দিল্লির বুরারি কাণ্ডে সিসিটিভি ফুটেজ থেকে মিলল নয়া সূত্র

নয়াদিল্লি: শনিবারের রাত দশটা৷ ওই সময় যখন অধিকাংশ পরিবার রাতের খাবার তৈরিতে ব্যস্ত থাকে সেই সময় ভাটিয়া পরিবারের সদস্যরা ব্যস্ত ছিলেন আত্মহত্যার সামগ্রী কিনতে৷ সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে এমনটাই জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা৷ ভাটিয়া পরিবারের বাড়ির সামনে সিসিটিভি ফুটেজ দেখার পর অন্তত একটা বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে এই ঘটনায় ‘বহিরাগত’ কারোর কোনও ভূমিকা ছিল না৷ ভাটিয়া পরিবারের সকলে মনস্থির করে নিয়েছিলেন তারা আত্মহত্যা করবে৷

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে রাত দশটার সময় বাড়ির সদস্যরা একে একে টুল, দড়ি ও বিদ্যুতের তার নিয়ে বাড়িতে ঢুকছেন৷ এই সব সামগ্রী আত্মহত্যার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে৷ ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা গিয়েছে রাতের খাবার খেয়ে সকলে রাত ১টার সময় আত্মহত্যা করেন৷ ফুটেজ অনুযায়ী রাত দশটার সময় এক মহিলা চারটে টুল নিয়ে আসেন৷

রাত ১০টা ১৫ মিনিট নাগাদ ১৫ বছরের দুটি কিশোর ধ্রুব ও শিবম বৈদ্যুতিন তার নিয়ে বাড়িতে ঢোকে৷ সাড়ে দশটার পর একজন বাড়িতে এসে রুটি দিয়ে যায়৷ রাত ১০টা ৫৭ মিনিটে নারায়ণী দেবীর বড় ছেলে ভুবনেশ কুকুরকে সঙ্গে নিয়ে হাঁটতে বের হন৷ ১১টা৪ মিনিট নাগাদ ভুবনেশ ফিরে আসেন৷ এরপর সকলা ৫টা ৫৬ মিনিট নাগাদ বাড়িতে দুধের প্যাকেট রাখতে আসেন এক যুবক৷ ৭টা ১৪ মিনিট নাগাদ প্রতিবেশীরা বাড়িতে ঢুকে মৃতদেহগুলি দেখতে পান৷

- Advertisement -

এক তদন্তকারী আধিকারিক জানিয়েছেন প্রথমে মনে করা হচ্ছিল গোটা ঘটনায় বাইরের কেউ ভাটিয়াদের মদত করেছিলেন৷ দরজা বাইরে থেকে খোলা থাকাটাও সেদিকে ইঙ্গিত করছিল৷ কিন্তু ফুটেজ হাতে পাওয়ার পর সেই ধোঁয়াশা কাটে৷ ওই রাতে ভাটিয়া বাড়িতে বহিরাগত কাউকে ঢুকতে বা বের হতে দেখা যায়নি৷ যা থেকে পরিস্কার ওই ১১ জন আপাতদৃষ্টিতে স্বেচ্ছায় আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে৷

দিল্লির বুরারি কাণ্ডে তান্ত্রিক যোগের প্রমাণ আগেই পেয়েছেন তদন্তকারীরা৷ কেননা তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ বেশ কিছু ডায়েরি উদ্ধার করে৷ যেখানে তন্ত্র মন্ত্রের ব্যাপারে অনেক কিছু লেখা আছে৷ ডায়েরিগুলি নারায়ণী দেবীর ছোট ছেলে ললিতের৷ তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে তন্ত্রসাধনা করতেন৷ তাঁর উপর নাকি স্বর্গীয় বাবা ‘ভর’ করতেন৷ তিনি ললিতকে মোক্ষলাভের উপায় বলে দিতেন৷ এমন অনেক কিছু কথা লেখা আছে ডায়েরিতে৷ ললিত ছাড়াও আরও একজনের হাতের লেখা পাওয়া গিয়েছে সেখানে৷ তিনি হলেন প্রিয়াঙ্কা৷ যার ১৭ জুন বাগদান হয় এক ব্যবসায়ী বাড়ির ছেলের সঙ্গে৷

তাদের বিশ্বাস ছিল ললিতের বাবার আত্মা তাদের রক্ষা করবেন৷ তেমনই কিছু ইঙ্গিত রয়েছে ডায়েরিতে৷ আত্মহত্যার দিন সেখানে লেখা হয়েছে, ‘‘কাপে জল রেখো৷ যখন তার রঙ বদলে যাবে আমি দেখা দেব এবং তোমাদের বাঁচাব৷ এরপর সবাই সবার বাঁধন খুলে দেবে৷’’ তদন্তকারীদের ধারণা সেই বিশ্বাসেই তারা একসঙ্গে আত্মহত্যা করেন৷

Advertisement ---
---
-----