কমিশন প্রথা: সরকারের বিরোধিতা করতে প্রস্তুতি বাস সংগঠনগুলির

দেবযানী সরকার, কলকাতা: বাসের রেষারেষি বন্ধ করতে কমিশন প্রথা তুলে দিয়ে বেতন ব্যবস্থা চালু করতে চায় রাজ্যের পরিবহন দফতর৷ সেই বিষয়েই বুধবার নিজেদের মধ্যে ঘরোয়া বৈঠকে বসছে রাজ্যের বাস মালিক সংগঠনগুলির একটা বড় অংশ৷ বেতন বাধ্যতামূলক করলে তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, মূলত তা নিয়ে এই বৈঠক৷ এব্যাপারে রাজ্য সরকারের গাইডলাইন চাইছে তারা৷

বাস মালিক সংগঠনগুলির কাছে কমিশন প্রথা তুলে দিয়ে বেতন চালু করার প্রস্তাব দিয়েছেন পরিবহণ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারিভাবে কিছু না জানালেও সূত্রের খবর, অগাস্ট মাস থেকে রাজ্যের বেসরকারি বাসচালক এবং কনডাক্টরদের জন্য মাসিক বেতন চালু হতে চলেছে। তবে মালিকপক্ষের উপরই বেতন কাঠামো ঠিক করার ভার দিয়েছে পরিবহন দফতর। মন্ত্রীর এই প্রস্তাবে সায় নেই বাস মালিকদের সংগঠনের একটা বড় অংশের৷ এদের মধ্যে রয়েছে জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেট, মিনিবাস অপারেটরস কো-অর্ডিনেশন কমিটি ও হাওড়া বাস-মিনিবাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন৷ বেতন বাধ্যতামূলক করলে তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা আলোচনা করে বুধবার দুপুরে তিনটে সংগঠন নিজেদের মধ্যে বৈঠকে বসছে৷

জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেটের সাধারন সম্পাদক তপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমরা ইতিমধ্যে জেলায় জেলার বৈঠক করেছি৷ আগামীকাল কলকাতায় বৈঠক হবে৷ আমরা চাই কীভাবে কমিশন প্রথা তুলে বেতন প্রথা চালু করব সরকার তার গাইড লাইন দিক। সরকার ভাড়া ঠিক করে দেয়। ইউনিয়ন শ্রমিক দেয়। এই শ্রমিকরা মানবে কী না? কত সময় ধরে গাড়ি চলবে? এসব ঠিক করার ব্যাপার আছে। আমরা মনে করি, এসব ঠিক না করে বেতন ব্যবস্থা সরকার চাপিয়ে দিলে পরিবহন ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে৷”

- Advertisement -

ক্ষুব্ধ তপনবাবুর বক্তব্য, “সরকরি বাসে ১২০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়। আমাদের লোকসান হলে ৪২,০০০ গাড়ির ভর্তুকি কে দেবে? ব্যবসা লাটে উঠে যাবে। সরকার আবেগ নিয়ে চলছে। কোনও সচেতনতা বাড়াব না, পরিকাঠামো থাকবে না, তা হতে পারে না।”

মিনিবাস অপারেটরস কো-অর্ডিনেশন কমিটির পক্ষ থেকে প্রদীপ নারায়ণ বোস বলেন, “প্রথমত সরকারিভাবে আমাদের এখনও কিছু এব্যাপারে জানানো হয়নি৷ আমরা সবটাই সংবাদমাধ্যমে জানতে পেরেছি৷ বেতন চালু করার ব্যপারাটা সরকার যদি চাপিয়ে দেয় তাহলে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ কী করব তা নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করব৷ মাইনে চালু করলে কোথায় কোথায় অসুবিধা হবে তার একটা নথিও আমরা তৈরি করব৷ পরবর্তীকালে এব্যাপারে সরকার আমাদের আলোচনায় ডাকলে যাতে আমরা সেইসব নথি তাদের হাতে তুলে দিতে পারি৷”

১৯৯০ সালে বাম আমলেও একবার কমিশন তুলে দেওয়ার কথা উঠেছিল। কিন্তু অনেক আলোচনার পর পিছু হটতে হয়েছিল রাজ্য সরকারকে। কলকাতা, উত্তর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া ও হুগলী, এই পাঁচ জেলায় এখনও পর্যন্ত কমিশন প্রথা চালু রয়েছে। এবার তৃণমূল পরিচালিত সরকারও কমিশন প্রথা তুলে তৎপর৷ শেষপর্যন্ত সেটা কার্যকর হয় কিনা সেটা সময়ই বলবে৷

Advertisement
---