খুনের মামলায়, সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: হুগলির এক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির খুনের মামলায়, সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। একইসঙ্গে মঙ্গলবারে এই মামলার শুনানির পর হুগলি গ্রামীণ পুলিশ সুপারকে নতুন ভাবে মামলা নথিভুক্ত করে প্রাথমিক তদন্তের রিপোর্ট সিআইডির হাতে তুলে দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে বিচারপতি রাজশেখর মন্থার সিঙ্গল বেঞ্চ।

এছাড়াও ওই মানসিক প্রতিবন্ধীর জমি-বাড়ি দেখাশুনার ভার জেলাশাসকের অধীনে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷ এরই পাশাপাশি, জেলাশাসক, ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতর এবং সিআইডিকে এই মামলায় যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

আগামী একমাসের মধ্যে সমস্ত তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ করে সিআইডিকে রিপোর্ট পেশের নির্দেশ দিয়েছে সিঙ্গল বেঞ্চ। এদিন মামলা চলাকালীন মামলাকারির পক্ষের আইনজীবী জয়ন্ত নারায়ণ চট্টোপাধ্যায় ও তীর্থঙ্কর দে আদালতে এই মামলার সঠিকভাবে তদন্ত করার আবেদন জানান৷ এরই সঙ্গে সিআইডি তদন্তেরও দাবি জানানো হয়৷

এদিন পুলিশি তদন্তের রিপোর্ট দেখে অসন্তুষ্ট বিচারপতি পুলিশকে প্রশ্ন করেন এই মামলায় একজন অভিযুক্তের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে অথচ বাকি অভিযুক্তদের নাম এতে নেই কেন? এপ্রশ্নের কোনও সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেনি পুলিশ।

এরপরেই ক্ষুব্ধ বিচারপতি হুগলির গ্রামীণ পুলিশ সুপারকে চন্ডীতলা থানার তদন্তকারি আধিকারিক-সহ তদন্তে জড়িত পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধ বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন।

মামলার বয়ান অনুযায়ী, হুগলির চন্ডীতলা থানা এলাকায় হেড়িয়াদহ গ্রামের নিজের বাড়িতে কার্তিক ও নন্দরানী কোলে নামের মানসিক প্রতিবন্ধী ভাই-বোন থাকতেন। ২০১৬-র ৩ জুলাই কার্তিকবাবুকে তার মামা হারাধন দে ও তাঁর তিন ছেলে মিলে অ্যাম্বুল্যান্সে তুলে নিয়ে যান। তারপর থেকে কার্তিকবাবুর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ ওঠে এরপর মামা হারাধন দে কার্তিকের সম্পত্তি সাড়ে তিন লক্ষ টাকায় মানিক নষ্কর নামের একজনকে বিক্রি করে দেয়। বেশ কিছুদিন ধরে কার্তিক কোলেকে দেখতে না পেয়ে সন্দেহ হয় পড়শি কার্তিক দাসের। তিনি নন্দরানী দেবীর কাছ থেকে জানতে পারেন কার্তিককে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
২০১৭ র ৩০ আগস্ট চন্ডীতলা থানায় এফআইআর করতে গেলে প্রতিবেশিদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। একই দিনে হুগলির গ্রামীণ এসপিকে চিঠি দিয়ে অভিযোগ করা হলেও কোনও সুরাহা হয়নি বলে অভিযোগ।

এরপর সেই বছরের সেপ্টেম্বরে নিম্ন আদালতের নির্দেশে পুলিশ ৬ অক্টোবর এফআইআর দায়ের করে। কিন্তু তদন্তের অগ্রগতি না হওয়ায় ২০১৮র জানুয়ারিতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন কার্তিক দাস। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিচারপতি দেবাংশু বসাক চন্ডীতলা থানাকে তদন্তের রিপোর্ট পেশের নির্দেশ দেন। এদিন সেই রিপোর্ট আদালতে পেশ করে পুলিশ ।

----
-----