ইসলামাবাদ: মনে আছে সেই বুদ্ধমূর্তি? তালিবান হামলায় জা গুড়িয়ে গিয়েছিল। গ্রেনেডের আঘাতে নিজেদের ভয়ঙ্কর শক্তি জানা ন দিয়েছিল তালিবানরা। সেই মূর্তিই আজ শান্তির গল্প বলছে পাকিস্তানের অশান্ত উপত্যকায়।

ঘটনার ১১ বছর ফের পুনরুদ্ধার করা হয়েছে সে স্থাপত্যকে। ইতালির একদল পুরাতত্ত্বাবিদ সেই কাজে সাহায্য করেছেন। হিংসা, দ্বেষ ভুলে যেতে এই মূর্তিকেই শান্তির প্রতীক করে তুলসি অশান্ত সোয়াত।

Advertisement

উত্তর পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সোয়াট উপত্যকায় রয়েছে সেই মূর্তি। একটি গ্রানাইট পাহাড়ের গায়ে খোদাই করা গৌতম বুদ্ধ। সেটিকেই বিস্ফোরণে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল তালিবানি জঙ্গিরা। সেদিনের কথা মনে করে বৌদ্ধ বিশেষজ্ঞ পারবেশ শাহীন বলেন, “সেদিন মনে হয়েছিল যেন ওরা আমার বাবাকে মেরে ফেলল। আমার সংস্কৃতি, আমার ইতিহাসকে মেরে ফেলেছিল ওরা। ” কিন্তু আজ তিনি এই বার্তাই দিতে চান যে, কোনও ব্যক্তির প্রতি ঘৃণা নেই, কোনও জাতির প্রতি বিদ্বেষ নেই।

গ্রামের পাহাড়ে গায়ে খোদাই করা মূর্তিতে পদ্মাসনে বসে রয়েছেন গৌতম বুদ্ধ। মূর্তি সপ্তম শতাব্দীতে তৈরি হয়েছিল। কিন্তু মাত্র ৯২ বছর আগে অর্থাৎ ১৯২৬ সালে এই বৌদ্ধ মূর্তির সন্ধান পান প্রত্নতাত্বিক স্যার ওরেল স্টিন৷ তারপর থেকেই মূর্তিটি নিয়ে বিস্তর গবেষনা হয়েছে।

তালিবানরা এই মূর্তি সহ্য করতে পারেনি। ধর্মীয় শাসনে কোনও মূর্তি থাকা বাঞ্ছনীয় নয় , এই যুক্তি তেই মূর্তিটি নষ্ট করেছিল তালিবানরা৷ প্রায় ২০ ফুট উপরে উঠে বিস্ফোরক লাগিয়েছিল তারা। কিন্তু সবকটি বিস্ফোরণ সফল না হওয়ায় মূর্তিটি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

২০১২ সালে মূর্তিটি পুনরুদ্ধারের কাজে হাত দেয় ইতালি। পুরনো অংশ বাঁচিয়ে মূর্তিটি নতুন করে ফুটিয়ে তুলতে কাজ শুরু হয়৷ আপাতত সেই কাজ শেষ। এবার মূর্তিটি জাদুঘরে রাখা হবে বলে খবর। গবেষণাগারে বিভিন্ন ছবি এবং থ্রি–ডি প্রযুক্তির সাহায্যে মূর্তিটিকে আগের রূপে ফিরিয়ে আনতে সফল হয়েছেন পুরাতত্ত্ববিজ্ঞানীরা। শাহীনের কথায়, “সেই মূর্তি এখন পাকিস্তানে ভালবাসা, শান্তি, ভ্রাতৃত্বের প্রতীক। “

----
--