ডেঙ্গু রুখতে প্রশাসনের ‘আইপিএল’

স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: মশাবাহিত রোগ ঠেকাতে এখনই অভিযান শুরু করে দিল বর্ধমান পুরসভা৷ মঙ্গলবার ওই পুরসভার তরফে পুর এলাকার পুকুরগুলিতে গাপ্পি, গাম্বুজ এবং তেচোখো মাছ ছাড়া হল ওই পুরসভার তরফে৷ এদিন বর্ধমান শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রায় ৪০ হাজার মাছ ছাড়া হয়৷

গত দু’-তিন বছরে বর্ষা এলেই ডেঙ্গু প্রকোপে জেরবার হতে হয় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে প্রশাসন৷ ফলে এখন বর্ষা এলেই প্রশাসন মশাবাহিত রোগ নিয়ে সতর্ক হয়ে যায় প্রশাসন৷ কিন্তু এখন ডেঙ্গু বা মশাবাহিত রোগের কোনও আশঙ্কা নেই বলে বিশেষজ্ঞদের দাবি৷

আরও পড়ুন: শীতের আগে আলুর দাম কমার সম্ভাবনা দেখছেন না ব্যবসায়ীরা

তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, কেন এত তাড়াতাড়ি এমন একটা পদক্ষেপ নিল বর্ধমান পুরসভা? এদিন এই কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে অবশ্য এই প্রশ্নের উত্তর মিলেছে বর্ধমানের পুরপ্রধান স্বরূপ দত্তর গলায়৷ তিনি বলেছেন, ‘‘এখনও সেই অর্থে ডেঙ্গুর সময় নয়। কিন্তু ইতিমধ্যেই ডেঙ্গু ব্যাটিং শুরু করে দিয়েছে। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে বর্ধমান পুরসভাও অলআউট আইপিএল ম্যাচ শুরু করে দিয়েছে।’’

কীভাবে হচ্ছে এই অলআউট আইপিএল ম্যাচ, তার ব্যাখ্যাও মিলেছে স্বরূপবাবুর কাছ থেকে৷ তিনি বলেছেন, ‘‘প্রতিটি বাড়ি বাড়ি পুরসভা কড়া নাড়ছে। জমা জল বের করে দেওয়া হচ্ছে৷ এর সঙ্গে বড় বড় হাইড্রেন এবং মশার আঁতুরঘর নোংরা জমা জলে এলাকায় এই মাছ ছাড়া হয়েছে। একদিকে মশা মারতে কামান দাগা, অন্যদিকে বায়োলজিক্যাল পদ্ধতিতে এই মশার বংশ নির্বংশ করার জন্য মাছ ছাড়ার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এখনও পর্যন্ত বর্ধমান পুর এলাকায় মোট তিন জনের রক্তে ডেঙ্গু পাওয়া গিয়েছে। তাই তাঁরাও সতর্ক রয়েছেন।’’

আরও পড়ুন: সুধা বালাকৃষ্ণন রিজার্ভ ব্যাংকের প্রথম সিএফও

তবে শুধু পুরসভা এলাকা নয়, জেলার অন্যত্রও এই কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে৷ সেকথাই জানিয়েছেন জেলা মৎস্য দফতরের আধিকারিক সুব্রত রায়৷ তিনি বলেছেন, ‘‘গোটা জেলা জুড়ে ২৩টি ব্লক এবং ৬টি পুরসভা এলাকাতেই এই গাপ্পি মাছ ছাড়া হচ্ছে। পুর এলাকায় ৪০ হাজার এবং প্রতিটি ব্লকে ২০ হাজার করে মাছ ছাড়া হবে। মোট প্রায় তিন লক্ষ মাছ ছাড়া হচ্ছে।’’

অন্যদিকে, বর্ধমান জেলা ডেপুটি মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুনেত্রা মজুমদার জানিয়েছেন, গত তিন মাস তথা মে মাস পর্যন্ত গোটা জেলায় মোট ৬৪ জনের রক্তে ডেঙ্গু পজিটিভ পাওয়া গিয়েছে। গতবছর এই সময়ে ৩০০ জনের রক্ত পরীক্ষা করে ১৫টি পজিটিভ পাওয়া গিয়েছিল। এবারে এখনও পর্যন্ত ১২০০ রক্ত পরীক্ষা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ধুমধাম করে পালিত হল সাংবাদিক দিবস

তিনি বলেছেন, ‘‘পরিসংখ্যান অনুসারে এখনও পর্যন্ত কাটোয়া মহকুমা এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যাই বেশি। তবে গত বছরের থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আমরা অনেক আগে থেকেই ডেঙ্গু প্রতিরোধে নেমেছি। সরকারি হিসাবে গত বছর গলসি-১ নম্বর ব্লকে মাত্র একজনের ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছিল। এবার আমরা অনেকটাই সচেতন।’’

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলাশাসকের নির্দেশে প্রতি ১৫ দিন অন্তর সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিকদের নিয়ে তাঁরা বৈঠক করছেন। কোথায় কোথায় জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, কেন বাড়ছে, কীভাবে প্রতিরোধ করা যায় প্রভৃতি নানা প্রকার বিষয় নিয়ে আলোচনা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: অভিভাবকদের জন্য কাউন্সেলিং সেল জেভিয়ার্স কলেজে