নোট বাতিলে মোদীর ‘সঠিক সিদ্ধান্তে’ অসন্তোষ প্রকাশ চন্দ্রবাবু নাইডুর

হায়দরাবাদ: কেন্দ্রের নোট বাতিলের সিদ্ধান্তকে প্রথম থেকেই দু’হাত তুলে সমর্থন জানিয়েছিলেন অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এই উদ্যোগ সঠিক সিদ্ধান্ত বলেই দাবি করেছিলেন তিনি৷ অথচ মঙ্গলবার সেই অবস্থান থেকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে দাঁড়ালেন চন্দ্রবাবু৷ প্রশ্ন তুললেন ৪০ দিন কেটে গেলেও এখনও কেন হয়রানির শিকার হতে হবে সাধারণ মানুষকে?

মঙ্গলবার বিজয়ওয়াড়াতে নিজ দলের বিধায়ক ও সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী তথা তেলুগু দিসম পার্টির নেতা চন্দ্রবাবু নাইডু৷ সেই বৈঠকেই তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের ডিমানিটাইজেশন নিয়ে সওয়াল করেন৷ বলেন, ‘‘কেন্দ্রের নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত আমাদের সকলের অজানা ছিল৷ অথচ ৪০ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত সেই সমস্যা থেকে বেরোতে পারছে না সরকার৷ এমনটা কেন হবে?’’ পাশাপাশি এদিন ১৯৮৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন৷ বলেন, ‘‘এর আগেও এই রাজ্যে (অবিভক্ত অন্ধ্রপ্রদেশ)এই রকমই এক সমস্যা দেখা দেয়৷ অথচ মাত্র ৩০ দিনের মধ্যেই সেই জট ছাড়িয়ে ফেলেছিলেন সেই সময়ের এনটি রামা রাওয়ের সরকার৷’’

গত আট নভেম্বর পুরনো ৫০০ ও ১০০০-এর নোট বাতিলের কথা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ তাঁর এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় সরব হন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী সহ একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা৷ ‘মোদীর তুঘলকি’ নির্দেশের যৌক্তিকতা নিয়ে লাগাতার তোপ দাগতে থাকেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালও৷ তবে মমতা বা কেজরিওয়াল কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলেও বিজেপি সরকার পাশে পেয়েছিল দুই রাজ্যের দুই মুখ্যমন্ত্রীকে৷ বিহারের নীতিশ কুমার ও অন্ধ্রপ্রদেশের চন্দ্রবাবু নাইডুকে৷ অথচ দিন কয়েক আগে আগের অবস্থান থেকে আংশিক সরে আসেন নীতিশ কুমার৷ প্রশ্ন তোলেন কেন এখনও সাধারণ মানুষকে হয়রানি থেকে অব্যাহতি দেওয়া গেল না? এবার সেই একই প্রশ্ন তুলে সরব অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীও৷ রাজনৈতিক মহলের আশঙ্কা, এবার মমতা বা কেজরিওয়ালের পথেই হাঁটতে পারেন নীতিশ ও চন্দ্রবাবুরা৷ এবং তা যদি সত্যিই হয়, তাহলে ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে বেগ পেতে হতে পারে নরেন্দ্র মোদী ও তাঁর দল বিজেপিকে৷

Advertisement
-----