“বোমার আঘাতে জামায় ছিটকে এল রক্ত”

“খবরের কাগজে কাজ করি। নাইট ডিউটি শেষে বাড়ি ফেরার জন্য শিয়ালদহ থেকে ট্রেন প্রথম ট্রেন ধরি। আজও তাই ধরেছিলাম। এ দিন ভোর ৩টে ২০ নাগাদ শিয়ালদহ থেকে আপ কৃষ্ণনগর লোকালটি ছেড়েছিল। আমরা কয়েকজন উঠেছিলাম ৪-৫ নম্বর বগিতে। সিগন্যালে ত্রুটির জন্য দমদমে কিছু ক্ষণ দাঁড়ানোর পর ট্রেনটি ফের রওনা হয়। ভোর পৌনে চারটে নাগাদ সেটি টিটাগড় পৌঁছয়। ট্রেনে একটা ছেলে কানে হেডফোন গুঁজে দামি একটা মোবাইলে গান শুনছিল। সঙ্গে তাঁর বাবাও ছিল। টিটাগড়ে কয়েকজন সংখ্যালঘু ছেলে ওঠে। মুখে অকথ্য গালিগালাজ। হঠাৎই ওই ছেলেটির মোবাইল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে দুষ্কৃতীরা। ছেলেটির বাবা আটকাতে গেলে লেগে যায় মারামারি। ছেলেটাকে টানতে টানতে ট্রেনের গেটের কাছে নিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। হঠাৎ বোমা ফাটার শব্দ। 10406790_916421345087429_1173616858531432877_n

এরকম বোমার শব্দ কখনও শুনিনি। আমার সামনেই বোমাটা ফাটলো। টিটাগড় স্টেশন ছাড়ার মুহূর্তে হঠাৎ ট্রেনের মধ্যে প্রচণ্ড শব্দে বিস্ফোরণ। কিছুক্ষণের মধ্যেই সব ওলটপালট। ছিন্ন ভিন্ন বহু শরীর। ট্রেনের কামরা জুড়ে রক্তের ছড়াছড়ি। আমরা যারা সামনের দিকে বসেছিলাম, আমাদের সবারই জামা-কাপড়ে রক্ত ছিটকে এল। দেখলাম অনেকেই এদিক-ওদিক পড়ে রয়েছে। কেউ আবার চলন্ত ট্রেন থেকে ঝাঁপ মারার জন্য তোড়জোড় করেন, অনেকে ঝাঁপ মেরেও বসেন। আহতও হন। মনে মনে ইষ্টনাম জপছি। যদি আর একটাও বোমা ফাটে তাহলে আমরা সবাই শেষ। কী করবো ভেবে পাচ্ছিলাম না। অনেকেই চেন টেনে ট্রেন থামানোর চেষ্টা করতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু অনেকেই মানা করেন। কোনও রকমে বারাকপুরে এসে ট্রেন থামানো হলো। এদিকে আবার বারাকপুরে আমরা যখন জি আর পি কে বলতে গেলাম সাহায্য করার জন্য তখন কেউ এগিয়ে এলো না। এ ওর ঘাড়ে দায় চাপাল। বলল, এটা নাকি আর পি এফ-এর কাজ। বহু মানুষ যেখানে মরতে বসেছে তখনও তাদের সাহায্য না করে দায় চাপিয়ে যাচ্ছে পুলিশগুলো। কোথায় সাহায্য করবে তা না করে এসব করছে। কোনও রকমে রক্ত মাখা শরীর নিয়ে ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে বাড়ি ঢুকলাম।”

- Advertisement -

-সোমনাথ গোস্বামী, আপ কৃষ্ণনগর লোকালে বিস্ফোরণের এক প্রত্যক্ষদর্শী

11059333_879107082152189_8953986917906545084_n

Advertisement
---

Comments are closed.