে তা মানতে চায়নি বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। বিজেপি কর্মীরা ওই মিছিল এগিয়ে নিয়ে যেতে গেলে তা আটকে দেয় বীজপুর থানার পুলিশ।

এরপরই পুলিশ কর্মীদের সঙ্গে বিজেপি কর্মীদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে লাঠি চার্জ করে পুলিশ। বারাকপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অহিন্দ্রনাথ বসু বলেন, ‘পুলিশ শাসক দলের দলদাসে পরিণত হয়েছে। ওরা আমাদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিলে লাঠিচার্জ করেছে। আমাদের এক সহকর্মী মারাত্মক জখম হয়েছে, সে রক্তাক্ত হয়েছে পুলিশের লাঠির ঘায়ে। তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে। বিনা প্ররোচনায় মহিলা পুলিশ ছাড়া আমাদের দলের মহিলা কর্মীদের মারধর করেছে বীজপুর থানার পুলিশ।’

অন্যদিকে এই ঘটনায় কাঁচরাপাড়ার কবিগুরু রবীন্দ্রপথে ব্যপক উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশের গাড়ির সামনেই ধর্না ও বিক্ষোভ শুরু করে বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। যানজট দেখা দেয় ওই রাস্তায়। উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বিজেপির প্রতিবাদ মিছিলে অংশগ্রহণকারী ৩৬ জন কর্মী সমর্থককে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করে। এই ঘটনার পর স্থানীয় বিজেপি কর্মী সমর্থকরা বীজপুর থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। এই ঘটনার জেরে গভীর রাত পর্যন্ত উত্তেজনা ছিল বীজপুর থানা এলাকায়।

----
--