সৌমিক কর্মকার, কলকাতা: মেয়াদ শেষের আগে বিজেপির রাজ্য সভাপতির পদ হারাতে পারেন দিলীপ ঘোষ৷ তাঁর জায়গায় আসতে পারেন আশিস সরকার৷

গত কয়েকদিন ধরে রাজ্য রাজনীতির অন্দরমহলে ঘুরছে এমনই জল্পনা৷ সেই জল্পনা আদৌ সত্যি হবে! নাকি বুদবুদের মতো হারিয়ে যাবে! তার উত্তর রয়েছে সময়ের গর্ভে৷

- Advertisement -

আরও পড়ুন: তৃণমূলের রবীন্দ্র-নজরুলকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়তে হাজির বিজেপির বঙ্কিমচন্দ্র

কিন্তু তার আগেই বিজেপির অন্তর্কলহ প্রকাশ্যে চলে এল৷ সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়ে গিয়েছে জোর লড়াই৷ একের পর এক ফেসবুক পোস্টে দুই পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে তোপ দাগছে৷

দিলীপ ঘোষ বিজেপির রাজ্য সভাপতির পদ থেকে সরে গেলেই দলে ‘আচ্ছে দিন’ আসবে বলে মনে করছেন কেউ কেউ৷ এ নিয়ে তাঁরা ফেসবুকে একাধিক পোস্টও করছেন৷ সেই সব পোস্টে নাম না করে বিজেপির বর্তমান রাজ্য নেতৃত্বকে আক্রমণ করা হচ্ছে৷ কেউ লিখছেন, ‘মিশন বাংলার সফল রূপায়ণে রাজ্যে আসছেন মোদীর দূত৷’ কেউ একবারে প্রশ্নের ছলে জানতে চেয়েছেন, ‘ঘোর অমানিশার অবসান কি আগতপ্রায়?’

আরও পড়ুন: ‘বিজেপি ক্ষমতায় এলেই সন্ত্রাস বন্ধ হবে বাংলায়’

২০১৪ সালের পর থেকে বিজেপির শক্তি প্রায়ই রোজই বাড়ছে এ রাজ্যে৷ শেষ লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে প্রতিটি ভোটেই বিজেপির সমর্থন-বৃদ্ধির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে৷ ক্রমশ এ রাজ্যে বিরোধী হয়ে উঠছে বিজেপি৷ আর তার বেশির ভাগটাই হয়েছে দিলীপ ঘোষের আমলে৷

স্বাভাবিকভাবেই তাই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে দিলীপ ঘোষ সরলে বিজেপির ‘ভালো’ হবে, এমন মন্তব্য কেন করা হচ্ছে বিজেপির ওই নেতা কর্মীদের তরফে৷ রাজনৈতিক মহলের মত, এর ফলে সংগঠনের নিচুতলায় এর প্রভাব পড়ে৷ ধাক্কা খায় কর্মীদের মনোবল৷

আরও পড়ুন: বিজেপির ঘর ভেঙে বাংলায় শক্তি বৃদ্ধি করছে শিবসেনা

যদিও রাজ্য বিজেপি বিষয়টি গুরুত্ব দিতে নারাজ৷ দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু যেমন স্পষ্টভাষায় জানালেন, এই ধরনের পোস্টগুলি যাঁরা করছেন, তাঁদের সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই৷ তিনি বলেন, ‘‘যাঁরা জানেন না৷ বিজেপি পার্টি করেন না৷ তাঁরা এই সব বলছেন৷’’ এই আলোচনা দু’চারদিনে থেমে যাবে বলে মনে করেন সায়ন্তন বসু৷

তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপির বর্তমান রাজ্য নেতৃত্বের সমর্থনেও পোস্ট পড়ছে৷ এভাবে বিজেপিতে রদবদল করা হবে না বলেও সোশ্যাল মিডিয়াতে অনেকে মন্তব্য করছেন৷ বর্তমান রাজ্য নেতৃত্বের আমলেই যে বিজেপির অগ্রগতি হয়েছে, সেকথাও লিখেছেন কেউ কেউ৷ তাই দিলীপ ঘোষকে ভুলে যাওয়া উচিত নয় বলেই মনে করেন অনেকে৷

আরও পড়ুন: ‘তৃণমূলের হাতে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে বিজেপি’

যদিও রাজনৈতিক মহল এর পিছনে অন্য কারণ দেখছেন৷ তাদের বক্তব্য, বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের একাংশ আসলে এখন জল মাপছে৷ এই ধরনের পোস্ট করে দেখা হচ্ছে কোন দিকে পাল্লা ভারী৷ যদি পরিবর্তন হয়, তাই আগে থেকে বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তোপ দাগছেন৷ আবার প্রশংসা করছেন৷ যাতে দলে নিজেদের অবস্থান ‘নিরাপদ’ রাখা যায়৷

----