শেখর দুবে, কলকাতা: সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে একের পর এক ওভার ব্রিজ, ফ্লাই ওভার তৈরি হয়েছে কলকাতা শহর জুড়ে। বেশ কিছু ব্রিজ তৈরির পথে। বাড়তে থাকা জনসংখ্যা আর ট্রাফিক জ্যামকে পাল্লা দিতে গিয়ে “ব্রিজ নগরী”র রূপ নিয়েছে কলকাতা।

এটা নিয়ে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। সমস্যা অন্য জায়গাতে শিয়ালদহ থেকে গড়িয়া, পোস্তা থেকে দক্ষিণেশ্বর কিংবা উল্টোডাঙ্গা-সল্টলেক ব্রিজের নীচেই সংসার পেতেছেন বহু মানুষ। ব্রিজের নীচে বেচা কেনা খাওয়াদাওয়ার একটা সমান্তরাল বাজার তো রয়েইছে অনেকে ব্রিজের ছাদকেই মাথা গোঁজার ঠাঁয় বানিয়ে নিয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুর নাগাদ ভেঙে পড়ে মাঝেরহাট ব্রিজ। কিন্তু অবাকভাবেই দেখা গেল মাঝেরহাট স্টেশনের খুব কাছে ব্রিজের যে অংশটি ভেঙে গিয়েছে তার ঠিক পাশেই ব্রিজের অন্য একটি অংশের নীচে সারি দিয়ে রয়েছে কয়েকটি দোকান।

Advertisement

তবে এগুলিকে শুধু দোকান বলা যায় না, এখানেই বসবাসও করেন দোকানের মালিকরা। দুর্ঘটনার পর অবশ্য এই দোকানগুলিতে থাকা লোকজনের দেখা পাওয়া গেল না। তবে মাঝেরহাট ব্রিজের নীচে থাকা ওই দোকানগুলিতে রান্না করা খাবার পড়ে রয়েছে। যাই বলে দিচ্ছি কয়েকঘন্টা আগেও এখানে মানুষ ছিল। যদি তারা স্বেচ্ছায় সরে গেছেন নাকি তাদের সরানো হয়েছে সে খবর জানা যায়নি।

কলকাতার অন্য একটি ব্যস্ততম ব্রিজ হল শিয়ালদহ বিদ্যাসাগর সেতু। যারা নীচে তো রীতিমত বাজার বসে। কী নেই সেখানে? লস্যি, লুচি তরকারির খাবার দোকান থেকে শুরু করে মোবাইল শপ, জামাকাপড়ের অনেকগুলি দোকানই রয়েছে শিয়ালদহ স্টেশন সংলগ্ন বিদ্যাসাগর সেতুর নীচে।

এই ব্রিজের নীচে দোকান করতে ভয় লাগে না? এই প্রশ্নের উত্তরে কলকাতা২৪x৭-কে শিয়ালদহ ব্রিজের নীচে থাকা এক লটারি দোকানের মালিক বলেন, “দেখুন আমরা এখানে প্রায় ২০ বছর ব্যবসা করছি। ব্রিজ ভাঙার খবর শুনলে ভয় তো লাগেই কিন্তু কী করব বলুন? উপায় নেই” এরকম উপায় হয়ত অনেকেরই নেই তাই বছরের পর বছর ব্রিজের নীচেই চলছে ব্যবসা এবং বসবাস।

শিয়ালদহ বিদ্যাপতি ব্রিজের নীচে আরও একটু এগিয়ে গেলেই সারি সারি কাপড়ের দোকান। ব্রিজের নীচের কাপড় ব্যবসায়ীদের একজন অবশ্য শিয়ালদহ ব্রিজের সামর্থ্যের উপরই ভরসসা রাখছেন, কলকাতা২৪x৭-কে বছর ৫০ এর এই কাপড় ব্যবসায়ী বলেন, “দেখুন আমি এখানে ৮বছর ব্যবসা করছি। এ ব্রিজ খুব শক্ত, সহজে ভাঙবে না।”

যাদবপুর, গড়িয়াহাট, ঢাকুরিয়ার মধ্যে যোগাযোগ রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ঢাকুরিয়া ওভার ব্রিজ। শেষ কয়েক বছরে বারে বারে ব্রিজের বিভিন্ন জায়গাতে ফাটল দেখা দিয়েছে। হয়েছে মেরামতির কাজও। কিন্তু তা সত্ত্বেও এই ব্রিজ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে মানুষের মনে। ঢাকুরিয়া ব্রিজের নীচেই রয়েছে পঞ্চননতলা বস্তির একটি অংশ। রয়েছে দোকান পাটও। পাশের বস্তিতে থাকা এক রিক্সা চালকের গলায় কিন্তু ধরা পড়ল উদ্বেগ। জানালেন, “এখান থেকেই রিক্সা চালাই। প্রতিদিন অনেকবার ব্রিজের তলা দিয়ে যাতায়াত করি, শুনছি ব্রিজ ভেঙে পড়ছে। তাই ভয় তো লাগছেই।”

২০১৩ সাল থেকে তিনটি ব্রিজের ভেঙে পড়া দেখল শহর কলকাতার মানুষ। ব্রিজ ভাঙা নিয়ে হতাশা ধরা পড়ল পথ চলতি সাধারণ মানুষের গলায়। ঢাকুরিয়া ব্রিজের এক জনৈক ব্যাক্তি বলেন, “দেখুন আর ভয় লাগে না। রোজই তো হয় এসব, অভ্যস্ত হয়ে গেছি।”

----
--