মন্ত্রিসভায় পাশ হল রিয়েল এস্টেট নিয়ন্ত্রণ বিল

নয়াদিল্লি: অবশেষে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় মঞ্জুর হল রিয়েল এস্টেট নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন বিল। নয়া বিলটি রূপায়িত হয়েছে মূলত মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের কথা মাথায় রেখে। শুধু তাই নয়, এই বিল আনার একটি বড় লক্ষ্য হল, কালো টাকার বাড়বাড়ন্ত রোধ। এই বিল আনতে গিয়ে নরেন্দ্র মোদী সরকারকে কম কাঠখড় পোড়াতে হয়নি। গত ডিসেম্বরে এই বিল একবার মন্ত্রিসভায় উত্থাপিত হয়েছিল, কিন্তু সেবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি তা পাশ করাতে ব্যর্থ হন। কিন্তু এইবার তাঁরা উভয়েই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন এই বিলটি পাশ করানোর ব্যাপারে। নতুন বিল আনার একটি বড় উদ্দেশ্য ছিল এই যে, বিভিন্ন শহরেই নতুন আবাসন ও অ্যাপার্টমেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে রিয়েলটার, প্রমোটার এবং বিল্ডারদের ক্রমাগত বেআইনি তৎপরতা সরকারের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। শুধু বেআইনি নির্মাণই নয়, সেইসঙ্গে কালো টাকার অবাধ কারবার ও তার সঙ্গে ডি-কোম্পানির মতো মাফিয়া চক্রের যোগসাজশও সরকারকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছিল। তার উপর ফ্ল্যাট ক্রেতাদের অজস্র অভিযোগ তো রয়েইছে। তা সে নির্মাণের গুণগত মান নিয়েই হোক, ফ্ল্যাটের প্রকৃত মাপ নিয়েই হোক, কিংবা আইনি ফ্যাসাদে পড়া নিয়েই হোক। এছাড়া ক্রেতাদের আরও একটি বড় অভিযোগ রয়েছে যে, সময়মতো তাঁদের হাতে ফ্ল্যাটের চাবি তুলে দেওয়া হয় না।

ইউপিএ জমানায় মহারাষ্ট্রে একটি রিয়েল এস্টেট নিয়ন্ত্রণ বিধি গৃহীত হয়। সেই একই বিধি কেন্দ্রীয় স্তরেও পাশ হয়েছিল। এই বিধি অনুসারে বিভিন্ন শহরে, বিশেষ করে মুম্বই সহ মহারাষ্ট্রের একাধিক নগরে রিয়েল এস্টেটের কারবার মারাত্মক ফুলেফেঁপে ওঠে। সেই কারবারের বাড়া ভাতে ছাই দিতেই বলা চলে এই নয়া বিল পাশ। মোদী-জেটলি জোড়া ফলায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় রিয়েল এস্টেট রেগুলেটরি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিল পাশ হওয়ার পর ফড়নবিশের মহারাষ্ট্র প্রশাসন পুরানো বিলটি বাতিল করে কি না, সেটাই এখন কোটি টাকার প্রশ্ন।

Advertisement
---