অভিযোগ থেকে নজর ঘোরাতেই তেজ বাহাদুরকে ‘মদ্যপ’ তকমা সেনাবাহিনীর?

নয়াদিল্লি:  দিনের পর দিন সীমান্তে হাড়ভাঙা খাটনি। এরপরেও ঠিক মতো জুটত না খাওয়ার। যা মিলত সেই খাওয়ারও মুখে তোলার মতো না। সেনাবাহিনীর এই ‘কালোদিক’ টা গোটা দেশের কাছে এক ভিডিও বার্তায় তুলে ধরেছেন বিএসফ জওয়ান তেজ বাহাদুর যাদব৷তাঁর এই ভিডিওবার্তা রীতিমত সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল। এমনকি, বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। ইতিমধ্যে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন রাজনাথ সিং। কিন্তু তদন্তের আগেই বিএসএফের তরফে তাঁকে মদ্যপ বলে ঘোষণা করে দেওয়া হল।

বিএসএফের তরফে আরও জানানো হয়েছে যে, তিনি একাধিক সময়ে  কমান্ডারের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছেন। এজন্যে বিএসএফ জওয়ান তেজ বাহাদুরের কোর্ট মার্শালও হয়েছিল । কিন্তু মানবিকতার খাতিরে তাঁকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয়।  যদিও তেজ বাহাদুর জানিয়েছেন, তিনি কোনও অন্যায় করেননি, শুধু তাঁর অধিকারের কথা জানিয়েছিলেন। এমনকি, ফেসবুকে এই ভিডিও পোস্ট করা ছাড়া তাঁর আর কোনও উপায় ছিল না বলেও জানিয়েছেন তেজ বাহাদুর। তবে সেনাবাহিনীর নিয়ম অনুযায়ী সেনার অভ্যন্তরেই এই অভিযোগ জানাতে পারতেন তিনি৷ কিন্তু বাধ্য হয়েই এই পথ বেছে নিতে হয়েছে তাঁকে৷ তবে তিনি জানান, দেশের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি কোনও সমঝোতা করেননি৷

কোনও নিয়মও ভাঙেননি৷ তিনি শুধু তাঁর মানবিক অধিকারের কথাটিই সামনে এনেছেন৷ এর আগে সিনিয়র কম্যান্ডারের দিকে বন্দুক তাক করার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে৷ সে কথা স্বীকার করে নিয়ে ওই জওয়ান জানিয়েছেন, তিনি তা করেছিলেন৷ তবে কেন তা করেছিলেন তাও জানা উচিত৷ সে কাজের জন্য সমস্ত শাস্তি মাথা পেতেও নিয়েছেন তিনি৷ তাঁর দাবি, তিনি বিএসএফ অলরাউন্ডার হিসেবে বহুবার পুরস্কৃত হয়েছেন৷ তা সত্ত্বেও কেন তিনি এ কাজ করেছেন সেটাও জানা উচিত৷ এই ভিডিও প্রকাশ হওয়ার পর তাঁর কী ইচ্ছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন পুরো বিষয়ের তদন্ত হোক৷ ইতিমধ্যেই সে নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।

Advertisement
---