সুমন গুণ: আজ বুদ্ধদেব বসুর জন্মদিন। বিত্ত ও ব্যঞ্জনাময় বুদ্ধদেব বসুর গদ্য পড়তে পড়তে আজ ভোর হল। বাংলা ভাষার দহন ও বহুস্বরের সর্বোত্তম মহলটি, রবীন্দ্রনাথের পরে যে বুদ্ধদেবেরই নির্মাণ, সেটা আবারও টের পেয়ে, সবিস্ময়ে, অল্প অঘ্রাণের এই ভোরে, বিভোর হয়ে আছি।

বুদ্ধদেব বসুর গদ্যকবিতা সম্পর্কে আমার বিশেষ উৎসাহ আছে। এই উৎসাহের সূত্র তাঁর ‘এলা-দি’ কবিতাটি। এমন সরল অথচ সচেতন, নিরাভরন আর উৎসুক, একান্ত কিন্তু অন্যমনস্ক কবিতাতেই বুদ্ধদেবের জোর চেনা যায়। শব্দের নিজস্ব মান ও মমতার প্রতিটি ঝলক টের পেতে পেতে এগোতে হয় এখানে, এমনকি গড়িয়ে-যাওয়া শব্দ ও নিশঃব্দের দামও মুহূর্তে মিটিয়ে দিতে হয়।

আরও পড়ুন: ‘এ-হাতের লেখা, ও-পায়ের গোল’, শুভ জন্মদিন সুকুমারাদোনা!

গোটা কবিতায় সৌন্দর্যের নিরুপদ্রব ঈশ্বরীর মতো বসে থাকেন এলা দি, গাছ থেকে শুকনো পাতার মতো, তাঁর ঠোঁট থেকে একটি-দুটি কথা ঝরে পড়ে অন্যমনস্ক হাওয়ায়। এলাদির ঘরের পর্দার, দেয়ালের, গাছের নানারঙের যে-আয়োজন, পড়তে পড়তে কিসলস্কির বর্ণবিহ্বল ছবিগুলোর কথা মনে পড়ে যায়।

সহজ আর ঈষৎ স্বীকারোক্তিমূলক ভঙ্গিতে, কোনও সমাধানের হাতছানি ছাড়াই কবি জানান :‘… এলাদির আলস্য একটি সুন্দর/ গাছের মতো ছড়িয়ে আছে, পাতায় পাতায় অজস্র আর সবুজ,/ রঙিন ফুল অনবরত ফুটে উঠছে, কিন্তু কখনো ফল ধরে না’।

আরও পড়ুন: সুনীলের নীরা এখন সোনাগাছিতে!

বুদ্ধদেব বসু যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগের জার্নালটিকে বিদ্যাচর্চার একটি সেরা আয়োজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছিলেন। এই সময়ের দুটি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগীয় পত্রিকার হতশ্রী নমুনা হাতে পেয়ে সেই সংখ্যাগুলোর কথা মনে পড়ে যায়। লেখকদের কথা বাদই দিচ্ছি, কলাচর্চার জ্যোতির্ময়তম নক্ষত্রদের লেখায় ভরা থাকত সেই জার্নালের বিভিন্ন সংখ্যা। কিন্তু বিন্যাস আর বিষয়ের মেধাবী সৌষ্ঠবের জন্যও সেগুলো বরণীয়।

লেখাই ছিল যাঁর ‘জীবনের প্রধান কাজ’, তাঁকে, এই আহত সুসময়ে, স্মরণ করি।

--
----
--