শহরে বাজপেয়ীর মূর্তি স্থাপন করতে চায় বিজেপি

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: শহরে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর মূর্তি স্থাপন করতে চায় বিজেপি৷ এই কাজে রাজ্য সরকার সহ সমস্ত রাজনৈতিক দলের সহযোগিতায় চাইছে পার্টি৷ বুধবার কলকাতার মহাজাতি সদনে বাজপেয়ীর স্মরণসভায় বিজেপির অন্যতম জাতীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা এই প্রসঙ্গে জানান, আজ অটলজিকে স্মরণসভায় অনেক রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদেরই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না৷ অটলজির মর্ম ওরা বুঝলেন না৷ তবে একসঙ্গে শ্রদ্ধা না জানালেও, একসঙ্গে মূর্তি তৈরিতে উদ্যোগ নেওয়া যেতেই পারে৷

রাহুলের প্রস্তাব রাজ্যে বিজেপির রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা কীভাবে নেবেন, সে উত্তর পেতে হলে কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে৷ তবে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রীর স্মরণসভায় সিপিএম থেকে উপস্থিত কেউ ছিলেন না৷ যদিও, বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র সহ একাধিক বাম নেতা আমন্ত্রিত ছিলেন৷ রাজ্যে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের প্রতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন অবশ্য মহাজাতি সদনে উপস্থিত হয়ে বাজপেয়ীর ছবিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান৷ তৃণমূল সরকারের এই প্রতিনিধি অবশ্য প্রেক্ষাগৃহে বেশি সময় ব্যয় করেননি৷ কিছু পরেই তিনি চলে যান৷ রাজ্যের দুই কংগ্রেস নেতা সৌম্য আইচ রায় এবং দেবাশিস পাইন মহাজাতি সদনে গিয়েছিলেন বলে খবর পাওয়া দিয়েছে৷

পড়ুন: বিজেপি কর্মীর রহস্যমৃত্যুতে ফের ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিল হাইকোর্ট

- Advertisement -

একজন মার্কসবাদি নেতা হিসেবে জ্যোতি বসুর অটলবিহারী বাজপেয়ী সম্পর্কে কী ধারণা ছিল, তা বলতে দিয়ে রাহুল বলেন, ‘‘দুই নেতার পারস্পরিক শ্রদ্ধার কথা মনে হলে একজন বিজেপি কর্মী হিসেবে গর্ব বোধ হয়৷ আজ মহাজাতি সদনে তাঁদের (সিপিএমের) কেউ থাকলে মান চলে যেত না৷’’

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ওই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলেন৷ মমতার বাড়িতে বাজপেয়ীর যাওয়ার সেই পুরানো প্রসঙ্গ টেনে বাহুল বলেন, ‘‘কারও বাড়িতে বেড়ার ঘরে ঢুকে, তাঁর মা কে প্রনাম করেছিলেন বাজপেয়ীজি৷ তার এক বছর পর কী বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন তিনি মনে আছে৷ বাজপেয়ীজি বলেছিলেন, রাহুল ‘দিল ছোটা মত কারো৷’ তবুও ভালো, কিছুটা বুদ্ধির উদয় হয়েছে৷ একজন মন্ত্রী এসে শ্রদ্ধা জানিয়ে গিয়েছেন৷’’

অন্য এক সিনিয়ার বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য এদিন রাজনৈতিক অস্পৃশ্যতার (Political Untouchability) কথা আলোচনা করেছেন৷ শমীকের বক্তব্য, ‘‘কিছুদিন আগেই এখানে (মহাজাতি সদনে) প্রয়াত প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সীর স্মরণসভা আয়োজন করা হয়েছিল৷ বিজেপি’র পক্ষ থেকে আমি উপস্থিত ছিলাম৷ আশা করেছিলাম, আজ অনেকেই (অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে) আসবেন৷ যা দেখলাম, তাতে মনে হচ্ছে, Political Untouchability -এর যুগ চলছে৷’’

সদ্য বিজেপির জাতীয় কার্যনির্বাদি কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন মুকুল রায়৷ মুকুলবাবুর সাফ কথা, অটলবিহারী বাজপেয়ী বা লালকৃষ্ণ আডবানীর মতো ব্যক্তিত্বরা না থাকলে, তৃণমূল কংগ্রেস দলটার জন্মই হত না৷ মেঘালয়ের রাজ্যপাল তথাগত রায় বলেন, অটলজির মৃত্যুর পর অনেকেই হা হুতাশ করে বলতে শুরু করেছে, কি ভালো মানুষ ছিলেন অটল বিহারী বাজপেয়ী৷ আমাদের একটি বদ অভ্যাস আছে, কেউ মারা গেলেই আমরা এরকম করে থাকি৷ কিন্তু আপনাদের জানিয়ে রাখি, কলকাতার এক নাম করা কবি সেই সময় অটলজি নাকি সাম্প্রদায়িক, এই যুক্তিতে তার হাত থেকে পুরস্কার নিতে চাননি৷ বাংলার এক নেতা বলেছিলেন, ‘Right man in a wrong party.’ এই কথা শুনে অটলজি বলেছিলেন, ফল ভালো হলে গাছটা কি খারাপ হয়? পশ্চিমবঙ্গে রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠি বলেন, ‘অটলজি রাজনৈতিক শুদ্ধতা বজায় রাখতেন৷ মাত্র একটি ভোটের জন্য তার সরকার পড়ে গিয়েছিল৷ উনি বলেছিলেন আমি পদত্যাগ পত্র দিতে যাচ্ছি৷ একথা ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্র মনে রাখবে৷’

Advertisement ---
-----