শ্যামাপ্রসাদের সেই মূর্তিতেই মালা পড়ালেন ববি হাকিম, রাহুল সিনহা

দেবময় ঘোষ, কলকাতা: শনিবার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিনে তাঁর আবক্ষ মূর্তিতে মালা পরালেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম (ববি)৷ শ্যামাপ্রসাদের মূর্তিতে মালা পরিয়েছেন বিজেপির জাতীয় সম্পাদক রাহুল সিনহাও৷ তবে গুরুত্বপূর্ণ এই যে, ববি এবং রাহুল যে মূর্তিতে মালা দিয়েছেন, সেটির অবস্থান ক্যাওড়াতলা মহাশ্মশানে৷

ক্যাওড়াতলা মহাশ্মশানের ওই মূর্তিরই নাক ভেঙে, কালি লেপে হাঙ্গামা বাধিয়েছিল রাজনৈতিক সংগঠন Radical. ত্রিপুরায় কেন লেনিনের মূর্তি ভাঙা হয়েছে, তার উত্তর চাইতে বিজেপি অফিসের সামনে হামলারও ছক কষেছিল এই সংগঠন৷ তবে তাল কাটে এই ঘটনার পরেই৷ ক্যাওড়াতলার মূর্তিকে দুধ স্নান করিয়ে শুদ্ধ করতে পরদিনই সেখানে গিয়েছিলেন কিছু বিজেপি নেতা৷ কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির অনতিদূরে ক্যাওড়াতলা এলাকার তৃণমূল নেতাদের বেধরক মারে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন বিজেপি নেতারা৷ রাশবিহারী এভিনিউয়ের ওপর বিজেপি নেতারা মার খাচ্ছেন, আর তাঁদের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের গাড়ি লেক মলের কাছে আটকে রয়েছে, এমন ঘটনাও ঘটেছে সেদিন৷ তুমুল গণ্ডোগোল সামলাতে নামে Rapid Action Force.

কয়েকমাস আগের ওই ঘটনা এখনও রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের কাছে দুঃস্বপ্ন৷ ইতিমধ্যেই ক্যাওড়াতলার ওই ভাঙা কালি লেপা মূর্তি সারাই করে দিয়েছে কলকাতা পুরসভা এবং রাজ্যে পূর্ত দপ্তর৷ তবে কালিঘাট এলাকায় মার খাওয়ার দুঃস্বপ্ন ছেড়ে যায়নি বিজেপি নেতা-কর্মীদের৷

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সাত বছর মুখ্যমন্ত্রিত্বের পর বিজেপিকে আটকানোই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ৷ তবে আজকালকার ক্ষমতার লড়াই শুধু বুথ কেন্দ্রীক নয়৷ ক্ষমতায় থাকতে গেলে সমাজের তৃণমূলস্তর থেকে উঁচুতলার মানুষের কাছে পৌছাতেও হয়, তা মমতা ভালো করেই জানেন৷ ইতিমধ্যেই, রবীন্দ্র-নজরুলে তৃণমূলের একচেটিয়া আধিপত্য কায়েম রয়েছে৷ বঙ্কিম সাহিত্য চর্চা নাকি বাংলায় কম হয়, আওয়াজ তুলেছে বিজেপি৷

এত সব কিছুর মধ্যেই স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের পুত্র, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তণ উপাধ্যক্ষ কিংবা ভারতীয় জন সংঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যুদিন পালন করতে ভোলেনি রাজ্য সরকার৷ তৃণমূল নেতারা বলছেন, ‘‘হতে পারেন উনি জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা৷ কিন্তু বাঙালী বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে তিনি এক অনন্য নাম৷ আবার যদি দেখেন, বাংলার বুদ্ধিজীবীরা পরিবর্তন চেয়েছিলেন, চেয়েছিলেন ৩৪ বছরের বাম জমানার অবসান৷ সাত বছর আগে রাজ্যে পরিবর্তনও এসেছে৷ মমতাদির প্রশাসন বুদ্ধিজীবীদের সম্মান করে৷’’

রাজ্য সরকার কেন হঠাৎ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুদিন পালন করতে গেল? রাহুল সিনহার বক্তব্য, ‘‘প্রথমত দেখুন, মাওবাদীদের পাঠিয়ে মূর্তি ভেঙেছিল রাজ্য সরকারই৷ এখন মূর্তি সারাই করে, শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যুদিন পালন করে পাপ ধুয়ে ফেলতে চাইছে রাজ্য৷ দ্বিতীয়ত, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মতো একজন ব্যক্তিত্ব, যাঁর জন্য আজ কাশ্মীর ভারতের অঙ্গ, বাংলা ঐক্যবদ্ধ, তাঁকে সম্মান করার মধ্যে কোনও রাজনীতি থাকা উচিত নয়৷ দেরিতে হলেও রাজ্য সরকারের বোধদয় হয়েছে৷’’

রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে টেলিফোনে যোগাযোগ করা যায়নি৷ তবে ববি হাকিমকে দিয়ে শ্যামাপ্রসাদের মূর্তিতে মাল্যদান করিয়ে মমতা বিজেপিকে কী বার্তা দিতে চাইলেন, তা নিয়ে জল্পনা ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে৷ অনেকেই বলছেন, যে শ্যামাপ্রসাদ বলেছিলেন, ‘‘মুসলমানরা যদি পাকিস্তানে থাকতে চায়, তবে তাদের ব্যাগপত্তর গুছিয়ে ভারত ছাড়া উচিত … যেখানে তারা যেতে চায়৷’’ সেই শ্যামাপ্রসাদের মূর্তিতে ববি হাকিমকে দিয়ে মাল্যদান করিয়ে দিদি মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছেন৷ দিদি বুঝিয়ে দিয়েছেন দেশে সাম্প্রদায়িকতার জায়গা নেই৷

Advertisement
----
-----