বর্ধমানে বিজেপির পালটা প্রতিরোধে পালাল তৃণমূল

বর্ধমান: মারের পালটা মার দেওয়ার কথা বলেছিলেন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। যদিও রাজ্যের অধিকাংশ জায়গায় পালটা মার দিতে পারেনি বিজেপি নেতৃত্ব। এরই মাঝে ব্যতিক্রম হচ্ছে বাঁকুড়ার ওন্দা এবং পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বর।

মঙ্গলবার বাঁকুড়ায় বিজেপি কর্মীদের প্রতিরোধে পিছু হটেছিল তৃণমূল কর্মীরা। পরের দিন অর্থাৎ বুধবার দেখা গেল সেই একই চিত্র। তবে এই ঘটনা বাঁকুড়া নয়, পূর্ব বর্ধমানের। পদ্ম শিবিরের পালটা প্রতিরোধের মুখে পালাতে বাধ্য হল ঘাস ফুলের অনুগামীরা।

রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন জমা নেওয়া শুরু হয়েছে। শুরুর দিন থেকেই বিরোধী শিবিরের মনোনয়ন জমা দিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আক্রান্ত হতে হয়েছে বিজেপি কর্মীদের। দলীয় কর্মীদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় মুখ খুলেছিলেন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তৃণমূল কংগ্রেসের হামলাকারীদের পালটা মার দেওয়ার কথা বলেছিলেন তিনি।

- Advertisement -

জেলা সভাপতির কথা অনুসারে বর্ধমানের মন্তেশ্বর ব্লকে ঘটলো সম্পূর্ণ উলাটপুরাণ। গত ২দিন ধরে মন্তেশ্বরে বিজেপি মনোনয়ন জমা দিতে চেষ্টা করলেও শাসক দলের বাধায় তাদের পিছু হটতে হয়। আর তাই বুধবার সকাল থেকে ব্লক অফিস তৃণমূল সমর্থকেরা ঘিরে রাখলেও পালটা এদিন সকালে প্রায় ১২০০ সমর্থক নিয়ে মনোনয়ন জমা দিতে আসেন বিজেপি সমর্থকরা। ব্লক অফিসে এসেই আচমকা বিজেপি সমর্থকরা ধাওয়া করেন তৃণমূল সমর্থকদের। বিজেপির তাড়ায় পালিয়ে যায় তৃণমূল সমর্থকরা। কালনা ১ ব্লক অফিসেও মনোনয়ন জমাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি-র মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে লাঠিচার্জও করতে হয়েছে বলে অভিযোগ।

যদিও মনোনয়ন জমা দেওয়ার তৃতীয় দিনেও রাজ্য জুড়ে অব্যাহত ছিল শাসকদলের কর্মীদের আক্রমণ। বিজেপি সমর্থক ও প্রার্থীদের ওপর লাগাতার হামলার ঘটনায় বুধবার ফুঁসে উঠল বিজেপি নেতা-কর্মীরা। পূর্ব বর্ধমান জেলায় বিভিন্ন ব্লকে ব্লকে ৩দিন ধরে বিজেপি সমর্থকদের ওপর শাসকদলের হামলার ঘটনা বন্ধ না হলে গোটা জেলা জুড়ে আগুন জ্বলবে বলে হুঁশিয়ারিও দিলেন বিজেপির রাজ্য নেতা তথা বর্ধমান জেলার পর্যবেক্ষক অনল বিশ্বাস।

এদিন বুধবার বর্ধমানের সদর মহকুমা শাসক (উত্তর) পুষ্পেন সরকারের কাছে অবিলম্বে এব্যাপারে ব্যবস্থা নেবার আবেদন জানান তিনি। এদিন তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিজেপির জেলা সভাপতি সন্দীপ নন্দী, নবকুমার হাজরা প্রমুখরা। একইসঙ্গে এদিন জেলাশাসকের কাছেও বিজেপির জেলা প্রতিনিধিদল সন্ত্রাস বন্ধের আবেদন জানান। বিজেপির জেলা সভাপতি সন্দীপ নন্দী জানিয়েছেন, সোমবার থেকে গোটা জেলা জুড়ে ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনের মনোনয়ন পত্র জমা দেবার কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থকেরা বিজেপি সমর্থকদের ওপর লাগামছাড়া সন্ত্রাস নামিয়ে নিয়ে এসেছেন।

বর্ধমান সদরের কামনাড়া, বড়শুল, আউশগ্রাম ১ ও ২, গলসী ১ ও ২, রায়না ১ ও ২, জামালপুর, খণ্ডঘোষ বিডিও অফিসে বিজেপি সমর্থকেরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে গেলে ব্যাপক হামলা চালানো হয়েছে। বর্ধমান সদর ২নং ব্লকের বড়শুল বিডিও অফিসে বিজেপি সমর্থকেরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে গেলে অভিযোগ তৃণমূল সমর্থকেরা তাদের ওপর বেপরোয়া হামলা চালায়। এই ঘটনার ছবি তুলতে গেলে এক মহিলা সাংবাদিক সহ একাধিক সাংবাদিকের ওপর ব্যাপক হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল সমর্থকদের বিরুদ্ধে। আহত সাংবাদিকদের এদিনই বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হয়।

অন্যদিকে, এই হামলায় বিজেপির কয়েকজন সমর্থকও জখম হয়েছেন বলে জানিয়েছেন, বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতি শ্যামল রায়। তিনি জানিয়েছেন, অবিলম্বে এই হামলা বন্ধ না হলে তাঁরা জেলাশাসক ও জেলা পুলিশ সুপার অফিস ঘেরাও করে রেখে দেবেন। এদিনই এই ঘটনা জানানো হয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কাছেও।

Advertisement ---
---
-----