মালা বদলের পর কালো বরে আপত্তি তুলে বিয়ে ভাঙল কনে

লখনউ: “যিসকি বিবি কালি উসকা ভি বড়া নাম হ্যায়৷” কিন্তু যার বর কালো? কি হবে তার? এই প্রশ্নটাই বোধহয় হঠাৎ মনে পড়েছিল কনের৷ কোনও মতেই কালো ছেলে বিয়ে করব না, বলে বেঁকে বসল বউ৷ ততক্ষণে বরমাল্য পরানো হয়ে গিয়েছে৷ এমন সময় এরকম বায়না!

স্বভাবতই চমকে গেলেন সবাই৷ কিন্তু কনে ‘না ছোড় বন্দি’৷ বোঝালেন সকলেই৷ কিন্তু কোনও লাভ হলনা৷ না তো না ই৷ পুলিশ পর্যন্ত এসে পৌঁছল বিয়ের মন্ডপে৷ কিন্তু কনে ছাড়া খালি হাতেই ফিরতে হল বরপক্ষকে৷

আরও পড়ুন: পঞ্চায়েতের প্রচারে বাইক মিছিলে সাংসদ সৌগত

- Advertisement -

ঘটনা উত্তর প্রদেশের চিলুয়াতালের অম্বা চৌহান টোলার৷ চিলুয়াতাল থানার অন্তর্গত ভগবানপুর চৌহান টোলার বাসিন্দা রবীন্দ্র চৌহানের ছেলে চেতই চৌহানের বিয়ে ঠিক হয় ওই থানারই অন্তর্গত চৌহান টোলার রাজকুমারের মেয়ে পুষ্পার সঙ্গে৷ রবিবার বাদ্যি বাজিয়ে বর পক্ষ পৌঁছয় কনের বাড়ি৷ দুয়ারপুজার পর শুরু হয় বিয়ের প্রস্তুতি৷ মালা বদলও হয়ে যায়৷

কিন্তু মালা বদলের সময়ই কনের ছেলের কালো রঙ দেখে বিয়ের ইচ্ছে চলে যায়৷ ছেলে পছন্দ হয়নি তার৷ যাকে সীবন সঙ্গি করবে মেয়ে তার শ্যামলা রঙ মনে ধরেনা কনের৷ যদিও বরমাল্যের অনুষ্ঠানের পর খাবার সময় বরযাত্রী ও কনে পক্ষের মধ্যে কোনও বিষয় নিয়ে বচসা শুরু হয়৷ সেই বচসা পৌঁছয় হাতাহাতি পর্যন্ত৷ পুলিশ পর্যন্ত ডাকতে হয় সেই সমস্যা সমাধানে৷

আরও পড়ুন: উইল করা উচিত কেন এবং কীভাবে করবেন

পুলিশ কোনওরকমে বুঝিয়ে সুঝিয়ে পরিস্থিতি সামলায়৷ কিন্তু এরপরই বেঁকে বসে পাত্রী৷ একে তো পাত্র তার পছন্দ হয়নি তার উপর এত গন্ডগোল৷ পুষ্পা সরাসরি জানিয়ে দেয় কালো ছেলেকে সে বিয়ে করবেনা৷ এমন কথা শুনে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে বরের৷

বরের বাবা রবীন্দ্র চৌহান কনেকে বোঝানোর চেষ্টা করতে থাকেন৷ কিন্তু কোনও ফল মেলে না৷ পাত্রীর আত্মীয়স্বজনও বোঝানোর ভার নেয় কিন্তু সিদ্ধান্ত অটল জানিয়ে দেয় পুষ্পা৷ শেষ পর্যন্ত সেই পুলিশেরই দ্বারস্থ হয় বরপক্ষ৷ তাতেও কোনও ফল হয়নি৷ অতএব খালি হাতে ফেরা ছাড়া আর উপায় থাকেনা৷

আরও পড়ুন: সাত লক্ষ টাকা নিয়ে নিখোঁজ কর্মী

মেয়েকে বোঝানোর পরেও যখন সে রাজি হলনা তখন পাত্রীর কাকা ও বাড়ির বাকি সকলেও বরযাত্রীকে জানিয়ে দেয় তারা মেয়ের বিয়ে ওই বাড়িতে দিতে চায়না৷ বিয়েতে মেয়েই যদি রাজি না হয় তাহলে কারই বা কি করার থাকে৷

তাই অগত্যা ব্যান্ড বাজা নিয়ে ফিরে যেতে হয় বরযাত্রীকে৷ খাবার খাওয়া নিয়ে হাতাহাতি শুরুর সময় কে জানত আদৌ বিয়েটাই হয়ে উঠবে না! মেয়ের কঠোর সিদ্ধান্ত টলানোই গেলনা৷ কালো স্বামী ‘নৈব নৈব চ’ করে দিয়েছে পুষ্পা৷

আরও পড়ুন: ৭০ বছরে রাজ্যে সব থেকে কঠিন চ্যালেঞ্জ: সূর্যকান্ত

Advertisement ---
-----