স্টাফ রিপোর্টার, পূর্ব বর্ধমান: ফের চিকিৎসায় গাফিলতিতে গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগে উত্তাল বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল৷ হাসপাতালের চিকিৎসক, সুপার, জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ও জেলা কালেক্টরের কাছে ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে আসানসোলে রাজ্য ক্রেতা আদালতের সার্কিট বেঞ্চে মামলা করে মৃতার স্বামী৷ পাশাপাশি মামলা খরচ বাবদ আরও ২০হাজার টাকাও দাবি করা হয়েছে৷

সূত্র অনুযায়ী, বর্ধমান শহরের বিধানপল্লির পালপাড়ার বাসিন্দা বিষ্ণু চক্রবর্তীর স্ত্রী রিম্পা চক্রবর্তী (৩০) প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে গত বছরের ১৭ জুলাই বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। এর পরেরদিন প্রসব যন্ত্রণা বেড়ে যায়, যে কারণে তার পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসককে সিজার করার কথা বলে৷ কিন্তু, চিকিৎসক তা করেন নি। এরপর যন্ত্রণা আরও বাড়লে চিকিৎসককে ফের জানানো হয়। অভিযোগ, সেই সময় চিকিৎসক মোবাইলে কথা বলছিলেন, শুধু তাই নয়, রিম্পা তার যন্ত্রণার কথা বললে তাকে মারধর পর্যন্ত করা হয়। গভীর রাতে তিনি মারা যান।

পড়ুন: HIV আক্রান্ত রোগী ফিরিয়ে দিল রায়গঞ্জ হাসপাতাল

জানা গিয়েছে, এ বিষয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে অভিযোগ জানিয়েছেন বিষ্ণু চক্রবর্তী। অভিযোগের ভিত্তিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তদন্তে নামে। যদিও সেই তদন্ত নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে মৃতার পরিবারে। তাদের অভিযোগ, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আড়াল করা হয়েছে তদন্ত রিপোর্টে। আদালতে মৃতার স্বামী অভিযোগ করেন, চিকিৎসায় গাফিলতির জন্যই প্রসূতি এবং গর্ভস্থ সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। এরপরেই আসানসোলে রাজ্য ক্রেতা আদালতের সার্কিট বেঞ্চে মামলা করেন মৃতার স্বামী৷

মামলাকারীদের পক্ষের আইনজীবী শান্তিরঞ্জন হাজরা জানান, বিষ্ণু চক্রবর্তী-রিম্পা চক্রবর্তীর সাত বছরের এক মেয়ে রয়েছে৷ রিম্পা দেবীর মৃত্যু তার পরিবারের কাছে অত্যন্ত কষ্টের৷ যেহেতু চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ রয়েছে তাই ২৫ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। সরকারি হাসপাতাল হলেও সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের উল্লেখ করে মামলাটি গ্রহণ করেছে ক্রেতা আদালত।

তবে, হাসপাতালের সুপার ডাঃ উৎপল দাঁ জানান, আদালতের নির্দেশের কপি পাননি। আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

----
--