সৌমিক কর্মকার, কলকাতা: সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন৷ তার বছর খানেক পরই আবার লোকসভা ভোট৷ সেই লড়াই শেষ হওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শুরু হবে আসল লড়াই৷ ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটই বঙ্গ-বিজেপির অ্যাসিড টেস্ট৷

কারণ, ভারত জয়ে মোদী-অমিতের বিজয়রথ যতক্ষণ পশ্চিমবঙ্গে না আসছে, ততক্ষণে স্বস্তিতে নেই কেন্দ্রীয় নেতারাও৷ ত্রিপুরা-সহ উত্তর পূর্ব ভারতের তিন রাজ্য জয়ের দিনই সেকথা স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ৷

Advertisement

আরও পড়ুন: দিলীপকে সরিয়ে বঙ্গ-ব্রিগেডের দায়িত্বে আসছেন মোদীর নয়া সেনাপতি

জানিয়ে দিয়েছেন, বঙ্গে জয় পেলেই তবেই আসবে বিজেপির স্বর্ণযুগ৷ আর তাই এখন থেকেই তার প্রস্তুতি শুরু করে দিল মোদী-অমিতের দল৷ নয়াদিল্লিতে বিজেপির একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, সোমবারই এ নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা৷ সেখানেই রাজ্য বিজেপিতে বড়সড় রদবদলের সিদ্ধান্তে সিলমোহর বসিয়ে দেওয়া হয়৷ ঠিক করে ফেলা হয় কে হচ্ছেন, বিজেপির পরবর্তী রাজ্য সভাপতি৷

ওই সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, কিন্তু এখনই সেই নামটি প্রকাশ্যে আনতে চায় না দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব৷ তাঁরা এখন সঠিক সময়ের অপেক্ষায়৷ ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, কেন এই রাখঢাক৷ বদল যদি করতেই হয়, তা হলে এত লুকোচুরি কেন?

আরও পড়ুন: বিজেপির বঙ্গ নেতৃত্বকে দিল্লিতে জরুরি তলব ঘিরে জল্পনা

বিজেপির ওই সূত্রের বক্তব্য, বাংলা বরাবরই বিজেপির কাছে গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য৷ ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে যখন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য লড়ছেন নরেন্দ্র মোদী, তখন তিনি একাধিক সভা করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গে৷ তার পর থেকে সময় যত গড়িয়েছে, ততই দেখা গিয়েছে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে লড়াই বেড়েছে প্রধানমন্ত্রীর৷ প্রায় প্রতিটি ইস্যুতেই সবচেয়ে আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সমালোচনা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এখন প্রতিটি সভা থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তোপ দাগছেন কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপির বিরুদ্ধে৷

আরও পড়ুন: মমতার বিরুদ্ধে মোদীর নতুন সেনাপতির নাম জানতে তোলপাড় বঙ্গ-বিজেপি

তাই কোমর কষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নামতে চাইছে বিজেপি৷ সেই কারণেই এত সময় নেওয়া হচ্ছে৷ নয়াদিল্লির বিজেপির একটি সূত্র থেকে জানানো যাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য সভাপতির নাম ঘোষণার বিষয়টি বড় করে সমানে আনতে চায় বিজেপি৷ সেক্ষেত্রে সাংবাদিক বৈঠক করে ঘোষণা করার সম্ভাবনা রয়েছে৷ এমনকী, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ-রও সেই সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত থাকলে, তাতে বিস্ময়ের কিছু থাকবে না৷

বিজেপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, দলের রাজ্য সভাপতিই তাঁর টিম সাজিয়ে নিতে পারবেন৷ কিন্তু তার আগে রাজ্যস্তরের কয়েকজন নেতার ভূমিকায় অদলবদল করে দিতে চায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব৷ নয়াদিল্লির বিজেপির ওই সূত্রের বক্তব্য, এই মুহূর্তে বঙ্গ-বিজেপির এক শীর্ষ নেতাকে ‘প্রোমোশন’ দিয়ে কেন্দ্রীয় আনা হতে পারে৷

আরও পড়ুন: বিজেপিতে ক্রমশ ‘ব্রাত্য’ হচ্ছেন মুকুল রায়

আবার অন্য এক শীর্ষ নেতার কিছুটা ডানা ছাঁটা হতে পারে৷ সেটাকে আপাতত দল তাঁকে কড়া বার্তা দিচ্ছে বলেই দেখাতে চাইছে৷ কিন্তু এখনই তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ নিতে চান না কেন্দ্রীয় নেতারা৷ কারণ, তিনি বঙ্গ বিজেপির অন্যতম জনপ্রিয় নেতা৷ ফলে কড়া পদক্ষেপ নিলে নতুন সভাপতির কাজ করতে সমস্যায় পড়তে হবে৷

যদিও বাংলার বিজেপি নেতারা অবশ্য এমন কোনও জল্পনার কথা স্বীকার করছেন না৷ বরং তাঁরা গোটা বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছেন৷ বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের একটি সূত্র বলছে, এখনই দিলীপ ঘোষকে সরানোর কোনও সম্ভাবনা নেই৷ পঞ্চায়েত ভোটের আগে দলের সভাপতি বদল করলে কর্মীদের মনোবলে ধাক্কা খাবে৷ তাই এখনই সেই সম্ভাবনা নেই৷

আরও পড়ুন: ক্ষমতায় এলে দেখে নেব, মূর্তি বিতর্কে হুমকি বিজেপি নেতার

বিজেপির এক কেন্দ্রীয় নেতার গলাতেও সেই সুর শোনা গিয়েছে৷ বিজেপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) শিবপ্রকাশের কথায়, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের সভাপতি বদল হবে বলে শুনিনি৷ কিছু তেমন জানি না৷ দিলীপ ঘোষজি ভালো কাজ করছেন৷’’ তবে একই সঙ্গে তাঁর কৌশলী মন্তব্য, ‘‘উনি (দিলীপ ঘোষ) যদি বদল হন, দলের সভাপতি (অমিত শাহ) আপনাদের জানাবেন৷’’

ফলে শেষপর্যন্ত কী হবে, তা একমাত্র জানেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারাই৷ তাই এখন তাঁদের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই বঙ্গ-বিজেপির মেজো-সেজো-ছোট নেতা থেকে শুরু করে দলের কর্মী-সমর্থকদের৷

আরও পড়ুন: হুমকির সুরে দিলীপের বার্তা, পদ্ম থাকলে লেনিন থাকবে

----
--