খাগড়াগড়ের স্মৃতি উসকে পুজোর মুখে বিস্ফোরণ কৃষ্ণনগরে

স্টাফ রিপোর্টার, কৃষ্ণনগর: বছর তিনেক পরে ফের ফিরে এল খাগড়াগড় কান্ডের ছায়া। ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল কৃষ্ণনগরের নদিয়া জেলা সদর হাসপাতাল লাগোয়া বহুতল।

খাগড়াগড় বিস্ফোরণ: বাংলাদেশে কোন শীর্ষ জেএমবি নেতার আশ্রয়ে ছিল বুরহান ?

সোমবার প্রাক মহালয়ার বিকেলে বেশ ব্যস্ত ছিল কৃষ্ণগর সদর মোর। জনবহুল ওই এলাকায় আচমকা শোনা যায় ভয়ঙ্কর শব্দ। আতঙ্ক সৃষ্টিকারী শব্দটি যে বিস্ফোরণের শন্দ তা বুঝতে কারো বাকি ছিল না। ঘটনাস্থলে গিয়ে বোঝা যায় বিস্ফোরণের তীব্রতা। ভেঙে গিয়েছে ওই বহুতলের বাড়ির জানলার কাঁচ। বেসমেন্ট থেকে বেরিয়ে আসছে ধোঁয়া।

- Advertisement -

২০১৪ সালের দুর্গাপুজর সপ্তমীর দিন বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছিল বর্ধমান জেলার খাগড়াগড়। সেই ঘটনা ঘিরে তোলপাড় হয়েছিল সমগ্র দেশ। খাগড়াগড় কান্ডের তদন্ত করতে পড়শি রাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকেও এসেছিলেন তদন্তকারীরা। বছর তিনেক পরে পুজড় মুরসুমে নদিয়া জেলার সদর শহরের এই বিস্ফোরণের ঘটনা মনে ক্রিয়ে দিচ্ছে সেই স্মৃতি। যদিও খাগড়াগড়ের মতো এই কৃষ্ণনগরের ঘটনার পিছনেও জঙ্গি যোগ রয়েছে কিনা তদন্তকারীরা তা খতিয়ে দেখছেন বলে জানিয়েছেন নদিয়া জেলার পুলিশ সুপার শীষরাম ঝাঝারিয়া।

বিস্ফোরণে ফেটেছে দেওয়াল

কৃষ্ণনগরের এই ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন গৌতম দাস নামের এক রাজমিস্ত্রি। তাঁকে ভরতি করা হয়েছে শক্তিনগর হাসপাতালে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চারতলা বহুতলটির মালিক অশোক চট্টোপাধ্যায় প্রয়াত হয়েছেন ২০১৬ সালে। ওই বহুতলের গ্রাউন্ড ফ্লোরে অনেকগুলি দোকান রয়েছে। বেসমেন্টে রয়েছে স্টোর রুম। সপ্তাহ দুয়েক ধরে নিয়মিত ওই বেসমেন্টে যাতায়াত করছিল জখম গৌতম। সোমবার বেসমেন্টে নামার পরে ঘটে ওই বিস্ফোরণ। ওই দিন সকালেই একটা গ্যাস সিলিন্ডার বেসমেন্টে রেখেছিল বলে জানিয়েছে গৌতম। সেই সিলিন্ডার থেকেই বিস্ফোরণ হয়েছে বলে মনে করছিল পুলিশ। কিন্তু, পরে সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে সিলিন্ডার। যা থেকে একটা বিষয় পরিষ্কার যে অন্য কোনও বিস্ফোরক ওই বেসমেন্টে মজুত ছিল। জখম গৌতম দাসের বক্তব্যেও ধরা পড়েছে অসঙ্গতি। যার জেরে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। সমগ্র ঘটনার তদন্তে নেমেছে রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থার গোয়েন্দারা। যদিও এই বিষয়ে এখনই মন্তব্য করতে নারাজ প্রশাসনিক কর্তারা।

Advertisement
-----