অমিতের সভায় তৃনমূলের পতাকা ব্যানার ছিঁড়ে ‘বদলা’ বিজেপির

ছবি- মিতুল দাস

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়; কলকাতা : বদলার রাজনীতি সেই চলছেই। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির ময়দান তারই প্রমাণ রাখছে। একবার নয়। বারবার। বদলার রাজনীতির রণাঙ্গনে এবার রাজ্য বিজেপি। পদ্মের সভাস্থলে তৃণমূলের লাইন দিয়ে পড়ে থাকা পতাকা যেন তারই প্রমান।

বিজেপির সভাস্থলে একের পর এক পতাকা ঝুলিয়ে বিতর্কের আগুনে ঘি ঢেলেছিল তৃনমূল। এর শুরু হয়েছিল পুরুলিয়ায় অমিত শাহের সভায়। মাঝে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভার পথেও একই চিত্রের দেখা মেলে। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের কলকাতা আগমনের দিনক্ষণ ঠিক হওয়া মাত্র মেয়ো রোডেও ফের ঝুলিয়ে দেওয়া হয় তৃণমূলের পতাকা। দু দিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ তৃণমূলের পতাকা ; মাঝে বিজেপির একটি পতাকা। এমনই ছিল ময়ো রোডের চিত্র।

- Advertisement -

এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় প্রথমে কিছু না বলতে চাইলেও পরে সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন; “আমাদের রাজ্যে আমাদের দলের পতাকা কোথায় কোথায় রাখব সেটা ওদের বলতে হবে না কি।” মহাসচিবের এমন উত্তরের পাল্টা ছিল যেন শনিবারে বিজেপির সভাস্থলে রাখা তৃণমূলের পতাকা ধরে ধরে টেনে ছিঁড়ে ফেলে দেওয়া।

বেশকিছু বিজেপি সমর্থককে সেই পতাকা ইচ্ছাকৃতভাবে মাড়িয়ে যেতেও দেখা গেল। বেলদা থেকে আসা এক বিজেপি সমর্থক বললেন ; “ও একটা জঘন্য দল। ওদের এরকমই হওয়া উচিৎ।” সভা মঞ্চ থেকে যুব মোর্চা সভাপতি দেবজিত সরকার বললেন তাদের দল পতাকা ছিঁড়ে দেয় না। অভব্য আচরণ করে না। কিন্তু তাঁর মঞ্চের পিছনদিকেই মিলল তৃণমূলের ছেঁড়া পতাকা।

আরও খারাপ দৃশ্যের দেখা মিলল সভা শেষ হওয়ার পরে। সভার আগে মেয়ো রোডে যেকটা ব্যানার ঝুলিয়েছিল তৃণমূল সবগুলোই ছিঁড়ে ফেলে দিয়ে গিয়েছেন বিজেপি কর্মী সমর্থকরা।

এই প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপির নেতা রিতেশ তেওয়ারি বলেন; “এরকম অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সেই জন্য আমরা সভাস্থলের অনেক জায়গায় কালো কাপড় দিয়েছিলাম। কিন্তু এরপরেও যদি এরকম কোনও ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে সেটা আমাদের খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।” পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে অবশ্য অনেকবার ফোন করেও যোগাযোগ করা যায়নি। বিজেপির রাজ্য নেতারা চেষ্টা করতে পারেন। কিন্তু কর্মীদের মধ্যে কোথাও প্রতিশোধ মনবৃত্তি থাকছে তা বলা যেতে পারে।

Advertisement ---
---
-----