তৃণমূল ভেঙে দেওয়াই বিজেপির লক্ষ্য, মুখ্যমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন শুভেন্দু

bjp target to break tmc to form govt in wb and suvendu adhikari wanted to be cm

বিশ্বজিৎ ঘোষ, কলকাতা: ২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী করা হলে তিনি বিজেপিতে যোগদান করবেন৷ নারদ নিউজের ‘এক্স ফাইলস’ প্রকাশ্যে আসার পরে বিজেপিকে এমনই প্রস্তাব দিয়েছিলেন বর্তমানে রাজ্যের মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী৷
যদিও, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের জন্য তৃণমূল কংগ্রেসকে ভেঙে দেওয়াই বিজেপির অন্যতম লক্ষ্য৷ তবে, শুভেন্দু অধিকারীর ওই প্রস্তাব গ্রহণ করে শেষ পর্যন্ত গত বিধানসভা নির্বাচনে লড়াইয়ের ঝুঁকি নিতে রাজি হয়নি বিজেপি৷

এ দিকে, নারদকাণ্ডে অভিযুক্তদের বিজেপি আবার সরাসরি দলেও নিতে রাজি নয়৷ বরং, নারদকাণ্ডে অভিযুক্তরা পৃথক দল গঠন করলে, সেই দলকে বিজেপি সমর্থন দেবে৷ আর, এই ধরনের পরিস্থিতিতে, নিজেদের রাজনৈতিক জীবনের অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে নারদকাণ্ডে অভিযুক্তরা পৃথক দল গঠনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন৷

আরও পড়ুন: মুকুলের ‘কারসাজিতেই’ আর্থিক কেলেঙ্কারিতে নাম জড়াল অভিষেকের?

- Advertisement -

এবং, ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সম্ভাবনা ফের উসকে দিয়েছে নারদকাণ্ডে সিবিআইয়ের তৎপরতা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি৷ তবে, নারদকাণ্ডে অভিযুক্তদের পরিকল্পিত পৃথক ওই রাজনৈতিক দলে শুভেন্দু অধিকারী এখন যোগ দিতে চাইছেন না৷ খোদ তৃণমূল কংগ্রেসেরই বিভিন্ন অংশে এই গোটা বিষয়টির উপর চর্চা জারি রয়েছে৷ কিন্তু, তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী করা হলে তিনি বিজেপিতে যোগদান করবেন, ২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনে আদৌ কি গেরুয়া শিবিরকে এই ধরনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী?

আরও পড়ুন: মুকুল-মদনের উপেক্ষায় শহিদ মঞ্চে ‘ভাইপো’র অভিষেক

এই বিষয়ে জানার জন্য মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়৷ তাঁকে একাধিকবার ফোন কল করা হয়৷ তবে, তিনি ফোন কল না ধরায় তাঁর বক্তব্য মেলেনি৷ যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষের সঙ্গে৷ তাঁকেও একাধিকবার ফোন কল করা হয়৷ কিন্তু, তিনিও ফোন কল না ধরায় তাঁরও বক্তব্য মেলেনি৷ তবে, রাজ্য বিজেপির এক সাধারণ সম্পাদক দেবশ্রী চৌধুরীর কাছে শুভেন্দু অধিকারীর ওই প্রস্তাবের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘‘আমার জানা নেই৷’’

আরও পড়ুন: বিজেপি-তৃণমূল ভেঙে পুজোর আগেই পৃথক দলের নেতৃত্বে মুকুল

এক সূত্রের কথায়, ‘‘তৃণমূল কংগ্রেসকে ভেঙে দেওয়াই বিজেপির লক্ষ্য৷ না হলে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করতে পারবে না বিজেপি৷ অন্য কয়েকটি রাজ্যেও বিজেপি কার্যত এ ভাবেই সরকার গঠন করেছে৷’’ একই সঙ্গে ওই সূত্র বলেন, ‘‘বিজেপিই এখন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান প্রতিপক্ষ৷ তবে, বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের কর্মকাণ্ড এখনও পর্যন্ত তেমন নয় যে এ রাজ্যে সেভাবে সংগঠন বৃদ্ধি করতে পারবে৷ মুকুল রায়ের মতো কোনও নেতা বিজেপিতে থাকলে পরিস্থিতি অন্য রকমের হয়ে যেত৷ কিন্তু, সারদাকাণ্ডের তুলনায় বেশি প্রভাব ফেলেছে নারদকাণ্ড৷ এই অবস্থায় নারদকাণ্ডে অভিযুক্তদের সরাসরি দলে নেবে না বিজেপি৷ বরং, নারদকাণ্ডে অভিযুক্তরা পৃথক দল গড়লে, বিজেপি ওই দলকে সমর্থন করবে৷’’

আরও পড়ুন: মমতার পথে ‘হিন্দু’ হলেন তৃণমূলের মুকুল

কীভাবে তৃণমূল কংগ্রেসকে ভেঙে দিতে চাইছে বিজেপি? এক সূত্রের কথায়, ‘‘তৃণমূল কংগ্রেসের প্রথম দিন থেকে যাঁরা রয়েছেন, দলের এমন ৭০ শতাংশ নেতা-কর্মী এখন ক্ষুব্ধ৷ দলের জন্য প্রাণের মায়া ত্যাগ করে বিভিন্ন আন্দোলনে তাঁরা অংশগ্রহণ করেছেন৷ এই সব নেতা-কর্মীকে এখন আর কোনও দায়িত্বে রাখা হয়নি৷ তাঁদের কাজ করতে না দিয়ে বসিয়ে রাখা হয়েছে৷ এই সব নেতা-কর্মী তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘ লড়াইয়ের সঙ্গী৷ অথচ, নব্য তৃণমূল কংগ্রেসের এমন অনেকেই আছেন, যাঁরা সেভাবে লড়াইতে ছিলেন না৷ কিন্তু, তাঁরাই এখন দলে গুরুত্ব পাচ্ছেন৷’’ একই সঙ্গে ওই সূত্র বলেন, ‘‘নব্য তৃণমূল কংগ্রেসের অনেকে বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন৷ এ সব বিষয় মেনে নিতে পারছেন না আদি তৃণমূল কংগ্রেসের ওই ৭০ শতাংশ নেতা-কর্মী৷’’

রও পড়ুন: ‘কমিশনগেট’ আর্থিক কেলেঙ্কারিতে নাম জড়াল মমতার ভাইপো অভিষেকের

শুধুমাত্র তাই নয়৷ পরিবারের একজন হিসাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে তৃণমূল কংগ্রেসের রাশ তুলে দেওয়ার জন্য প্রচেষ্টা চলছে বলে যে সব কর্মকাণ্ড প্রকাশ্যে আসছে, সে সবও দলের বিভিন্ন অংশ মেনে নিতে পারছে না বলে জানা গিয়েছে৷ এবং, দলের ওই সব অংশ আদি তৃণমূল কংগ্রেসেরই বলে জানা গিয়েছে৷ এক সূত্রের কথায়, ‘‘আদি তৃণমূল কংগ্রেসের এই ৭০ শতাংশ নেতা-কর্মীই বিজেপির টার্গেট৷ এই সব নেতা-কর্মীর অনেকের কাছেই রাজ্য বিজেপির তরফে প্রস্তাব পৌঁছে গিয়েছে৷ তবে, তাঁদের অধিকাংশ এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি৷ কিন্তু, শেষ পর্যন্ত যদি তাঁরা তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে চলে নাও যান, তা হলেও, আগামী দিনে তাঁরা দলের প্রার্থীকে ভোট নাও দিতে পারেন৷’’

আরও পড়ুন: বিজেপি-তৃণমূল ভেঙে পুজোর আগেই পৃথক দলের নেতৃত্বে মুকুল

একই সঙ্গে ওই সূত্র বলেন, ‘‘বিজেপিতে যোগদানের জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের যে সব নেতার কাছে প্রস্তাব পৌঁছে গিয়েছে, তাঁদের কেউ কেউ দলের উঁচু স্তরেও রয়েছেন৷ তাঁরা টু শব্দ করছেন না৷ পরিস্থিতি অনুযায়ী তাঁরা দল বদলে ফেলতে পারেন৷’’ শুধুমাত্র তাই নয়৷ ওই সূত্র বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে এখনও পর্যন্ত বিজেপির সংগঠনের যে হাল এবং এখনও পর্যন্ত রাজ্য নেতৃত্বের যে ধরনের কর্মকাণ্ড চলছে, তাতে পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করে বিজেপির পক্ষে সরকার গঠন করা সম্ভব নয়৷ যে কারণে, তৃণমূল কংগ্রেসকে ভেঙে দেওয়াই বিজেপির লক্ষ্য৷ আগামী দিনে এমনও হতে পারে, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে যাঁরা জয়লাভ করলেন, বিজেপি কিছু আসন দখল করতে পারলে তাঁদের অনেকেই বিজেপিতে যোগ দেবেন৷’’

আরও পড়ুন: মুকুলের হাতেই ভাঙতে পারে তৃণমূলের যুবশক্তি ?

এক সূত্রের কথায়, ‘‘রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের জন্য অনেক কিছুই হতে পারে৷ তৃণমূল কংগ্রেসকে ভেঙে দেওয়ার জন্য কিছু নেতাকে টার্গেট করেছে বিজেপি৷ মুকুল রায় অত্যন্ত দক্ষ সংগঠক৷ শুভেন্দু অধিকারীও একজন দক্ষ সংগঠক৷’’ একই সঙ্গে ওই সূত্র বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার জন্য শুভেন্দু অধিকারীর প্রস্তাব মতো গত বিধানসভা নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত অবশ্য ঝুঁকি নিতে রাজি হয়নি বিজেপি৷ এ দিকে, রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য নারদকাণ্ডে অভিযুক্তরা যে দল গড়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন, শুভেন্দু অধিকারী সম্প্রতি সেই দলে যোগদানের বিষয়ে বেঁকে বসেছেন৷ পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসই জয়ী হবে৷’’

আরও পড়ুন: আপাতত নতুন দলের জল্পনা ওড়ালেন মুকুল রায়

Advertisement
---