ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে ট্রোলড হচ্ছেন স্মিথরা

লন্ডন: বল বিকৃতি কাণ্ডে দোষি সাব্যস্ত হয়ে এক বছরের জন্য ক্রিকেট থেকে নির্বাসিত হয়েছেন অজি অধিনায়ক স্মিথ৷ বৃহস্পতিবার সিডিনি বিমানবন্দরে নেমে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন অজি অধিনায়ক৷ ঘটনাটিকে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ মিডিয়া ‘ক্যাপ্টেন ক্রাই বেবি’ বলে স্মিথকে ট্রোল করে৷

আরও পড়ুন: স্মিথদের জন্য সহানুভূতি লিটল মাস্টারের

সম্প্রতি বল বিকৃতি নিয়ে সরগরম রয়েছে ক্রীড়া জগৎ৷ অজিদের আফ্রিকান সাফারির তৃতীয় টেস্টে ওপেনার ক্যামেরন ব্যানক্রফটের বল বিকৃত করার ছবি টিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ার পর সমালোচনার সুনামি ওঠে ক্রিকেটবিশ্বে৷ ক্রমে প্রকাশিত হয় ছক কষে বল বিকৃতি ঘটিয়েছিল অজিরা৷

- Advertisement DFP -

‘স্যান্ডপেপার গেট’ কাণ্ডে নাম জড়ায় অজি অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ এবং সহঅধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নারেও৷ বৃহস্পতিবার স্মিথ ও ওয়ার্নারকে একবছরের জন্য নির্বাসন দিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া৷ ৯ মাসের জন্য বাইশ গজ থেকে নির্বাসিত হয়েছেন ব্যানক্রফট৷

আরও পড়ুন: ‘স্যান্ডপেপার গেট’ দিয়ে স্মিথকে বিচার করতে চান না ‘হিট ম্যান’

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘ডেইলি মেল’-এর স্পোটর্স পেজে স্মিথের কান্নায় ভেঙে পড়ার খবরটির শিরোনাম হিসেবে ব্যবহার করা হয় ‘ক্যাপ্টেন ক্রাইং বেবি’ শব্দগুচ্ছ৷ আরেক ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম ডেলি স্টার খবরটির শিরোনামে লিখেছে, ‘অজি চিটারদের কান্না ও লজ্জা’৷

স্মিথদের বল বিকৃতি ঘটানোর সমালোচনায় সরব হয়েছিলেন প্রাক্তন ক্রিকেটারা৷ কিন্তু স্মিথের পরিস্কার স্বীকারোক্তি ও শাস্তি স্বীকার করে নেওয়ার ঘটনার প্রশংসা করেছেন অনেকেই৷ ভারতের কিংবদন্তি ক্রিকেটার সচিনও স্মিথদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়েছেন৷ ‘মেন ইন ব্লু’র ‘হিট ম্যান’ রোহিত জানিয়েছেন, ‘স্মিথরা বড় মাপের ক্রিকেটার৷ শুধুমাত্র এই ঘটনা দিয়ে ওদের বিচার করা উচিত নয়’৷

আরও পড়ুন: স্যান্ডপেপার গেট: কোচের পদ ইস্তফা লেম্যানের

স্মিথদের নিয়ে ব্যাঙ্গ বিদ্রুপ করলেও ক্রিকেট জগতে ব্রিট্রিশদের জগৎজোড়া নাম রয়েছে স্লেজিং ও বল-টেম্পারিংয়ের জন্য৷ ১৯৯৪ সালে লর্ডসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ইংল্যান্ডের ক্যাপ্টেন মাইকেল আথারটন বল বিকৃত করেন৷ ঘটনাটি টিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে৷ এটিই টিভি ক্যামেরায় ধরা পড়া প্রথম বল বিকৃতি ঘটনা৷ এরপরও ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে একটি ম্যাচে বল বিকৃতির অভিযোগ ওঠে ইংরেজ পেসার স্টুয়ার্ট ব্রড ও জেমস অ্যান্ডারসনের বিরুদ্ধে৷ কিন্তু সেসব ভুলে স্বভাবসিদ্ধ ঔদ্ধত্যের পরিচয় দিয়ে স্মিথদের ট্রোল করতে শুরু করেছে ব্রিটিশ মিডিয়া৷ যদিও ব্রিটিশ মিডিয়ার এমন আক্রমণের পিছনে অ্যাসেজে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ইংল্যান্ডের হেরে যাওয়াকেও কারণ হিসেবে দেখছে অনেকে৷ ২০১৭ অ্যাসেজে ব্রিটিশদের গুড়িয়ে দিয়ে ৪-০ জয় হাসিল করেছিল স্মিথের নেতৃত্বাধীন অজি ব্রিগেড৷

Advertisement
----
-----