নদীগর্ভে সব হারিয়ে ওদের সঙ্গী আজ শুধুই হাহাকার

স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: কথায় বলে জলের ওপর নাম জীবন৷ কিন্তু সেই জলের তোড়েই নদীগর্ভে ভেসে গিয়েছে ওদের বাড়ি৷ সব হারিয়ে ওরা এখন নিঃশ্ব৷ ঠাঁই হয়েছে সরকারি ত্রাণ শিবিরে৷ হাহাকারের সুর গন্ধেশ্বরী নদী তীরবর্তী সতীঘাট এলাকার কয়েকশো বাসিন্দার গলায়৷

গত দুদিনের বৃষ্টিতে গন্ধেশ্বরীর কড়াল গ্রাসে গৃহহীন বাঁকুড়া শহরের সতীঘাট এলাকার কয়েকশো মানুষ৷ প্রাণে বেঁচে তাদের আস্তানা এখন সরকারি ত্রাণ শিবির কেশিয়াকোল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে৷ রবিবার সকালেও কেউ ভাবতে পারেননি সবচেয়ে নিশ্চিন্ত জায়গাই চোখের নিমেশে হয়ে উঠবে বিভিষিকা৷ বাড়ি, ঘর, সংসারের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সবকিছু আজ নদীগর্ভে বিলীন। ত্রাণ শিবিরে বসে কেউ ফেলছেন চোখের জল, কারোর আবার সঙ্গী কয়েকঘন্টা আগের ইতিহাসকে হাঁতড়ে বেড়ানো৷

আরও পড়ুন: বামেদের ডাকা পরিবহণ ধর্মঘটে প্রভাব পড়ল না বারাকপুরে

- Advertisement DFP -

পৈতৃক ভিটে মাটি৷ সেই টানেই বৃষ্টি কমতে অনেকে আবার ত্রাণ শিবির থেকে ফিরছেন সতীঘাটে৷ সব হারিয়ে ফের নতুন করে শুরু করার স্বপ্ন তাদের চোখে মুখে৷ মনে আশা, চলতি বর্ষায় আর ভয়াল হবে না গন্ধেশ্বরী৷ ফলে অবশিষ্ট বাব, দাদুর ভিটেতেই আপাতত ত্রিপল টাঙিয়ে কাটিয়ে দেওয়া যাবে৷

সরকারি ত্রাণ শিবিরে অবশ্য দুর্গতদের জন্য সবকিছুর পর্যাপ্ত আয়োজন রেখেছে জেলা প্রশাসন৷ প্রয়োজনে আরও সাহায্যের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে৷

আরও পড়ুন: কলেজের পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবিতে আন্দোলনে পড়ুয়ারা

তবে নিশ্চিন্ত হওয়া যাচ্ছে না৷ হাওয়া অফিস বলছে নিম্নচাপের জেরে বৃষ্টি চলবে৷ সব হারানো মানুশগুলোর মনের কোনে তাই আশঙ্কার মেঘ জমে রয়েছে৷ ফিরে ফিরে আসছে দুঃস্বপ্নের মুহূর্ত৷

Advertisement
----
-----