ঢাকা:  বানৌজা বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর সর্বাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ফ্রিগেট । এটি বর্তমানে বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর ফ্ল্যাগশিপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। বানৌজা বঙ্গবন্ধুর নামকরণ করা হয় বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবর রহমানের নামে, যার উপাধি বঙ্গবন্ধু। এটি যুদ্ধে ও শান্তিকালীন সময়ে সমভাবে দায়িত্ব পালনে সক্ষম। ১৯৯৮ সালের ১১ মার্চ দক্ষিণ কোরিয়ার দেয়ু শিপবিল্ডিং এন্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এই জাহাজটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এবং ২৯ অগাস্ট ২০০০ এর নির্মাণকাজ শেষ হয়। ২০০১ সালের ২০ জুন বানৌজা বঙ্গবন্ধুকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে কমিশনিং করা হয়। পরবর্তীতে ২০০২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি এই জাহাজকে মেরামত কাজের জন্য ডিকমিশন করা হয়। ২০০৭ সালে এটিকে বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদ হিসাবে পুনরায় কমিশনিং করা হয়। ২০০৯ সালে এটিকে আবারও বানৌজা বঙ্গবন্ধু নামকরণ করা হয়।

  • বানৌজা বঙ্গবন্ধু ২০১১ সাল থেকে মার্কিন নৌবাহিনীর সাথে দ্বিপক্ষীয় মহড়া কারাতে অংশগ্রহণ করছে।
  • ২০১২ সালের নভেম্বর মাসে জাহাজটি কাতারের দোহায় এক্সারসাইজ ফেরোশাস ফ্যালকনে অংশগ্রহণ করে।
  • ২৯ অগাস্ট ২০১৩ বানৌজা বঙ্গবন্ধুকে জাতীয় পতাকা প্রদান করা হয়।[২]
  • ২০১৪ সালে মালেশিয়া এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ৩৭০ নিখোঁজের পর বঙ্গোপসাগর এলাকায় অনুসন্ধান কাজেও জাহাজটিকে ব্যবহার করা হয়।

অস্ত্রব্যবস্থা

BNS-Bangabandhu-final

Advertisement

এই যুদ্ধজাহাজটি তার শ্রেণীর সর্বাধুনিক ফ্রিগ্রেট। এটি অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র দ্বারা সজ্জিত। এই জাহজের অটোম্যাট এমকে ২ ব্লক ৪ একটি অত্যাধুনিক জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র যা ১৮০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে আঘাত হানতে সক্ষম। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো উৎক্ষেপণের পর মাঝপথে গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে ফলে আক্রমণেরর জন্য যুদ্ধ জাহাজকে অবস্থান পরিবর্তন করতে হয় না। বিমানবিধ্বংসী অস্ত্র হিসেবে এতে রয়েছে ৮টি এফএম-৯০ ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, যা ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত আঘাত হান্তে সক্ষম। এছাড়াও জাহাজটি নৌ-কামান ও টর্পেডো বহন করে। বানৌজা বঙ্গবন্ধুতে ১টি হ্যাঙ্গার আছে যা অগাস্টা-ওয়েস্টল্যান্ড এডব্লিউ১০৯ পাওয়ার হেলিকপ্টার বহন করে থাকে। এই হেলিকপ্টারটি সি-৭০১ জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ও টর্পেডো বহনে সক্ষম।

অভিযান

এই যুদ্ধজাহজের প্রাথমিক ও মূল দায়িত্ব হচ্ছে দেশের বিশেষ অর্থনৈতিক এলাকা তত্ত্বাবধায়ন ও নিরাপত্তা দেওয়া। এছাড়াও জাহাজটি বাংলাদেশের নৌ সীমান্তে নৌ-সন্ত্রাস, প্রাকৃতিক দূষণ ও চোরাচালান রোধেও কাজ করে থাকে। প্রয়োজনে এটি অনুসন্ধান এবং উদ্ধার কাজের দায়িত্ব পালনেও সক্ষম।

এক নজরে এই যুদ্ধজাহাজের কিছু তথ্য

BNS-Bangabandhu

টাইপ: উলসান ক্লাস ফ্রিগেট।

ওজন:২৪০০ টন।

দৈর্ঘ্য:১০৩.৭ মিটার।

প্রস্থ :১২.৫ মিটার।

Draught: ৩.৮ মিটার।

গতি:২৫ নট (ঘন্টায় ৪৬ কি.মি।

ধারণ ক্ষমতা: ১৮৬ জন নাবিক (১৬জন অফিসার)

রেন্জ: ৪০০০ নটিকাল মাইল। অর্থ্যাৎ, এটি একটানা ৭৪০০ কি.মি পথ অতিক্রম করতে পারে।

অস্ত্র:৮টি Otomat mk2 জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপনাস্ত্র।

৮টি FM-90N যুদ্ধবিমান বিধ্বংসী ক্ষেপনাস্ত্র।

১টি Otobreda 76 mm super rapid

এবং ৪টি Otobreda 40 mm compact CIWS.

তথ্যসূত্র- উইকিপিডিয়া

----
--