দামি থেকে সস্তার আবাসনে নজর সরাতে পারেখের পরামর্শ

মুম্বই: আবাসন তৈরি হলেও তা ফাঁকাই পড়ে আছে ৷ এমন পরিস্থিতিতে দাম কমিয়ে তা বিক্রি করে ব্যাংক ঋণ ঋণ শোধ করার কোনও উদ্যোগ নিচ্ছে না দেশের আবাসন নির্মাতা সংস্থাগুলি ৷ এদিকে ঋণ অনাদায়ী পড়ে থাকায় ব্যাংকগুলির উপর চাপ বাড়ছে৷ এমনই অভিযোগ তুলে আবাসন নির্মাতাদের সমালোচনা করলেন দেশের অগ্রণী গৃহঋণ প্রদানকারী সংস্থা এইচডিএফসির চেয়ারম্যান দীপক পারেখ৷ সংস্থার শেয়ারহোল্ডারদের কাছে পাঠানো নিউজলেটারে পারেখ দেশের আবাসন নির্মাণ সংস্থাগুলির কঠোর সমালোচনা করেছেন৷ তিনি জানান , নির্মাণ সংস্থাগুলির হাতে অবিক্রিত আবাসনের পরিমাণ ক্রমাগত বৃদ্ধি পেলেও তারা দাম কমাতে রাজী হচ্ছে না ৷ এদিকে অতিরিক্ত দামের জন্য ক্রেতারা আবাসন কিনতে চাইছে না৷ এরই জেরে , নির্মাণ সংস্থাগুলি দেশের ব্যাংক এবং গৃহঋণ সংস্থাগুলি থেকে আবাসন প্রকল্পের জন্য যে ঋণ নিয়েছিল তা শোধ করতে পারছে না৷ তাছাড়া নির্মাণ সংস্থাগুলিকে বিলাসবহুল দামি আবাসন তৈরি করা থেকে নজর সরিয়ে সাধারণের জন্য সস্তার আবাসন তৈরির উপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন পারেখ৷ তাঁর মতে, ‘অ্যাফর্ডেবল হাউজিং ক্ষেত্রে আবাসনের বিপুল চাহিদা রয়েছে৷ ’ এরফলে দেশের আবাসন সংস্থাগুলির অনাদায়ী ঋণের বোঝা ক্রমেই বাড়ছে বলে এইচডিএফসি কর্তার ধারণা৷ ‘নির্মাণ সংস্থাগুলি অনেক সময় সরকারি আধিকারিকদের ঘুষ দিয়ে নিয়ম লঙ্ঘণ করার চেষ্টা করে বলেই প্রকল্প শেষ হতে দেরি হয়৷ এই ধরনের বেআইনি কার্যকলাপ সকলের পক্ষেই ক্ষতিকর৷ ’ আবাসন তৈরির ক্ষেত্রে নির্মাণ সংস্থাগুলিকে সঠিক নিয়ম মেনে চলার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি৷
তবে পারেখের এই সমালোচনা উড়িয়ে দিয়েছেন আবাসন সংস্থাগুলির সংগঠন ক্রেডাইয়ের ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট গীতাম্বর আনন্দ৷ তাঁর মতে, দেশে অত্যন্ত দামি আবাসনের সংখ্যা খুবই কম৷ মুম্বইয়ের মতো মেট্রো শহরগুলিতেও শুধুমাত্র এ ধরনের আবাসন গড়ে তোলা হচ্ছে৷ দেশের বাকি অংশে আবাসনের দাম প্রতি বর্গফুট ৩ ,৫০০ টাকা থেকে ৫ ,০০০ টাকার মধ্যে , যা বাস্তবসম্মত বলে দাবি তাঁর৷ পাশাপাশি যুক্তি দেখান, নির্মাণ খরচ এবং সুদ বাবদ খরচ বেড়ে যাওয়ায় আবাসনের দাম কমানোর কোনও জায়গাই নেই ৷

Advertisement ---
-----