নারদ-কাণ্ডে সিবিআই-এর মুখোমুখি হলেন মুকুল রায়

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: নারদ-কান্ডে এবার সিবিআই-এর জেরার মুখোমুখি হলেন মুকুল রায়। আগেই নোটিশ দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। সোমবার হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল। কথামত এদিন তিনি হাজির হন সিবিআই দফতরে।

নারদ কাণ্ডে ইডি দফতরে হাজিরা শুভেন্দুর

২০১৬ সালের মার্চ মাসের মাঝামাঝি প্রকাশ্যে আসে নারদ নিউজের স্টিং অপারেশনের ভিডিও। সেই ভিডিও-তে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের এক ডজন নেতা মন্ত্রীকে দেখা যায় ঘুষ হিসেবে ছদ্মবেশী সাংবাদিক ম্যাথু স্যামুয়েলের থেকে টাকা নিতে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে যা নিয়ে তোলপাড় হয় রাজ্য রাজনীতি। জাতীয় রাজনীতিতেও যার ব্যাপক প্রভাব পড়ে। সেই অভিযুক্তদের তালিকায় এক নম্বরে নাম ছিল মুকুল রায়ের।

- Advertisement -

পুজোর পরেই নারদের ‘কাঁটা’য় বিদ্ধ মুকুল রায়ের নেতৃত্বে পৃথক দলের ঘোষণা

প্রাক্তন নারদ কর্তা ম্যাথু স্যামুয়েলের বক্তব্য অনুসারে ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে করা হয়েছিল নারদ নিউজের স্টিং অপারেশন। সেই সময় তৃণমূল কংগ্রেসের দুই নম্বর ব্যক্তি ছিলেন মুকুল রায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরেই ছিল তাঁর স্থান। যদিও নারদ নিউজের ভিডিও-তে সরাসরি মুকুল রায়কে টাকা নিতে দেখা যায়নি। তাঁর হয়ে সেই ঘুষের টাকা নিয়েছিলেন বর্ধমানের তৎকালীন পুলিশ সুপার এসএমএইচ মির্জা। যদিও লেনদেন সংক্রান্ত যাবতীয় কথাবার্তা রেকর্ড হয়েছিল নারদ নিউজের প্রকাশিত ভিডিও-তে। শুধু তাই নয়, পুলিশ কর্তা মির্জার মুকুল রায়ের হয়ে টাকা নেওয়ার ভিডিও ফুটেজটিও প্রকাশ করা হয়েছিল নারদ নিউজের পোর্টালে। এছাড়াও মুকুল রায়ের অফিসে গিয়েও টাকা দিয়েছিলেন ম্যাথু স্যামুয়েল। যদিও সেই ভিডিও রেকর্ড করা সমচব হয়নি বলে জানিয়েছিলেন ম্যাথু। প্রাক্তন নারদ কর্তার বক্তব্য অনুসারে, মুকুল রায়কে মোট দশ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু, দিয়েছিলেন পাঁচ লক্ষ টাকা।

ডানা ছাঁটল দল, মুকুলের বিজেপিতে যোগদান নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে

একসময় দলের দুই নম্বর স্থানে থাকলেও এই মুহূর্তে তৃণমূল কংগ্রেসে আর সেই জায়গায় নেই মুকুল রায়। এখন তাঁর গুরুত্ব অনেকটাই খর্ব হয়ে গিয়েছে। মুকুল রায়ের নতুন দল গঠন এবং বিজেপি যোগদান সম্পর্কিত নানান খবর ঘুরছে রাজনীতির অলিন্দে। এই জল্পনা শুরু হয়েছিল তৃণুমূল কংগ্রেসের সঙ্গে মুকুল রায়ের দূরত্ব তৈরি হওয়ার পর থেকে। আর এই দূরত্ব তৈরি হয় সারদা কান্ডে মুকুল রায়ের সিবিআই জেরার পর থেকে। সিবিআই কর্তাদের কাছে নেত্রী মমতার বিরুদ্ধে বেফাঁস মন্তব্য করার কারণেই দল এবং দলনেত্রীর বিরাগভাজন হয়েছিলেন তিনি।

তৃণমূলে উপেক্ষিত মুকুল-মদনকে দল ছাড়ার ‘নির্দেশ’ মমতার

Advertisement ---
-----