বিজেপির মিছিলে গুলি, কর্মীর মৃত্যুর প্রতিবাদে ১২ ঘণ্টা বন্‌ধ

কৌশিক চট্টপাধ্যায়, রায়গঞ্জ: বিজেপি কর্মীর মৃত্যুর প্রতিবাদে রবিবার জেলা জুড়ে বন্‌ধ ডাকল ভারতীয় জনতা পার্টির উত্তর দিনাজপুর জেলা নেতৃত্ব৷ বন্‌ধের সমর্থনে আজ সন্ধ্যা থেকে বিক্ষোভ-অবরোধ কর্মসূচিতে সামিল হয়েছেন বিজেপির নেতা কর্মীরা৷ বিজেপির রায়গঞ্জ পার্টি অফিসে সামনে চলছে অবস্থান বিক্ষোভ৷

আজ শনিবার উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়া ব্লকের মাঝিয়ালি গ্রাম পঞ্চায়েতের দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে৷ ভারতীয় জনতা পার্টির মিছিলে হামলায় মৃত্যু হল এক কর্মীর। একইসঙ্গে জখম হয়েছেন আরও চার বিজেপি কর্মী। অভিযোগের তীর তৃণমূলের দিকে। এই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে চোপড়া এলাকায়। মৃত ব্যক্তির নাম হরেন সিংহ। এই ঘটনার প্রতিবাদে উত্তর দিনাজপুর জেলা পার্টি অফিসের সামনে রাস্তা অবরোধ করে  বিজেপি। এদিন নজিরবীন ভাবে বিজেপির মিছিলে গুলি ও কর্মী মৃত্যুর প্রতিবাদ জানান প্রদেশ কংগ্রেস নেতা ওমপ্রকাশ মিশ্র৷ মন্তব্য করেন, ‘‘উত্তর দিনাজপুরে বিজেপির মিছিলে হামলার ঘটনায় আমি তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি৷ গুলি-বোমা মেরে এভাবে বিজেপি আটকানো যাবে না৷ আমি চাইছি, এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করুক পুলিশ৷’’

শনিবার ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়া ব্লকের মাঝিয়ালি গ্রাম পঞ্চায়েতের চাপরাগছ এলাকায়। বিজেপির অভিযোগ,ওই এলাকায় দলের বিস্তারক কর্মসূচীর অনুষ্ঠান চলছিল। সেই কর্মসূচী ভণ্ডুল করতে সেখানে আক্রমণ করে তৃণমূল। বিজেপি কর্মীদের উপরে বোমা ছোঁড়ে রাজ্যের শাসকদলের গুণ্ডা বাহিনীর লোকেরা। শুধু তাই নয়, বিজেপি কর্মীদের উপর গুলি চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে।

মৃত হরেন সিং

অন্যদিকে সমগ্র ঘটনার জন্য গেরুয়া শিবিরকেই কাঠগড়ায় তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। স্থানীয় বিধায়ক তথা তৃণমূল নেতা হামিদুল রহমান বলেছেন, “আমাদের মানে তৃণমূলের সভা বানচাল করতেই বোমা-বন্দুক নিয়ে হাজির হয়েছিল বিজেপি। নিজেদের গুলিতেই প্রাণ হারিয়েছে এক বিজেপি কর্মী।” নিজেদের অস্ত্রেই বিজেপি কর্মীরা জখম হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। বিজেপি কর্মীরা বেশ কয়েকটি মোটর বাইক পুড়িয়ে দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন বিধায়ক হামিদুল রহমান।

গত এক মাস ধরে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার আন্দোলনের কারণে উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা। শিলিগুড়ি লাগোয়া উত্তর দিনাজপুরের চোপরায় এই ধরণের ঘটনায় কড়া অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। জেলাশাসক আয়েশা রানী বলেছেন, “একটা হিংসার ঘটনা ঘটেছিল। তবে তা রাজনৈতিক কিনা সেটা এখনও পরিষ্কার নয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক।”

Advertisement
----
-----