বর্ধমান: টেনিদার সেই চারমূর্তি ছবির গল্পের মতোই এই ভণ্ড সাধুর গল্প। জাল নোটের কারবারে জড়িত থাকায় গ্রেফতার হল এক সাধু। ভণ্ড ওই সাধুকে  গ্রেফতার করেছে বর্ধমান থানার পুলিশ। বর্ধমান থানা এলাকার মাহিনগরের বাসিন্দা ধৃত ওই সাধুর নাম শ্যামাপ্রসাদ চক্রবর্তী ওরফে মুকুলানন্দ ব্রহ্মচারী। স্বর্ণ ব্যবসায়ী জগন্নাথ দে’র “গুরু” শ্যামাপ্রসাদকে বুধবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বর্ধমান থানায় নিয়ে নিয়ে যায়। শুক্রবার তাকে পুলিশি হেপাজতে থাকা জগন্নাথ দে-র মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করেন মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সৌমিক সেনগুপ্ত।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে বিহার এবং আশপাশের কয়েকটি জেলা থেকে জাল নোট সংগ্রহ করে তা সাধুর শ্মশানকালীর মন্দিরের আশ্রমে মজুত করা হত। সেখান থেকেই তা জেলার বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ত বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশের জেরায় ভেঙে পরেই তার এই কাজের কথা স্বীকার করে নেয় সাধু শ্যামাপদ। এরপরেই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। শনিবার ধৃতকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়। জাল নোটের কারবারের বিষয়ে বিশদে জানতে ধৃতকে ১০ দিন নিজেদের হেপাজতে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন জানায় পুলিশ।

Advertisement

আসলে এর পিছনে ছিল একটি বড় চক্র। সোমবার সন্ধ্যায় বর্ধমান স্টেশন এলাকা থেকে ৮ টি ৫০০ টাকার জাল নোট সহ শেখ মণিরুল ওরফে রোমিওকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বর্ধমান শহরের স্বর্ণ ব্যবসায়ী তথা ভারতমাতা সংঘের সম্পাদক জগন্নাথ দে’র জাল নোটের কারবারে জড়িত থাকার বিষয়ে জানতে পারে পুলিশ। সঙ্গে সঙ্গেই ওই দুজনকে তাদের হেফাজতে নেয় পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে শেখ শারুক ও মঙ্গল মল্লিক নামে আরও দুই যুবককে পুলিশ গ্রেফতার করে। এই চার জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই জাল নোটের কারবারে মাহিনগর আশ্রমের সাধুর জড়িত থাকার বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য পায় পুলিশ। ধৃত চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে শ্যামাপ্রসাদের আশ্রম থেকেই কয়েক বছর ধরে জাল নোটের কারবারিরা এই কাজ চালাচ্ছে। বিহার এবং পার্শ্ববতী বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও মালদহ থেকে জাল নোট এনে বিভিন্ন জায়গায় পাচার করেছে কারবারিরা। সন্ধ্যার পর থেকেই আশ্রমে বিভিন্ন অপরিচিত ব্যক্তিদের আনাগোনা ছিল বলে তদন্তে নেমে জানতে পারে পুলিশ। সাধু শ্যামাপ্রসাদ এবং জগন্নাথই জাল নোটের কারবারের মূল পাণ্ডা বলে পুলিশের দাবি।  জাল নোটের এই কারবারে শহরের আরও দুই স্বর্ণ ব্যবসায়ীর নাম পেয়েছে পুলিশ। তাদের ধরতে পুলিশ শুক্রবার তল্লাশি চলছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত সেখ শারুক এবং মঙ্গল মল্লিক দুজনেই গরু বেচা কেনার সঙ্গেও যুক্ত। বর্ধমান সহ পার্শ্ববর্তী জেলার বিভিন্ন গরুর হাট-কেই জাল নোট কারবারের টার্গেট হিসাবে নিয়েছিল এই চক্রটি। তদন্তে ধৃত স্বর্ণ ব্যবসায়ী এবং সাধুর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও সম্পত্তির বিষয়ে খোঁজখবর চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

----
--