দেবময় ঘোষ, কলকাতা: ত্রিপুরায় ক্ষমতায় এসে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব নিজের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সপ্তম বেতন কমিশনের সুপারিশ লাগু করার প্রথম পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই নিয়েছেন৷ বিষয়টি দেখভাল করার জন্য তৈরি হয়েছে একটি বিশেষ কমিটি৷ ২০১১-তে পশ্চিমবঙ্গে ‘পরিবর্তন’ আসার পরও এখনও পর্যন্ত সরকারি কর্মীরা ষষ্ঠ বেতন কমিশনেই পড়ে রয়েছেন৷ বরং, ষষ্ঠ বেতন কমিশনের মেয়াদ আরও এক বছর, অর্থাৎ ২০১৮ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে৷

সরকারি কর্মীদের এই ক্ষোভকেই পঞ্চায়েত ভোটের আগে ‘পাখির চোখ’ করতে চাইছে বিজেপি৷ তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব যে রাজ্যকে ‘হাওড়ার থেকেও ছোট’ বলে তাচ্ছিল্য করেছিলেন, সেখানকার সরকারি কর্মীরা সপ্তম বেতন কমিশনের সুবিধা লাভ করবে, আর বাংলায় রাজ্য সরকারি কর্মীরা বঞ্চিত হবেন, ভোটের আগে এই তথ্য আরও বেশি করে প্রচার করতে চাইছে বিজেপি৷

- Advertisement -

বিজেপির রাজ্য সরকারি কর্মীদের সংগঠন, ‘রাজ্য সরকারি কর্মচারি পরিষদ’ ১৭ মার্চ মুরলীধর সেন লেনে যে জমায়েতের আহ্বান করেছে, তার মূল বার্তা হল, বিজেপি শাসিত প্রায় সব রাজ্যেই সপ্তম বেতন কমিশনের সুপারিশ লাগু৷ ত্রিপুরাও উন্নয়নের জোয়ারে গা ভাসাল৷ কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ পড়ে রইল সেই ষষ্ঠ বেতন কমিশনেই৷ ২২ মার্চই তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত রাজ্য সরকারি কর্মী সংগঠনের সভা রয়েছে৷ সেই সভায় কর্মীদের বেতন কাঠামো একটি বড় অ্যাজেন্ডা হতে পরে বলে জানা গিয়েছে৷

তবে পাঁচদিন আগেই সভা করে সরকারি কর্মচারি পরিষদ তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠনকে টেক্কা দিতে চাইছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহল৷ পরিষদের আহ্বায়ক দেবাশীষ শীল বলেন, ‘‘আমরা তো ষষ্ঠ বেতন কমিশনের চেয়ারম্যান অভিরূপ সরকারের সঙ্গে দেখাও করে এসেছি৷ এই বিষয়টা নিয়ে আমরা যতটা লড়াই করার করব৷’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘পঞ্চায়েত ভোটের আগেই এই বিষয়টি বিজেপির অন্যতম হাতিয়ার হবে৷ ব্লকে ব্লকে সরকারি কর্মীরা উচিত বেতন পাচ্ছেন না৷ তাঁরা কাজ করছেন এবং বঞ্চনার স্বীকারও হচ্ছেন৷ এ ভাবে চলতে পারে না৷’’

রাজনীতির বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, ত্রিপুরায় সপ্তম বেতন কমিশনের প্রতিশ্রুতি ইভিএমে কাজে এসেছে৷ সরকারি কর্মীরা পরিবর্তনের পক্ষেই রায় দিয়েছেন৷ উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ত্রিপুরায় প্রচারে গিয়ে বলেছিলেন, তাঁর রাজ্যের মানুষও সপ্তম বেতন কমিশনের সুবিধা পেতেন না৷ কিন্তু তিনি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর সপ্তম বেতন কমিশন পেয়েছেন তাঁরা৷ বিপ্লব দেব মুখ্যমন্ত্রী হলে ত্রিপুরার মানুষ সেই সুযোগ পাবেন৷ ঘটনাচক্রে ত্রিপুরায় তাই ঘটতে চলেছে৷ বড় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের আগেই৷

----