মানব গুহ, কলকাতা: রাজধানী রাজ্য দিল্লীকে ধরে মোট ৩০ টি রাজ্যের মধ্যে বিজেপি ও বিজেপির জোট এখন ক্ষমতায় ১৯ টি রাজ্যে৷ শতাংশের হিসাবে ৬৩ শতাংশ ভারত মোদীর করায়ত্বে৷ বাকি মাত্র ১১ টি রাজ্য৷ মোদীর নেতৃত্বে কি গোটা দেশের দখল নেবে বিজেপি? আগামী দিনে গোটা দেশেই কি গেরুয়া ঝড় লক্ষ্য করা যাবে? গুজরাত ও হিমাচল প্রদেশ জয়ের পর এই প্রশ্ন কিন্তু উঠতে শুরু করেছে৷

দিল্লী ধরে দেশের ৩০ টি রাজ্যের মধ্যে এখন ১৯ টি রাজ্যে বিজেপি বা বিজেপি জোট ক্ষমতায়৷ শতাংশের হিসাবে ৬৩ শতাংশ রাজ্য গেরুয়া পতাকার তলায়৷ এর মধ্যে ১৪ টি রাজ্যে সরাসরি ক্ষমতায় বিজেপি৷ বাকি ৫ টি রাজ্যে তাদের ন্যাশান্যাল ডেমক্রেটিক অ্যালায়েন্স বা NDA এর জোট আছে৷ রাজনৈতিক দলের পতাকা অনুযায়ী ভারতের ম্যাপ রঙ করলে পুরো ভারতবর্ষকেই গেরুয়া মনে হয়৷ বাকি পূর্ব আর দক্ষিণ ভারতের কিছুটা অংশ গেরুয়াহীন৷

Advertisement

আরও পড়ুন: বিধানসভায় জিতে পশ্চিমবঙ্গের বামেদের ধাওয়া করছে গুজরাতের বিজেপি

২০১৮ সালেই বিধানসভা নির্বাচন ছত্তিশগড়, কর্ণাটক, মধ্যপ্রদেশ, মেঘালয়, মিজেরাম, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা ও রাজস্থানে৷ এর মধ্যে মেঘালয়, মিজোরাম, কর্ণাটক ও ত্রিপুরাতে বিজেপি বা তার জোটের শাসন নেই৷ নিজেদের জেতা রাজ্য ধরে রাখার পাশাপাশি এই ৪ টি রাজ্যে বিজেপি শাসন কায়েম করার জন্য ইতিমধ্যেই অমিত শাহের নেতৃত্বে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন বিজেপি নেতারা৷

২৪ বছর আগে কংগ্রেস ও তার জোট ১৮ টি রাজ্যে ক্ষমতায় ছিল৷ গুজরাত ধরে রেখে হিমাচল প্রদেশ জেতার পর কংগ্রেসের সেই রেকর্ডও ভেঙে দিল বিজেপি৷ এই মূহুর্তে বিজেপি ও তার জোট ন্যাশান্যাল ডেমক্রেটিক অ্যালায়েন্সের দখলে ১৯ টি রাজ্য৷ ২০১৪ সালের এপ্রিল মাসে মোদীর নেতৃত্বে দেশের ক্ষমতায় আসে বিজেপি৷ তারপর থেকে তেলেঙ্গনা, অরুণাচল প্রদেশ, বাংলা, দিল্লী ছাড়া সব রাজ্য নির্বাচনেই বিজেপি জয়-জয়কার৷ বিহারে প্রথমে হেরে গেলেও নিতীশ কুমারকে ভাঙিয়ে এখন ক্ষমতায় বিজেপি জোট৷

আরও পড়ুন: দেবভূমিতে পরাজিত বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী

২০১৪ র মোদী ঝড়ের আগে ভারতের ৫ টি রাজ্যে ক্ষমতায় ছিল বিজেপি৷ গুজরাত, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড় এবং নাগাল্যান্ডে৷ ২০১৪ সালে অন্ধ্রপ্রদেশ, ওডিশা, সিকিম, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, জম্মু কাশ্মীর, ঝাড়খন্ড ক্ষমতায় আসে বিজেপি৷ এর মধ্যে মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা ও ঝাড়খন্ডে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসাবে উঠে আসে বিজেপি৷ জম্মু কাশ্মীরে ২৫ টি আসন পায় বিজেপি৷
২০১৫ তে অবশ্য বিহার ও দিল্লীতে শোচনীয় ফলাফল হয় গেরুয়া শিবিরের৷ কিন্তু পরে নীতিশ কুমারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিহারে ক্ষমতা দখল করে বিজেপি৷ ২০১৬ তে কংগ্রেসকে সরিয়ে অসমে ক্ষমতা দখল করে বিজেপি৷ ২০১৭ তে গুজরাত ও হিমাচল প্রদেশ জয়ের আগে গোয়া, উত্তরাখন্ড, উত্তরপ্রদেশ, মণিপুর বিধানসভা নির্বাচনেও জয় পায় বিজেপি ও ন্যাশান্যাল ডেমক্রেটিক অ্যালায়েন্স৷

সব মিলিয়ে গোটা দেশের ১৯ টি রাজ্যে এখন বিজেপির শাসন৷ যা আগে কখনও হয় নি৷ এমনকি পারে নি জাতীয় কংগ্রেসও৷ তারাও সবচেয়ে বেশি ১৮ টি রাজ্যে ক্ষমতায় ছিল৷ ২০১৮ তে ৮ টি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন৷ এর মধ্যে ৪ টি রাজ্যে ক্ষমতায় নেই বিজেপি৷ সোমবারই ভোটের ফলাফলের পর বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ জানিয়ে দিয়েছেন, ২০১৮ তে বিজেপির লক্ষ্য মেঘালয়, মিজোরাম, কর্ণাটক ও ত্রিপুরাতে বিজেপি বা জোটের সরকার প্রতিষ্ঠা করাই লক্ষ্য৷

আরও পড়ুন: বিজেপির আবার গুজরাত জয়ের ৭টি কারণ

একনজরে দেখে নেওয়া যাক, কোন ১১ টি রাজ্যে এই মূহুর্ত্বে বিজেপি ক্ষমতায় নেই৷ কংগ্রেসের হাতে রয়েছে ৪ টি রাজ্যের ক্ষমতা৷ পাঞ্জাব, কর্ণাটক, মেঘালয়া, মিজেরাম৷ দেশকে কংগ্রেস মুক্ত সরকার দেওয়ার ঘোষণা করেই দিয়েছে পদ্ম শিবির৷ ফলে এই ৪টি রাজ্যে ক্ষমতা দখলই যে তাদের প্রধান টার্গেট তা পরিস্কার বলেই দিচ্ছেন গেরুয়া নেতারা৷ বাকি কেরল ও ত্রিপুরায় এই মূহুর্ত্বে বাম শাসন৷ তেলেঙ্গানায় তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রীয় সমিথি, তামিলনাড়ুতে এআইএডিএমকে, দিল্লীতে আপ, ওড়িশায় বিজু জনতা দল ও বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেস৷

এর মধ্যে ২০১৮ তে কংগ্রেসের হাতে থাকা কর্ণাটক, মেঘালয়া, মিজেরাম ছিনিয়ে নেওয়াই বিজেপির প্রথম টার্গেট৷ সেটা হলে প্রায় গোটা দেশই ২০১৯ এর লোকসভা ভোটের আগে গেরুয়া শিবিরে পরিণত হবে তা বলাই যায়৷ নিজেদের জেতা রাজ্য ধরে রাখতে পারলে ও কংগ্রেস শাসিত ৩ টি রাজ্য জিততে পারলে ২০১৮ তেই বিজেপি ও ন্যাশান্যাল ডেমক্রেটিক অ্যালিয়েন্সের দখলে চলে আসবে ভারতের ২২ টি রাজ্য৷

তবে, গুজরাতের ভোট কিন্তু বিজেপিকে যথেষ্ট চিন্তায় রাখবে৷ ২০১২ তে বিজেপি গুজরাতে পেয়েছিল ১১৯ টি আসন৷ শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সেটা কমে দাঁড়াল ৯৯ তে৷ অর্থাৎ গুজরাতে পদ্মের আসন কমল ২০ টি৷ গুজরাত মডেলে ভোট করে আসা বিজেপির নেতাদের যেটা যথেষ্ট চিন্তায় রাখছে৷

আরও পড়ুন: বিজেপির মাঠে গিয়ে বিজেপিকেই গোল বীরভদ্রের

অন্যদিকে গুজরাতে এবারে কংগ্রেসের প্রচারের মুখ ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি রাহূল গান্ধী৷ ২০১২ তে কংগ্রেসের আসন ছিল ৫৭ টি, সেটা এবার শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দাঁড়িয়েছে ৮০ টি৷ মোদীর রাজ্যে কংগ্রেসের ২৩ টি আসন বাড়ার পিছনে সব কৃতিত্বই রাহূলকে দিচ্ছে কংগ্রেস৷ তবে ক্ষমতায় থাকা হিমাচল প্রদেশে শোচনীয় পরাজয় সেই কৃতিত্ব অনেকটাই ফিকে করে দিয়েছে৷

যদিও, দেশকে কংগ্রেস মুক্ত করার বিজেপির ডাক গুজরাতে কিছুটা হলেও ধাক্কা খেল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷ তবে, মোদীর নেতৃত্বে গেরুয়া রথ যে তড়তড়িয়ে এগুচ্ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না৷ আগামী দিনেও মোদীর অশ্বমেধের ঘোড়া ভারতের অন্য রাজ্যগুলিতেও দৌড়ায় কিনা তার দিকেই নজর থাকবে ভারতবাসীর৷ তবে, গোটা ভারতবর্ষকেই গেরুয়া রঙে রাঙাবার বিজেপির স্বপ্ন যে আপাতত: সত্যি হয়েই চলেছে তা আর অস্বীকার করার কোন উপায়ই নেই৷

আরও পড়ুন: এক নীলছবিতেই ফিকে হল হার্দিক

----
--