গাড়ি শোরুম উদ্বোধনকে ঘিরে উত্তেজনা জলপাইগুড়িতে

জলপাইগুড়ি : মারুতির শোরুমের উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল জলপাইগুড়ি শহর।অভিযোগ শাসকদলের পঞ্চায়েত সদস্যের উপস্থিতিতেই সমস্ত ঘটনাটি ঘটেছে।শনিবার ঘটনাটি ঘটে জলপাইগুড়ি শহরের শিরিষতলা এলাকায়।
ঘটনায় শোরুমের এক মহিলা কর্মীসহ মোট চারজনকে মারধর করা হয়।ম্যানেজারসহ দু’জন কর্মী গুরুতর আহত হন।ঘটনার পরে এলাকায় প্রবল পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে।কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত এলাকার শোরুম সংলগ্ন একটি কালভার্টকে কেন্দ্র করে।স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য নান্টু দাস অভিযোগ করে বলেন শোরুমটি তৈরি করার সময় পাশের একটি কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সম্প্রতি কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা সেখানে দুর্ঘটনার কবলে পরে।শনিবার এই শোরুমের উদ্বোধন অনুষ্ঠান ছিল।তাই শনিবার সকালে শোরুমের মালিক সেখানে উপস্থিত হলে নান্টুবাবু স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কালভার্টি পুনরায় নির্মান করে দেওয়ার দাবী জানায়৷
কিন্তু সেই সময় শোরুমে পুজো চলছিল বলে তিনি কিছুক্ষণ বাদে তাদের আসতে বলেন৷বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে ফেলার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়৷এরপর নান্টুবাবু সেখান থেকে বাড়ি চলে আসেন বলে জানান।কারা শোরুমের কর্মীদের মারধর করেছেন সেই বিষয়ে তার জানা নেই।অপরদিকে শোরুমের ম্যানেজার গোপাল দেব অভিযোগ করে বলেন, শনিবার সকালে শোরুমে পুজো চলছিল। সেই সময় কিছু লোকজন বাইরে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে৷শোরুমের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার অঙ্কিত পোদ্দার বিষয়টি দেখতে বাইরে বের হলে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যের নেতৃত্বে কিছু উত্তেজিত জনতা কালভার্ট তৈরির দাবী নিয়ে অঙ্কিত বাবুকে হুঁশিয়ারি দিতে থাকেন।
বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করা হলে তারা কর্মীদের ওপর চড়াও হন। গোপাল বাবু জানান যে তার হাতে চোট লেগেছে। শোরুমের অ্যাকাউন্টেন্টকে বেল্ট দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। তার গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হামলাকারিদের ক্ষোভের শিকার হয়েছেন তাদের এক মহিলা কর্মীও। তার পেটে চোট লেগেছে। তিনি বলেন স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য তাদের কাছে আগেই দাবী করেছিলেন কালভার্ট তৈরি করে দেওয়ার। তারা কথাও দিয়েছেন সেটি তৈরি করে দেবেন। সম্প্রতি বালি পাথরের যোগান নিয়ে সমস্যা চলার কারণে তাদের নির্মান কার্যের পাশাপশি কালভার্টটিও তৈরি করা সম্ভব হয়নি।
দ্রুত সেটিকে তৈরি করে দেওয়া হবে বলে জানানোর পরেও কেন এমন ঘটনা ঘটলো তিনি বুঝতে পারছেন না। শোরুমের সিইও অঙ্কিত পোদ্দার অভিযোগ করে বলেন, এদিন ঘটনার সময় কিছু ব্যাক্তি ৫-৬ লক্ষ টাকা দিতে হবে বলে দাবি করেছিলেন। আমি টাকা দিতে অস্বীকার করলে শোরুম বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। আমরা পুরো বিষয়টি লিখিত আকারে পুলিশ প্রশাসনকে জানাচ্ছি। এই বিষয়ে জলপাইগুড়ির অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার ভোলানাথ পান্ডে বলেন, আমি শুনেছি শিরিষতলা এলাকায় একটি গাড়ির শোরুমের কর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের সমস্যা হয়েছে।ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।