সবং: কেন্দ্রীয় বাহিনীকে থানায় বসিয়ে রেখে কাঠগড়ায় শাসক

সুমন বটব্যাল ও দেবযানী সরকার: এ যেন উলটপুরাণের কাহিনী!
বিরোধী দলনেত্রী থাকাকালীন নির্বাচন এলেই কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনী নামানোর দাবি জানাতেন তিনি৷ তৎকালীন শাসকের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে থানায় বসিয়ে রাখার অভিযোগে সরব হতেন তিনি৷ পালাবদলের বাংলায় সেই অভিযোগই ব্যুমেরাং হয়ে ফিরছে তৃণমূলের দিকে৷ সৌজন্যে, বিরোধীদের অভিযোগ৷

আগামী ২১ ডিসেম্বর সবং বিধানসভার উপ-নির্বাচন৷ শাসকের বিরুদ্ধে এলাকায় সন্ত্রাস চালানোর অভিযোগে একযোগে সরব হয়েছে বিজেপি-সিপিএম-কংগ্রেস৷ বিরোধীদের দাবি মেনে ইতিমধ্যেই সবংয়ে পৌঁছেছে ৮ কোম্পানী কেন্দ্রীয় বাহিনী৷ কিন্তু বিরোধীদের অভিযোগ, বাহিনীকে প্রত্যন্ত এলাকায় টহলে না পাঠিয়ে দিনভর থানাতেই বসিয়ে রাখা হচ্ছে৷

বিজেপি প্রার্থী অন্তরা ভট্টাচার্য ইতিমধ্যেই এবিষয়ে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন৷ তাঁর কথায়, ‘‘দাবি মেনে কেন্দ্রীয় বাহিনী এসেছে৷ কিন্তু রাজ্য পুলিশ তো শাসকদলের কথা মতোই কাজ করছে৷ তাঁরা কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দিনভর থানাতে বসিয়ে রাখছে৷ ফাঁকা রাস্তায় রুট মার্চ করাচ্ছে৷ আর প্রত্যন্ত এলাকায় তৃণমূল নিজেদের লেঠেলবাহিনীকে দিয়ে লাগামছাড়া সন্ত্রাস চালাচ্ছে৷’’

- Advertisement -

একই অভিযোগ শোনা গিয়েছে কংগ্রেস প্রার্থী চিরঞ্জীব ভৌমিকের গলায়৷ তাঁর কথায়, ‘‘৩০৬টি বুথের মধ্যে অন্তত ২০০ বুথে তৃণমূল লাগামছাড়া সন্ত্রাস চালাচ্ছে৷ আর রাজ্য পুলিশ শাসকের দালালি করছে৷ কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কোনও কাজই করতে দিচ্ছে না৷’’ প্রত্যাশিতভাবেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ তথা দলীয় প্রার্থী গীতারানি ভুঁইয়ার স্বামী মানস ভুঁইয়া৷

আরও একধাপ এগিয়ে দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় kolkata24x7কে বলেছেন, ‘‘আমরা যখন কেন্দ্রীয় বাহিনীকে থানায় বসিয়ে রাখার অভিযোগ করতাম, তখন আমরা মানুষের পাশে থেকে আন্দোলন করেই একথা বলতাম৷ ওদের মতো ঘরে বসে মিথ্যে গল্প দিতাম না৷’’ গত বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ মনে করিয়ে দিয়ে পার্থবাবু বলছেন, ‘‘গত বিধানসভা নির্বাচনে আমাদেরকে হারাতে কেন্দ্র থেকে প্রচুর কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনী আনা হয়েছিল৷ তবু আমরা রের্কড ভোটে জিতেছি৷ কারণ, মানুষ আমাদের পাশে আছে৷’’

যা শুনে বিরোধী প্রার্থীরা একযোগে কটাক্ষের সুরে বলছেন, ‘‘এতোই যদি মানুষ পাশে রয়েছে, তাহলে ধমক-চমকের রাজনীতি থেকে সরে এসে স্বতস্ফূর্তভাবে মানুষকে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ করে দিক তৃণমূল৷ তাহলেই দুধ কা দুধ, পানি কা পানি স্পষ্ট হয়ে যাবে৷’’

সবংয়ের মাটিতে পা রাখলে এবারে অবশ্য বেসুরো গন্ধ টের পাওয়া যাচ্ছে৷ কংগ্রেস ও সিপিএম একযোগে মানসবাবুর বিরুদ্ধে বেইমানির অভিযোগে সরব হয়েছেন৷ সবংয়ের গ্রামে গ্রামে বাজছে গত বিধানসভা নির্বাচনে তৎকালীন কংগ্রেস প্রার্থী মানস ভুঁইয়ার জ্বালাময়ী বক্তব্য৷ যে বক্তব্যের ছত্রে ছত্রে তৃণমূল ও দলনেত্রীকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন সেদিনের বামজোটের প্রার্থী মানসবাবু৷ আরও একধাপ এগিয়ে গত নির্বাচনে প্রকাশ্য জোট মঞ্চে সূর্য মিশ্রকে বুকে আঁকুড় করে জড়িয়ে ধরা মানসবাবুর সেই বিখ্যাত ছবি, সবংয়ের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি৷ বাড়তি হিসেবে যোগ হয়েছে, শাসকের আভ্যন্তরীন কোন্দল৷

মানস-জায়া প্রার্থী হওয়ায় ক্ষুব্ধ তৃণমূলের নীচুতলার একাংশ কর্মী বলছেন, ‘‘তৃণমূল করি৷ তাই বাধ্য হয়ে দলের মিছিলে হাঁটতে হচ্ছে৷ কিন্তু মন থেকে এমন প্রার্থীকে মেনে নিতে পারছি না৷ ফলে ভোটটা যে তৃণমূলকেই দেব, সেই গ্যারেন্টি দিতে পারছি না৷’’ বিরোধীদের অভিযোগ, যাবতীয় কোন্দল আর আশঙ্কাকে দূর করতে কেন্দ্রীয়বাহিনীকে থানায় বসিয়ে রেখে শেষ হাসি হাসতে মরিয়া শাসক৷

Advertisement ---
---
-----