“এনআরসি নিয়ে বিজেপি হিন্দু আর তৃণমূল বাঙালি তাস খেলছে”

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: নাগরিকপঞ্জির নামে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিচ্ছে বিজেপি। রাজ্যের বিভিন্ন সমস্যা থেকে নজর ঘোরাতে তৃণমূলও নাগরিকপঞ্জিকে হাতিয়ার করছে৷ এনআরসি ইস্যু নিয়ে রবিবার এই ভাষাতেই বিজেপি ও তৃণমূলকে একযোগে আক্রমণ করলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী৷ তিনি জানিয়েছেন, এই দুই দলের বিরুদ্ধেই আন্দোলনে নামছে প্রদেশ কংগ্রেস৷ চার অক্টোবর রানি রাসমনি রোডে সভা করবে তারা৷

লোকসভা নির্বাচনের আগে অ-বিজেপি রাজনৈতিক দলগুলির কাছে নাগরিক পঞ্জিকরণ একটা বড় ইস্যু৷ বিশেষ করে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী দুই রাজ্য অসম এবং বাংলায়৷ তাই লোকসভা নির্বাচনের আগে এই ইস্যু নিয়ে কংগ্রেস, তৃণমূল, সিপিএম, প্রত্যেক রাজনৈতিক দলই নিজেদের মতো করে রণকৌশল ঠিক করছে৷ এই ইস্যু নিয়ে আগামী দিনে তাদের আন্দোলনের অভিমুখ কী হবে তা ঠিক করতে রবিবার সমস্ত জেলা সভাপতিদের বৈঠকে ডেকেছিলেন অধীর চৌধুরী৷ বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, এনআরসি নিয়ে বিজেপি ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে বড়সড় আন্দোলন করবে তারা৷

- Advertisement -

জেলায় জেলায় সেই আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়া হবে৷ সোমবারই এই ইস্যুতে বিধানভবন থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিল করবে প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃ্ত্ব৷ তারপর রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর সঙ্গে দেখা করবেন তারা৷এদিনের কর্মসূচীতে অসমের কয়েকজন কংগ্রেস বিধায়কদেরও যোগ দেওয়ার কথা৷

জেলা সভাপতিদের সঙ্গে আলোচনার পর এদিন সাংবাদিক বৈঠক করেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি৷ সেখানে বিজেপির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “বিজেপিকে বলতে চাই, আপনাদের হাতে ১৯টি রাজ্য। যদি ক্ষমতা থাকে সেই ১৯টি রাজ্যে এনআরসি চালু করে দেখিয়ে দিক। বাংলার মানুষকে বিভ্রান্ত করবেন না। কারণ, এনআরসি সম্পূর্ণভাবে অসমকেন্দ্রিক। অসমের বাইরে কোনও এনআরসি নেই।”

এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ করেছেন প্রদেশ সভাপতি। তাঁর অভিযোগ, এনআরসি থেকে বাদ যাওয়া ৪০ লক্ষ মানুষের পাশে থাকার বার্তা দেওয়ার পরেই অসমের সঙ্গে রাজ্যের সীমান্ত সিল করেছে তৃণমূল সরকার। অধীর চৌধুরীর অভিযোগ, ভোটকে সামনে রেখেই বিজেপি হিন্দু আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাঙালি তাস খেলছেন।

তৃণমূল নেত্রীকে একহাত নিয়ে অধীরবাবু বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে আপনি বলছেন, আমি কোনওদিন কংগ্রেস করেছি এটা ভাবতে লজ্জা হয়। আর সেই আপনিই সোনিয়া-রাহুল গান্ধির সঙ্গে দেখা করছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি আসন পেলেও তিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন না। প্রধানমন্ত্রী হতে গেলে ২৭২টি আসন দরকার। যাঁদের সঙ্গে তিনি জোট বাঁধতে চাইছেন, তাঁরা কেউ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিশ্বাস করেন না।কংগ্রেস দাঁড়িয়ে এসব দেখবে না। প্রতিবাদ করবে। সত্যকে মানুষের কাছ তুলে ধরবে।” তিনি জানিয়েছেন, এনআরসি ইস্যু সহ লুট, সন্ত্রাস, স্বৈরাচার সবকিছুকে সামনে রেখে চার অক্টোবর রানি রাসমণিতে জনসভা করবে কংগ্রেস।

Advertisement ---
-----