বাসুদেব ঘোষ, সিউড়ি : ‘অন্ধ’ ভালোবাসাই মিলিয়েছে ওদের। সাক্ষী থেকেছে মহানগর। অনুঘটক দৌড়ের ট্র্যাক। বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি শারীরিক প্রতিবন্ধকতা। দৃষ্টিহীনতাকে হারিয়ে রেসের ট্র্যাকে শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়েছে সুমিত ও প্রতিমার প্রেম। পরিনতি পেয়েছে ভালোবাসা।

আদুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা সুমিত ঘোষ। মেদিনীপুরের বাসিন্দা প্রতিমা মাহাতো। জন্ম থেকেই দুজনে দৃষ্টিহীন। সুমিত প্রতিমার পরিচয় হয়েছিল বছর চারেক আগে। কলকাতার একটি প্রতিবন্ধী রাজ্য স্তরের প্রতিযোগিতায়। সেই ট্র্যাক থেকেই তাদের ভালোবাসা শুরু। না দেখাতেই দেখা অনেকটা। তারপর চার বছর ভালোবাসার দৌড়। প্রেম পরিণতি পেল এক বর্ষার সকালে। চার হাত এক হল ওদের।

‘তারে আমি চোখে দেখিনি, তার অনেক গল্প শুনেছি। গল্প শুনে তারে আমি অল্প অল্প ভালবেসেছি’!

তারা একে অপরকে চোখে দেখেনি বটে। কিন্তু অল্প অল্প নয় তারা একে অপরকে ভালোবাসাটা পুরোটাই দিয়েছে। বর্তমানে সুমিত বিদ্যাসাগর কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। উত্তরপাড়া দৃষ্টিহীন স্কুল থেকে সদ্য উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছে প্রতিমা। বৃহস্পতিবার বত্রেশ্বর ধামে তাদের চার হাত এক হয়ে যায়।

লাল বেনারসীতে সেজেছিল প্রতিমা। ধুতি, পাঞ্জাবি পড়েছিল সুমিত। তারপর মালা বদল করে নিজেদের ভালোবাসাকে এক নতুন রূপ দেয় সুমিত ও প্রতিমা। সুমিত বলেন, “এখন অনেক ভালোবাসায় শেষ পর্যন্ত পরিণতি পায় না। কোনও না কোনও কারনে ভালোবাসা ভেঙে যায়। আমরা চোখে দেখতে পাইনা। তাও মনের চোখ দিয়েই দুজন দুজনকে ভালোবেসেছি। বিয়ে করে পরিণতি দিলাম আমাদের ভালবাসাকে।”

বিয়ে মেনেও নিয়েছে দুজনের পরিবার। সুমিত জানিয়েছে, “আমাদের চোখের সামনে সব কিছুই অন্ধকারে ভরা। এ পৃথিবী কেমন তা কিছুই জানি না। শুধু অনুভব করার ক্ষমতাটুকু ঈশ্বর দিয়েছেন। এই অবস্থায় কাউকে জীবন সঙ্গী হিসাবে পাওয়া মানে ভাগ্যের ব্যাপার। আমরা খুব খুশি যে আমাদের এই বিয়ে আমাদের পরিবারও মেনে নিয়েছে।”

প্রতিমা বেশি কিছু বলতে চাননি। রেসের ট্র্যাকে দুরন্ত মেয়ে এমনিতে লাজুক। সদ্য উচ্চমাধ্যমিক পেরোনো মেয়ে ভাসছে আনন্দে। দৃষ্টি নেই। তবে খুশির হাওয়া স্পষ্ট আনন্দাশ্রুতে।

খেলার মাঠে দুই খেলার জগতের মানুষের প্রেমের দৃষ্টান্ত বহু। কিন্তু এমন না দেখেই প্রেম এবং পরে বিবাহের ‘গল্প’ খুবই কম। সমাজ থেকে পারিপার্শ্বিক সমস্ত প্রতিবন্ধকতাকে হারিয়ে জয়ী ভালোবাসা।

----
--