বিশেষ প্রতিবেদন: নব্বই দশকের শেষ দিকে বাংলাদেশি চলচ্চিত্র জগৎ তথা ঢাকাইয়া ছবিতে যে কয়েকজন নায়িকা অশ্লীলতার দায়ে দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় ও নিন্দিত হয়েছিলেন তাদেরই একজনকে ঘিরে উত্তপ্ত জাতীয় রাজনীতি৷ পুরো নাম শাহরিয়ার ইসলাম শায়লা৷ তাঁর উত্তেজক ‘সিন’ দেখার জন্য হলে লাইন পড়ত৷ আবার অনেকেই নাক সিঁটকে সরে যেতেন৷ কিন্তু আদতে সেই লাস্যময়ীর আবেদনে সাড়া দিয়ে পতঙ্গ যেমন আগুনের দিকে পুড়ে মরতে আসে তেমনই দর্শককুল পিলপিল করে হল ভরিয়ে তুলেছিলেন৷

বাংলাদেশে তখন বিএনপি-জামাত ইসলামি জোট সরকার চলছে৷ আর প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া৷ সেই সময় ঢালিউডি ছবির দুনিয়া দাপিয়ে বেড়িয়েছিলেন যে কয়েকজন তাদেরই অন্যতম শায়লা৷

পরে বিএনপি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন শায়লা৷ আর দলের তরফে জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) এর অন্যতম নেত্রী হয়ে ওঠেন৷ একাদশতম জাতীয় নির্বাচনে এহেন ‘অশ্লীল নায়িকা’ শায়লা ফের একবার তার অশ্লীলতার দায় মাথায় নিয়ে ভোট রাজনীতির ময়দানে নেম পড়েছেন৷ বিএনপি সূত্রে খবর, ফরিদপুর-৪ আসন থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি৷ তবে এই কেন্দ্রে বিকল্প প্রার্থীও তৈরি রেখেছে বিএনপি৷

আর শায়লা প্রার্থী হচ্ছেন এই খবরে বাংলাদেশ জুড়ে ছড়িয়েছে প্রবল আলোড়ন৷ বারে বারে প্রশ্ন উঠছে ‘অশ্লীল নায়িকা’ হিসেবে যার পরিচিতি তাকে টিকিট দিয়ে বিএনপি আদতে কী বোঝাতে চাইছে৷ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থক ও নেতাদের দাবি, বিএনপি দেশে ফের অশ্লীল ছবির পরিবেশ ফিরিয়ে আনার বার্তা দিয়েছে৷ যদিও বিএনপির দাবি, অভিনেত্রী শায়লা দলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক কর্মী৷ বহুবার গণআন্দোলনে তিনি সরাসরি সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ মুখর হয়েছেন৷

শায়লার অভিনয় জীবন যে অশ্লীল ছবির মোড়কে ঢেকে রয়েছে সেটা নিয়েই চর্চা চলচে৷ অভিযোগ, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ শায়লা৷ সেই কারণে দলের শীর্ষ নেতা তারেকই শায়লার মনোনয়নে সম্মতি দিয়েছেন৷

১৯৮৮ সালে শায়লার বাড়ি ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার মালিগ্রামে। বাবার নাম মহম্মদ ওহাব মাতুব্বর৷ পরে ঢাকায় থাকতে শুরু করেন শায়লা৷ সেই সূত্রে বিএনপি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন৷ চলতে থাকে অভিনয়৷ একের পর এক ছবি বের হয়৷ এর বেশিরভাগই অশ্লীল৷ সেই কারণে দর্শকদের একাংশের আগ্রহ তৈরি হয়৷ তীব্র উত্তেজক আবেদন সহ নাচের ভঙ্গিমায় শায়লা রুপোলি পর্দা জুড়ে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিলেন৷

২০০১ সালে বিএনপি জামাত ইসলামি ক্ষমতায় আসলে বাংলাদেশের সিনেমা জগতে শায়লার দাপট বেড়ে গিয়েছিল৷ অভিযোগ, সেই সঙ্গে শুরু হয় অশ্লীল ছবির পালা৷ এরকমই সময়ে শায়লার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হল নষ্টা মেয়ে, ফুটপাতের শাহেনশাহ, জ্বলন্ত নারী, তেজী মেয়ে৷

পরবর্তী সময়ে বিএনপি ক্ষমতা হারালে শায়লাকে একাধিক আন্দোলনে সামনের সারিতে দেখা গিয়েছে৷ বিএনপির অন্যান্য মহিলা নেত্রীদের সঙ্গে তিনি প্রকাশ্যে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন৷

----
--