‘ক্যানসারে’ আক্রান্ত বাংলার গণতন্ত্র?‘ ওষুধ’ খুঁজছেন বিদ্বজ্জনরা

বিশ্বজিৎ ঘোষ, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের গণতন্ত্র কি ‘ক্যানসারে’ আক্রান্ত? না, ‘টাইফয়েড জ্বরে’ আক্রান্ত? না কি, অন্য কোনও ‘রোগে’ আক্রান্ত? তবে, যে ‘রোগে’ আক্রান্তই হোক না কেন, তা খুঁজে বের করবেন এ রাজ্যের পরিবর্তনপন্থী বিদ্বজ্জনরা৷ এবং, শুধুমাত্র ‘রোগ’ খোঁজাও নয়৷ নিরাময়ের জন্য ‘ওষুধ’ও দেবেন তাঁরা৷

পশ্চিমবঙ্গে ২০১৮-র ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে, এর আগে কখনও এমন হয়নি বলে জানিয়েছে এই বিদ্বজ্জনদের সংগঠন শিল্পী সাংস্কৃতিক কর্মী বুদ্ধিজীবী মঞ্চ৷ যে কারণে, বাংলার গণতন্ত্র কোন ‘রোগে’ আক্রান্ত, তা এ বার খুঁজে বের করতে চাইছে এই মঞ্চ৷ আর, তারই জেরে পাঁচ জুলাই, বৃহস্পতিবার মৌলালি যুবকেন্দ্রে বহুমাত্রিক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে বিদ্বজ্জনদের এই সংগঠন৷

কেন বহুমাত্রিক? তার কারণ হিসাবে এই মঞ্চের তরফে এমনই জানানো হয়েছে, এ রাজ্যের গণতন্ত্র আক্রান্ত৷ কীভাবে গণতন্ত্রকে রক্ষা করে এর বিস্তার ঘটানো যায়, তার জন্য বিভিন্ন দিকের উপর আলোচনা হবে৷ সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামকাণ্ডের পরে এই মঞ্চের তরফেই পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তনের জন্য জোরদার ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন বিদ্বজ্জনরা৷ ২০১১-য় ‘পরিবর্তনে’র সরকার গঠিত হওয়ার আগে থেকেই অবশ্য এই মঞ্চের কোনও কোনও বিদ্বজ্জন তৃণমূল কংগ্রেসের হিসাবে পরিচিত হচ্ছিলেন৷ তাঁদের কেউ কেউ পরে অবশ্য তৃণমূল কংগ্রেসের বিরোধিতাও করেছেন৷

- Advertisement -

তবে, যাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্বজ্জন হিসাবে পরিচিত হয়েছিলেন, তাঁদেরও পঞ্চায়েত আইন, গ্রামোন্নয়ন এবং গণতন্ত্র শীর্ষক পাঁচ জুলাইয়ের এই সভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে৷ শিল্পী সাংস্কৃতিক কর্মী বুদ্ধিজীবী মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ চক্রবর্তীর কথায়, ‘‘এই মঞ্চের কেউ কেউ কোনও রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করেছেন৷

কিন্তু, তাঁরা কেউ মঞ্চের সঙ্গ ছাড়ার কথা বলেননি৷ পাঁচ জুলাইয়ের সভায় তাঁরা সহ মঞ্চের সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে৷’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘ডাকযোগে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে৷ কেউ যদি আমন্ত্রণপত্র না পেয়ে থাকেন, তা হলে টেকনিক্যাল কোনও কারণে হয়তো সমস্যা হয়েছে৷’’

এই মঞ্চ কোনও রাজনৈতিক সংগঠন নয়, ফের তাও জানিয়েছেন তিনি৷ সাম্প্রতিক ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে কলকাতা প্রেস ক্লাবে এই মঞ্চের তরফে পশ্চিমবঙ্গে ফের পরিবর্তনের আহ্বান জানানো হয়েছে৷ কিন্তু, পঞ্চায়েত নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের এত দিন পরে কেন পঞ্চায়েত আইন, গ্রামোন্নয়ন এবং গণতন্ত্র শীর্ষক বহুমাত্রিক এই আলোচনা সভার আয়োজন?

এই মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ চক্রবর্তী বলেন, ‘‘পঞ্চায়েত নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের আগেই এমন এক আলোচনার জন্য আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম৷’’ এবং, গত ১৮ জুন এই সভার আমন্ত্রণপত্র ছাপানোর জন্য খসড়া ইস্যু করা হয়েছিল বলেও তিনি জানিয়েছেন৷

কেন এই আলোচনা সভার আয়োজন? দিলীপ চক্রবর্তী বলেন, ‘‘ভোটের দিন আগেও কারচুপি হয়েছে৷ কিন্তু, উন্নয়নের নামে পঞ্চায়েত ভোটে গুন্ডামি হল৷ পঞ্চায়েত নির্বাচনে এ বার যা ঘটল, অতীতে কখনও এমন দেখা যায়নি৷’’

একই সঙ্গে এই মঞ্চের এই সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘‘অঢেল টাকা খরচ হচ্ছে৷ কিন্তু, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল স্তরে গণতন্ত্রের বিস্তার হচ্ছে না৷ কলেজে ভর্তি হতে গেলেও টাকা লাগছে৷ গণতন্ত্রের বিস্তৃতির জন্য আমরা খোলামেলা আলোচনা চাইছি৷’’ আগামী দিনে কোন ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে? দিলীপ চক্রবর্তী বলেন, ‘‘এটা বহুমাত্রিক আলোচনা সভা৷ বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হবে৷’’

একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের গণতন্ত্র ক্যানসারে আক্রান্ত, না টাইফয়েডে আক্রান্ত, সেই রোগ ধরতে এই সভার আয়োজন৷ এই রোগের নিরাময় কীভাবে হতে পারে, তার উপরেও আলোচনা হবে৷’’ সভার আয়োজন করেছেন৷ কিন্তু, আপনাদের কথা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কোনও পরিকল্পনা রয়েছে? শিল্পী সাংস্কৃতিক কর্মী বুদ্ধিজীবী মঞ্চের এই সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘‘সভার পরে এই বিষয়ে আমরা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব৷’’

Advertisement ---
---
-----