ফিট থাকতে ডায়েট কন্ট্রোল করে বাঘ সিংহও

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় , কলকাতা : যদি মনে করেন বিশ্বে মানুষ একমাত্র জীব যারা সুস্থ্য থাকার জন্য ডায়েট কন্ট্রোল করে তাহলে ধারনা একদম ভুল। ডায়েট কন্ট্রোল করে বাঘ সিংহের মত বন্যেরাও। ওদের মাছ ভাত মুখে রোচে না। রুচিতে লাগে কাঁচা তাজা মাংস। রোজ বিপুল পরিমানে এসব পেটে পুড়লে গ্রীষ্মেহজমে গণ্ডগোল নিশ্চিত। অতএব খাবারে লাগাম।

‘কম খেলে নাহি খেদ, বেশি খেলে বাড়ে মেদ’। ‘হীরক রাজার দেশে’ ছবিতে সত্যজিৎ রায়ের লেখা সেই ডায়লগ আদ্যপান্ত তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর লেখা। তবে ফাস্ট ফুডের জমানায় পেট পুড়ে চর্বি জমানো বর্তমান প্রজন্মের জন্যও এই ডায়লগ যথোপযুক্ত। সামনেই গরমকাল। এই সময়েবেশি করে এইসব হাবিজাবি খেলে পেটের সমস্যা অবধারিত। সেক্ষেত্রে খাবার বা খাদ্যাভ্যাসে লাগাম দেওয়া পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা। অর্থাৎ ডায়েট চার্টের প্রয়োজন রয়েছে । ডায়েট না মানলে সমস্যা হয় চিড়িয়াখানার পশুদেরও। বিশেষ করে গরম কালে এই সমস্যা বেশি হতে পারে। তাই গরম কাল এলেই ডায়েট মেনে দৈনন্দিন খাবারের পরিমান কমিয়ে দেওয়া হয়।

ডায়েট বেশি করে প্রয়োজন হয় বাঘ সিংহ বা চিড়িয়াখানায় নবাগত জাগুয়ার বা চিতাদের জন্য। এরা প্রত্যেকেই মোষের মাংস খায়। শিশু অবস্থায় শুধু মায়ের দুধের উপরে থাকলেও বড় হওয়ার সঙ্গে বংশপরম্পরায় মাংসই হয়ে ওঠে ‘জাতীয় খাদ্য’। তখন আলিপুর চিড়িয়াখানার একটি পূর্ণ বয়সের বাঘ প্রায় ১২ কিলো মোষের মাংস সাবার করে দেয়। কিন্তু গরম কাল এলে তাপমাত্রা বেড়ে যায় অনেকটাই। বিশেষ করে কলকাতার তাপমাত্রা ৪০-এ গিয়ে ঠেকে। তার সঙ্গে রয়েছে আর্দ্রতা। এই দুয়ের সঙ্গে দেদার মাংস চললে হজমে সমস্যা হতে বাধ্য। এই সমস্যা যাতে না হয় সেই কারনেই এদের খাবার কমিয়ে দেওয়া হয়।

- Advertisement -

আলিপুর চিড়িয়াখানার পশুদের স্বাস্থ্যের দেখাশোনার দায়িত্ব রয়েছে ডাক্তার শিবাজি ভট্টাচার্যের উপর। তিনি বলেন, “এইসব মাংসাশী প্রাণী যখন বনে থাকে তখন এদের এইসব ডায়েটের প্রয়োজন হয় না। কারন সেখানে রোজ খাবার মেলে না। খাবার মিললেও পরিমাণের ঠিক থাকে না। সোজা কথা খুঁটে খেতে হয়। কিন্তু চিড়িয়াখানার পশুকে খুঁটে খেতে হয় না।” বেঁচে থাকার জন্য কোনও লড়াই নেই। টাইম টু টাইম শুধু মানুষের মনোরঞ্জনের জন্য খাঁচার বন্যদের শরীর তরতাজা রাখতে খাবার দেওয়া হয়। শিবাজীবাবু বলেন, “শীতকালে বেশি খাবার খেলে কোনও সমস্যা হয় না, কারন তাপমাত্রা কম থাকে। খাবার হজমের পক্ষে শীতকাল ভালো। কিন্তু গরম কালে বিশেষ করে এখানকার আর্দ্রতা প্রচুর বেশি থাকে। চিড়িয়াখানার পশুদের পক্ষে তা খুব একটা সুখকর নয়। এর উপর যদি শীতকালের মতোই খাওয়াদাওয়া চলে তাহলে হজমের সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। তাই এই সময়ে এদের খাবারের পরিমাণ কিছুটা কমিয়ে দেওয়া হয়।”

চিকিৎসক জানিয়েছেন, “শীতের সময়ে সিংহ ১০ থেকে ১২ কিলো মোষের মাংস খায়। এটাই গরম কালে ৯ কিলো করে দেওয়া হয়। গত বছর গরমে ৯ কিলো করেই মাংস খেয়েছিল চিড়িয়াখানার সিংহের দল।” বাঘ ও প্রায় সাড়ে এগারো কিলো মাংস খায়। সেটা কমিয়ে ১০-এর আশেপাশেই রাখা হয়েছিল। চিতা দিনে প্রায় সাড়ে তিন কিলো মাংস খায়। গত গ্রীষ্মে এর খাবারও এক কিলো কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল। চিড়িয়াখানার নতুন অতিথি জাগুয়ার। শীতে দিনে পাচ কিলো মাংস খেয়েছে সেটি। কিন্তু ধীরেধীরে তাপমাত্রা বাড়ছে। তাই এর খাবার পরিমাণ গরম পরলেই একটু কমিয়ে দেওয়ার ভাবনা রয়েছে পশু চিকিৎসক। অর্থাৎ গরমে কম খেলেই সুস্থ্য থাকবে ভয়ঙ্কর সুন্দরের দল।

Advertisement ---
---
-----