সোয়েতা ভট্টাচার্য, কলকাতা : বোনদের কখনও ভোলে না এই ভাইরা৷ তাহলে! ওই ভাইদের কীভাবে ভুলে থাকা যায় উৎসবের দিনে? কীভাবেই-বা এড়িয়ে যাওয়া যায় ভাইফোঁটা-র দিনেও! আর তাই, ভুলে থাকা তো নয়-ই৷ এড়িয়ে যাওয়াও নয়৷ বন্ধন দৃঢ় করতে ওই ভাইরাও নিল ভাইফোঁটা৷

তবে, ওই ভাইদের সকলেরই যে শুক্রবার এমন সৌভাগ্য হল, তাও আবার নয়৷ কেননা, ওই ভাইরাও পরিবারের সদস্য৷ কিন্তু, কোনও পরিবারে যেমন নেই কোনও বোন৷ তেমনই, কোনও পরিবারে আবার ওই ভাইদের জন্মদিন পালিত হলেও, মেলেনি ভাইফোঁটা! ওই ভাইরা আসলে সারমেয়৷ আর, এমনই এক ভাইকে ফোঁটা দিয়ে, কার্যত তাক লাগিয়ে দিয়েছে কলকাতার বাসিন্দারা৷ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকেও আলোড়ন৷ ওই সারমেয়র কাছে এ ভাবে ভাইফোঁটা প্রাপ্তি অবশ্য এই প্রথম নয়৷ আগেও কলকাতার ওই দুই বোনের কাছে দু’বার ভাইফোঁটা পেয়েছে ওই সারমেয়-ভাই৷

বে, ভাইফোঁটা, আর, শুকনো মুখ, তা কি হয়? কাজেই, বোনদের কাছে ভাইফোঁটা মেলার পর দিব্যি হল পেটপুজোও! উলটো ছবিও রয়েছে৷ এ ভাবে ভাইফোঁটা প্রাপ্তি যেন সকলেরই হয়৷ প্রার্থনা অনেকের৷

টালিগঞ্জের এক বাসিন্দা জানান, ”আমার সারমেয়র বয়েস পাঁচ বছর৷ প্রত্যকটি বছর এই ভাইকে আমার দুই ভাইদের সঙ্গে বসিয়ে ফোঁটা দিয়ে এসেছি৷ সেই মত আজও তাকে ভুলিনি৷ সে আমাদের পরিবারের সব থেকে প্রিয় সদস্য বলে কথা৷” ফোঁটার পাশাপাশি এই ভাইয়ের জন্য বাড়িতে বিশেষ ভোজ তৈরি কলেছে এই পরিবার৷ অন্যদিকে উত্তর কলকাতার চক্রবর্তি পরিবারেও সেই একই ছবি দেখা গেল৷

এই বাড়ির কর্তা জানান,”আমার কোনও ছেলে নেই৷ আমার ৮ বছরের মেয়ে প্রতি বছর আমাদের বাড়ির সারমেয় কে ফোঁটা দিয়ে এসেছে৷ এ বছরও এর ব্যতিক্রম কিছু ঘটেনি৷ শুধু তাই নয় তার এই ভাইয়ের জন্য আমার মেয়েকে প্রতি বছর আমাদের উপহারও কিনে দিতে হয়৷ সব রীতি মেনে এই বছরও সে তার ভাই কে ফোঁটা দিয়ে তার পর তার সামনে উপহারটি রেখেছে৷”

শুধু ফোঁটাই নয় সোশ্যাল মিডিয়াতে যে ভাবে প্রতিদিন নিজেদের আপডেট পোস্ট করে থাকেন সকলে ঠিক সেই প্রথা মেনে এই দিনেও নিজেদের সারমেয় ভাইদের নিয়ে অভিনব কায়দায় ফোঁটা দেওয়ার পর তাদের সঙ্গে ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলল শহরবাসী৷ ফোঁটার এও এক মাধুর্য৷

--
----
--