বেলজিয়াম পাড়ি দেওয়া দুর্গার হাতেই কি শেষ হবে রেড ডেভিলদের যাত্রা

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা :  সাম্বার দেশে শৈল্পিক ফুটবলের সমর্থক এই মৃৎশিল্পী। আবার তাঁর হাতে তৈরি দুর্গা যাচ্ছে ‘শত্রুপক্ষ’ বেলজিয়ামে। রোজগার হবে রেড ডেভিলদের দেশ থেকেই। কিন্তু মৃৎশিল্পী প্রশান্ত পালের মা দুর্গার কাছে আর্তি, মঙ্গলবারের ফুটবল বিশ্বযজ্ঞে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করে দেওয়া ডেভিলদের যাত্রা শেষ হোক শেষ চারেই।

পুজো এখনও মাস তিনেক দেরী। কিন্তু কলকাতার পটুয়াপাড়ায় দম ফেলার সময় নেই। এসে গিয়েছে মণ্ডপে মণ্ডপে ঠাকুর তৈরির অর্ডার। ব্যস্ততা আরও তুঙ্গে প্রশান্ত পালের। কারন তাঁর হাতে তৈরি অন্তত ১০ টি দুর্গা পারি দিচ্ছে বিদেশের পথে। এর মধ্যেই একটি ঠাকুর যাচ্ছে বেলজিয়ামেও। শিল্পী জানাচ্ছেন, “আমার মা দুর্গার কাছে আজ একটাই চাওয়া। ফ্রান্সের বিরুদ্ধে বেলজিয়াম হেরে যাক।”

- Advertisement -

কিন্তু রোজগার হচ্ছে সে দেশ থেকেই। মৃৎশিল্পী বলেন, “সেটা ঠিক। বেলজিয়ামে আমার কাজের কদর হচ্ছে। উপার্জন হচ্ছে। কিন্তু আমি তো আসলে ব্রাজিলের খেলার ভক্ত।” একইসঙ্গে তিনি বলেন, “ফুটবল বুঝতে শুরু করা অবধি ব্রাজিলের খেলার মধ্যে প্রাণ খুঁজে পাই। ওই পায়ের কাজ, ছন্দ আর কোনও দেশের খেলার মধ্যেই পাই না। কিন্তু দুর্ভাগ্য যে এবারে টিম গেম খেলেও ব্রাজিল হেরে গেল। বেলজিয়ামে আমার তৈরি ঠাকুর গেলেও চাইব ব্রাজিলকে যেমন ওরা হারিয়েছে, তেমনই সেমিফাইনালে আজ ওরাও হেরে যাক।”

প্রশান্ত পাল জানিয়েছেন, বেলজিয়ামের বাঙালি অ্যাসোসিয়েশন এই নিয়ে দ্বিতীয়বার তাঁর থেকে ঠাকুর নিয়ে যাচ্ছে। ৬ ফুট লম্বা দুর্গা তৈরি করতে লেগেছে দুই মাস। অর্থাৎ মে মাস থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছিল রেড ডেভিলদের দেশে দুর্গা পাঠানোর প্রস্তুতি।

বিশ্বকাপের সব খেলা তাই দেখা সম্ভব হয়নি মৃৎশিল্পীর। তিনি বলেন, “রোজ খেলা দেখলে সকালে উঠে কাজ করা যাবে না। কাজ না হলে ঠাকুর বিদেশে পৌঁছাবে কি করে।” তবে এর মধ্যেই সময় সুযোগ করে যতটা পেরেছেন রাশিয়ায় ব্রাজিলের খেলা গুলো দেখেছেন।

শিল্পী বলেন, “বেলজিয়ামে পাড়ি দেওয়ার জন্য দুর্গা তৈরি হয়ে গিয়েছে। কিছু ফিনিশিং টাচ বাকি রয়েছে। সেটা হয়ে গেলেই এই মাসেই জাহাজে করে পাড়ি দেবে সে দেশের পথে।”

হাতের নিপুণ কাজে মৃন্ময়ী মা’কে চিন্ময়ী করে তোলেন প্রশান্ত। ঠিক তেমনই নেইমাররা ফুটবলকে করে তোলেন চিন্ময়ী। শিল্পীর কাছে সাম্বার দেশই ফুটবলের ‘দুর্গা’। আশা ফুটবলের বিশ্বযুদ্ধে ‘দুর্গা’-কে হারানো অসুরদের বিনাশ হবে সেন্ট পিটার্সবার্গেই।

Advertisement ---
---
-----