দাদাদের হারের বদলা নেওয়ার সুযোগ ভাইদের সামনে

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: দেড় দশক পর আরও একবার হাতের সামনে সুবর্ণসুযোগ বদলা নেওয়ার। সামনে সেই অস্ট্রেলিয়া। তাদের হারিয়ে আরও একবার মধুর প্রতিশোধ নিতে চাইবে পৃথ্বী শা, শুভমন গিলরা।

২০০৩ বিশ্বকাপ ফাইনাল। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক পন্টিংয়ের চওড়া ব্যাট শুইয়ে দিয়েছিল ভারতকে। তারপর কেটেছে ১৫টা বছর। ছোটদের হলেও বিশ্বকাপ ফাইনালের মঞ্চ। সেখানে আরও একবার সুযোগ ‘ক্যাঙ্গারু মেরে’ সেদিনের হারের বদলা নেওয়ার৷ গরম করে নেওয়ার।

আরও পড়ুন: বিরাটকে চিতার সঙ্গে তুলনা করলেন শোয়েব

- Advertisement -

ওয়ান্ডারার্স ২৩ মার্চ। কী হারটাই না হেরেছিল ‘দাদা’র ভারত! ১৫ বছর পর নিউজিল্যান্ডের মাঠে সেই দেশের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ ফাইনালে আরও একবার মুখোমুখি ‘দাদা’র ভাইয়েরা। সুযোগ বদলা নেওয়ার। সেদিন প্রথম ওভারের প্রথম বলই অশনি সঙ্কেত দিয়েছিল। বিশাল ওয়াইড বল বাউন্ডারি পৌঁছে গিয়েছিল। উইকেট কিপারের দস্তানা হাতে ছিলেন রাহুল দ্রাবিড়, যিনি আজকের ভাইদের কোচ হয়ে এসেছেন। তিনি জানেন বিশ্বকাপ ফাইনালের মঞ্চটা কেমন।

ঠিক কেমন চাপ থাকে মনের উপর, বিশেষ করে একজন ভারতীয় হলে সেই চাপ কোটি গুণ বেড়ে যায়। সেই চাপ সামলাতে পারেননি সচিন, সৌরভ, দ্রাবিড়, জাহির, শ্রীনাথ সমৃদ্ধ ‘টিম ইন্ডিয়া’। কিন্তু সেটা শেখার দিন ছিল। ফল হেডেন, গিলি, পন্টিংদের ঠ্যাঙানি। সেই ফাইনাল হারের পাল্টা মার দেওয়ার সুযোগ আজ। কোচ দ্রাবিড়ও চাইবেন আজ হাতের সুখ মিটিয়ে নিতে কারণ চিরট্র্যাজিক নায়কের আর বিশ্বকাপ ফাইনালের খেলার সুযোগ হয়নি।

আরও পড়ুন: বিশ্বকাপ ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার জন্য গলা ফাটাবেন হরভজন

২০০৩ এর বিশ্বকাপের মতোই এবারে বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বার দেখা হচ্ছে ভারত-অস্ট্রেলিয়ার। ১৫ বছর আগের গ্রুপ ম্যাচেও বলতে গেলে উলঙ্গ করে হারিয়েছিল অজিরা। এবারে সেই পাশা আগেই পালটে দিয়েছে পৃথ্বীরা। স্টিভ ওয়ে পুত্র সমৃদ্ধ অজিদের একেবারে নাকানিচোপানি খাইয়ে ছেড়েছে নাগারকোটিরা। সেই হার থেকে বেরিয়ে এসে অস্ট্রেলিয়া ফাইনালে পৌঁছেছে ভারতের আগেই।

আর ফাইনালের মঞ্চ অন্য রকম হয়। যা হয়েছে সব ভুলে আবার শূন্য থেকে শুরু করার দিন। কাজেই অজিদের গ্রুপ ষ্টেজে হারানো বা হেলায় পাক জয় ভুলেই আজ মাঠে নামতে হবে ভারতকে। আহত অস্ট্রেলিয়া বাঘের থেকেও ভয়ঙ্কর। সেটা জানেন রাহুল দ্রাবিড়। তিনি তাঁর পেপ টকে যে অতীত ভুলে বর্তমানের কথা ভাবতে বলবেন তা বলাই যায়। আবার তিনি এও জানেন এটা সবে শুরু। এদের আরও অনেক পথ যেতে হবে। অনেক চাপ নেওয়ার বাকি।

আরও পড়ুন: পরিস্থিতির চাপে ‘সর্দারজী’ সাজলেন সৌরভ

ক্রিকেট নিয়ে সেই আবেগ তুলনামূলক কম। তবু দেশ যখন বিশ্বের মঞ্চে সেরার হওয়ার জন্য লড়ে শত কষ্টেও ভোরবেলা একবার হলেও টিভির সামনে বসবে ভারতবাসী। এখন আবার ইন্টারনেটের যুগ। হালকা শীতে কম্বল থেকে বেরোতে না ইচ্ছা করলে হাতে মোবাইল রয়েছে। ‘ডিজিটাল’ ভারতবাসী অনলাইন লাইভ খেলা দেখে নিতে পারে। আসলে ক্রিকেট প্রেমটা ভারতের রন্ধ্রে রন্ধ্রে রয়েছে। তাই তো আজও ২০১১ বিশ্বকাপ ফাইনালে মহেন্দ্র সিং ধোনির সেই কাপ জেতানো ছক্কা দেখলে আজও গায়ে কাঁটা দেয়। শনিবারের বারবেলায় চতুর্থবার অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ কাপ জয়ের সুযোগ। সেই জয় যদি বদলার হয়? তবে তাই হোক।

আরও পড়ুন: অল্পের জন্য যুবিকে ছোঁয়া হল না ‘অবিক্রিত’ ক্রিকেটারের

Advertisement
---