ব্রাজিল ফাইনালে উঠলেই ফ্রি-তে ঘুগনি খাওয়াবেন সুকুমার

ছবি: মিতুল দাস

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : দল জিতলে দরাজ হবেন তিনি। তাতে টানাটানির সংসারে এক বেলা টান পড়লেও দুঃখ নেই। ব্রাজিল বিশ্বকাপে ফাইনালে উঠলেই বিনামূল্যে ঘুগনি খাওয়াবেন সুকুমার হালদার। এমনই তাঁর ব্রাজিল- প্রীতি।

কসবার বাসিন্দা সুকুমার। স্থানীয় থানার পাশেই ফুটপাথে ঘুগনি বিক্রি করেন তিনি। জ্ঞান হওয়া থেকেই ব্রাজিলের খেলার অন্ধ ‘ফ্যান’। এবারে দল ফাইনালে উঠবে, আশাবাদী তিনি। আর তাহলেই এক প্লেট ঘুগনির সঙ্গে এক প্লেট ঘুঘনি ফ্রি-তে খাওয়াবেন সুকুমার।

কসবা থানার পাশেই একটা চওড়া গলি। বিকেল হলেই সেখানে এসে ঘুগনি বিক্রি করতে শুরু করেন সুকুমার। ফুটবল বিশ্বকাপ চলছে বলে ব্রাজিল অনুরাগী তাঁর গাড়িটি সাজিয়েছেন সবুজ হলুদে। বৃষ্টিতে প্লাস্টিক ঘেরা গাড়িতে মোড়া ব্রাজিলের পতাকা দেওয়া ব্যানারে। ঝোলানো রয়েছে সাম্বার দেশের একটি পতাকাও। তার মাঝেই লেখা নিজস্ব পরিচয় এবং ঘুগনির দর। এতেই থামেননি ব্রাজিল অনুরাগী। পরিবেশকে আরও সাম্বাময় করে তুলতে ঘুগনির গাড়িতে চালিয়ে দিয়েছেন ইংরেজি ব্যান্ড ‘ভেঙ্গাবয়েজ’-এর বিখ্যাত ‘ব্রাজিল’ গান।

- Advertisement -

সব আয়োজনই নেইমারদের জন্য। সুকুমার বলেন, “যে দিন থেকে ফুটবল বুঝতে শিখেছি তখন থেকেই ব্রাজিলের খেলা আমার দারুণ লাগে। আগে রোনাল্ডো, রোনাল্ডিনহোরা ছিল। কি অসাধারণ ছিল সেই দল। খেলায় কি ছন্দ। দেখেই মন ভরে যায়।” একইসঙ্গে বলেন, “ওরা আর খেলেন না। তবে এখন নেইমার, থিয়েগো সিলভারাও কিছু কম যায় না। এরাও দারুণ খেলে।” এরপরেই বলেন, “আমি আশাবাদী ব্রাজিল ফাইনাল খেলবে। আর সেদিন আমি এক প্লেট ঘুগনির সঙ্গে এক প্লেট ঘুঘনি ফ্রি-তে খাওয়াব।”

১০ টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত দামের ঘুগনি রয়েছে সুকুমারের কাছে। মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে হলুদ জার্সিধারীরা খেলতে নামলেই ১০০ টাকার ঘুঘনির প্লেটের সঙ্গে বিনামূল্যেই মিলবে ১০০ টাকার ঘুঘনি।

সুকুমার আগে সেলসম্যানের চাকরি করতেন। তবে গত ২ বছর ধরে বিকালে ঘুগনির দোকান চালাতে শুরু করেছেন। সংসার খরচ সামাল দিতেই ঘুঘনি বিক্রির সিদ্ধান্ত। এত ঘুঘনি ফ্রি-তে দিলে সংসারে টান পরবে না? সুকুমারের বলেন, “টানাটানির সংসারে হয়তো একদিন সমস্যা হতে পারে। কিন্তু একটা দিন ব্রাজিলের জন্য রাখা থাক।”

গতবার ব্রাজিলের বিশ্রী হারে দুঃখ পেয়েছিলেন। তবে এবারে ‘হেক্সা’ হচ্ছে বলেই আশা করছেন ব্রাজিলের ফুটবল ভক্ত। আশা, ফিরে আসবে ১৬ বছর আগের সেই ‘সাম্বা’ সন্ধ্যা।

ছবি: মিতুল দাস

Advertisement
---