মুকুলের ছায়ায় গেরুয়া সংগঠনের নিশানায় মমতার স্বাস্থ্য দফতর

প্রতীকী ছবি৷

বিশ্বজিৎ ঘোষ, কলকাতা: মুকুল রায়ের ছায়ায় পশ্চিমবঙ্গে শেষ পর্যন্ত আত্মপ্রকাশ করল বিজেপি সমর্থিত এক সংগঠন৷ আর, এই ‘অরাজনৈতিক’ সংগঠনের নিশানায় এ বার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাস্থ্য দফতর৷

আরও পড়ুন: বাংলা দখলের লক্ষ্যে তৈরি তিনমূর্তি মুকুল-দিলীপ-রাহুলের তিন টিম

পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষ যাতে চিকিৎসা পরিষেবার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, তার জন্য ২৪ ঘণ্টার ব্যবস্থা করতে চলেছে ড: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নামাঙ্কিত গেরুয়া শিবিরের নতুন এই সংগঠন৷ বিজেপি সমর্থিত ‘অরাজনৈতিক’ এই সংগঠনের নাম ড: শ্যামাপ্রসাদ স্বাস্থ্য মিশন৷ এই মিশনের পরিষেবার মাধ্যমে এ রাজ্যের নিঃস্ব, দুস্থ অসংখ্য মানুষ যাতে উপকৃত হন, তার জন্য বিশেষ নজরও দিচ্ছে এই গেরুয়া সংগঠন৷

- Advertisement -

আরও পড়ুন: বাংলায় গেরুয়া ক্ষোভ: তৃণমূলের সুবিধা করে দিচ্ছে বিজেপি

এবং, রাজ্য জুড়ে এই মিশনের অঙ্গ হিসাবে আগামী দিনে প্রতিটি জেলায় অ্যাম্বুল্যান্স, প্রাথমিক পর্যায়ে কলকাতায় হেড অফিস সহ রাজ্যে পাঁচটি কন্ট্রোল রুম, রাজ্যের প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসাপাতালের পাশাপাশি জেলা সদর হাসপাতালে হেল্প ডেস্ক, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আসা রোগী এবং তাঁর পরিজনদের জন্য থাকা এবং খাবারের ব্যবস্থা সহ একগুচ্ছ পরিকল্পনা গ্রহণের কথা এই সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে৷

আরও পড়ুন: ‘সন্ত্রাস’ মুক্ত বাংলার লক্ষ্যে বিজেপির কর্মকাণ্ডে যুক্ত হচ্ছেন প্রবাসী বাঙালিরা

ড: শ্যামাপ্রসাদ স্বাস্থ্য মিশনের সভাপতি হয়েছেন ইন্দ্রজিৎ সিনহা৷ বেশ কয়েক মাস আগেও রাজ্য বিজেপির স্বাস্থ্য পরিষেবা সেলের আহ্বায়ক ছিলেন গেরুয়া শিবিরের এই নেতা৷ সূত্রের খবর, ড: শ্যামাপ্রসাদ স্বাস্থ্য মিশন যে সব কর্মসূচির বিষয়ে জানিয়েছে, তেমনই বিভিন্ন কর্মসূচি রাজ্য বিজেপির স্বাস্থ্য পরিষেবা সেলে গ্রহণ করতে চেয়েছিলেন ইন্দ্রজিৎ সিনহা৷ এই কর্মসূচির বিষয়ে রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষের সমর্থন ছিল বলেও জানা গিয়েছিল৷ তবে, সূত্রের খবর, প্রস্তাবিত এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়নি রাজ্য বিজেপির বর্তমান নেতৃত্বের একাংশের কারণে৷

আরও পড়ুন: ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়ার মশা মারতে ছড়া কাটল মমতার সরকার

এ দিকে, ড: শ্যামাপ্রসাদ স্বাস্থ্য মিশনের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন রাজ্য বিজেপির স্বাস্থ্য পরিষেবা সেলের সঙ্গে যুক্ত গেরুয়া শিবিরের কর্মী-সমর্থকরা৷ যদিও, এর ফলে রাজ্য বিজেপির স্বাস্থ্য পরিষেবা সেলের কোনও ক্ষতি হবে না বলেই জানিয়েছেন ইন্দ্রজিৎ সিনহা৷ কিন্তু, কীভাবে গেরুয়া শিবিরের এই সংগঠনকে অরাজনৈতিক বলা হচ্ছে? ইন্দ্রজিৎ সিনহা বলেন, ‘‘বাংলার মানুষের চিকিৎসা পরিষেবার স্বার্থে ড: শ্যামাপ্রসাদ স্বাস্থ্য মিশনে কোনও রং দেখা হবে না৷ এই সংগঠন অরাজনৈতিক৷’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘মুকুল রায়ের অনুপ্রেরণা, সহযোগিতায় তৈরি এই সংগঠন বাংলার মানুষের চিকিৎসা পরিষেবার জন্য ২৪ ঘণ্টা কাজ করবে৷ এই সংগঠনে ২২ জনের কমিটি গঠন করা হয়েছে৷’’

আরও পড়ুন: খোদ মমতার ঘনিষ্ঠ নেতাই বলছেন, এ বার নতুন করে ভেবে দেখা দরকার

লন্ডন প্রবাসী চিকিৎসক শিশির রায় চেয়ারম্যান এবং আইনজীবী সোম মণ্ডল এই সংগঠনের পৃষ্ঠপোষক বলেও জানিয়েছেন ড: শ্যামাপ্রসাদ স্বাস্থ্য মিশনের সভাপতি৷ চিকিৎসক সহ অন্য বিশিষ্টরাও এই মিশনের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন বলেও তিনি জানিয়েছেন৷ নিজাম প্যালেসে সম্প্রতি এই সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে৷ ইন্দ্রজিৎ সিনহা বলেন, ‘‘রাজ্যের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে যেমন সহায়তা করা হবে৷ তেমনই, চিকিৎসা পরিষেবা ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের যে সব প্রকল্প রয়েছে, সে সব বিষয়েও আমাদের প্রচার চলবে৷’’

আরও পড়ুন: মদন মিত্রর ‘পরিকল্পনা’য় কন্যাশ্রীর ধাঁচে চালু হচ্ছে মমতাশ্রী

শুধুমাত্র তাই নয়৷ ‘অরাজনৈতিক’ এই সংগঠনের সভাপতি বলেন, ‘‘চিকিৎসা পরিষেবা ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের যেসব প্রকল্প রাজ্য সরকারের নামে চালানো হচ্ছে, সে সব বিষয়েও আমরা প্রচার করব৷ এই সব বিষয়ে প্রকৃত সত্য সাধারণ মানুষের কাছে আমরা তুলে ধরব৷ এ রাজ্যের বেসরকারি হাসপাতালগুলির বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ উঠছে, সে সবের যাতে তদন্ত হয়, তার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আমরা আর্জিও জানাব৷’’ ওয়াকিবহাল মহলের বিভিন্ন অংশ এমনই মনে করছে, এ ভাবেই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন সেকেন্ড-ই-কম্যান্ড মুকুল রায়ের ছায়ায় এই গেরুয়া সংগঠনের নিশানায় চলে এল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অধীনে থাকা স্বাস্থ্য দফতর৷

Advertisement
---