জাতীয় নির্বাচন বয়কটের পক্ষেই যাচ্ছে বিএনপি ?

ঢাকা: পরিস্থিতি বুঝেই নির্বাচনে যাওয়া হবে৷ নচেৎ বয়কট ৷ ফলে আসন্ন একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির অংশ নেওয়া দলেরই একাংশ নেতৃত্ব মেনে নিচ্ছেন না৷ তাঁদের যুক্তি, এবারের ভোটে অংশ নিলে সেটা হবে গতবারের অবস্থানের খেলাপ৷ সেটা করা হলে সরকারের পাতা ফাঁদেই পড়তে হবে৷

আগেই বিএনপি নেতৃত্ব জানিয়েছেন, দলীয় নেত্রী তথা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দিলে কোনওভাবেই জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়া হবে না৷ এদিকে খালেদার জামিন পাওয়া নিয়ে কোনও লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না৷ বর্ষীয়ান নেত্রী আর্থিক দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে জেলবন্দি৷ তাঁকে ছাড়া বিএনপি কী পদক্ষেপ নেবে সে বিষয়ে লন্ডনে থাকা খালেদা পুত্র তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলেছেন নেতৃত্ব৷

তাদের আরও যুক্তি, এবারেও বিএনপি নির্বাচন বয়কট করলে সেটা বাংলাদেশের নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরবে না৷ বরং এতে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মহল ক্ষুব্ধ হবে৷

- Advertisement -

তারেক রহমান এই মুহূর্তে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত প্রধান নেতা৷ বাংলাদেশের ওয়েব মাধ্যম ‘বাংলা ট্রিবিউন’ তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, লন্ডনে তারেক রহমানের কাছে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে৷ দলের প্রথম সারির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণার পরেই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি, খালেদা জিয়ার মুক্তি সহ পাঁচটি দাবি তুলে ধরা হবে। এগুলো পূরণ না হলে কৌশলের অংশ হিসেবে শেষ মুহূর্তে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা করা হবে৷

নেতাদের অনেক যুক্তি, শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রীত্বে নির্বাচনে অংশ নেওয়া মানে গত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে বৈধতা দেওয়া। সেক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠতে পারে, তখন কেন বয়কট করা হয়েছিল৷ বিএনপিকে চাপে রাখার কৌশল থেকে নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে চাইবে না সরকার। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপি নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে সরকারের ফাঁদে পা দেওয়া হতে পারে৷

গত জাতীয় নির্বাচনে ব্যাপক রিগিংয়ের অভিযোগ তুলে ভোট বয়কট করে বিএনপি ও তাদের জোটসঙ্গী জামাত ইসলামি৷ তারপরেই শুরু হয় গণতন্ত্র রক্ষা আন্দোলন৷ হিংসাত্মক এই আন্দোলনে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়৷ সেই সব ঘটনায় হুকুমের আসামী করে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা চলছে৷

Advertisement ---
-----