কলকাতা: দূষণ ঠেকাতে এয়ার কন্ডিশনারের (এসি) তাপমাত্রা ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখা বাধ্যমূলক করতে চলেছে কেন্দ্রের সরকার৷ তাদের এই সিদ্ধান্ত সমর্থন করছে বাংলার রাজনৈতিক মহল থেকে ঠান্ডিঘরের বাসিন্দাদের একাংশ৷ এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে বলেই মনে করছেন তাঁরা৷

পরিবেশবিদদের প্রস্তাবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের তাপমাত্রা বেঁধে দিতে উদ্যোগী হল কেন্দ্রীয় সরকার ৷ এবার থেকে এসি বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের তাপমাত্রা ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখা বাধ্যতামূলক করা হবে ৷ স্বয়ং কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎমন্ত্রী আর কে সিং নিজেই এই প্রস্তাব দিয়েছেন। গত শুক্রবার তিনি জানিয়েছেন, ‘‘খুব শীঘ্রই এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করা হবে।’’

Advertisement

পরিবেশবিদ সুভাষ দত্ত কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন৷ তিনি বলেন, “আমি ১০ বছর আগেই এই কথা বলেছিলাম৷ এয়ার কন্ডিশনে সব থেকে বেশি বিদ্যুৎ খরচ হয়৷ আমাদের এই আবহাওয়ায় এসির তাপমাত্রা ২৫-৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে হওয়া উচিত৷”

বিদ্যুৎ মন্ত্রী বলেছেন, ভারতে যেহেতু বিদ্যুৎ উৎপাদনের অনেকটাই হয় তেল, কয়লা পুড়িয়ে, তাই এয়ার কন্ডিশনার চালাতে বিদ্যুতের খরচ কম হলে তেল আর কয়লা বাঁচে। আর তেল, কয়লা পোড়ালে যেহেতু পরিবেশ, প্রকৃতি ভরে ওঠে বিষাক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইডে, তাই বিদ্যুৎ কম খরচ করে এসি চালালে দূষণের মাত্রাও অনেকটা কমে যায়।

মন্ত্রীর আরও বক্তব্য, ‘‘এসির ঠান্ডা বাড়াতে গিয়ে বেশি বিদ্যুৎও খরচ করছি আমরা। বিদ্যুতের অপচয় হচ্ছে। বাড়ছে আমার, আপনার ইলেকট্রিক বিল, খরচও। বাড়তি বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে গিয়ে তেল আর কয়লা পোড়াতে হচ্ছে বেশি। ফলে, বাতাস আরও বেশি করে ভরে যাচ্ছে কার্বন ডাই-অক্সাইডে। প্যারিস জলবায়ু চুক্তির সর্বশেষ বৈঠকে ভারত কথা দিয়ে এসেছে ২০০৫ সালের তুলনায় তেল, কয়লা পুড়িয়ে বাতাসে বিষ ঢেলে দেওয়ার হার ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ কমাবে। তার জন্য বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে বিদ্যুতের ব্যবহার নিয়ন্ত্রিত করা দরকার। এসি ব্যবহার তার অন্যতম।’’

কেন্দ্রীয় সরকার ওই নির্দেশ দেওয়ার পরেই টুইটারে সমালোচনার ঝড় বয়ে গিয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন, এর পর কতটা চাল খেতে হবে, তারও কি সীমা বেঁধে দেবে কেন্দ্র? কিন্তু স্বাগত জানিয়েছেন অনেকেই৷ যেমন লোকসভায় তৃণমূলের নেতা সৌগত রায়ের বক্তব্য, “এতে যদি বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয় তাহলে তো ভালোই৷ কিন্তু এসি তো এখন অনেকেই স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য কেনেন, তাই ২৪ ডিগ্রি ঠান্ডা থাকলে ব্যবহারকারীদের স্বাচ্ছন্দ্য ঠিকমতো হবে কি না সেটা দেখতে হবে৷”

সিপিএমের বিধায়ক সুজন চক্রবর্তী বলেছেন, “যদি বিষয়টা বিজ্ঞানসম্মত হয় তাহলে তো ভালোই৷ বিদ্যুৎ খরচ কমবে৷ তবে পুরো বিষয়টাই বিজ্ঞানীদের সঙ্গে কথা বলে করা উচিত৷ কারও মরজিমাফিক যেন না হয়৷”

প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী কবির সুমন তথা যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন সংসদ সদস্য বলেন, “কেন্দ্রের বিদ্যুৎমন্ত্রী সঠিক কথা বলেছেন৷ নিজেদের শরীরের কথা ভেবে তাপমাত্রা ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসেই রাখা উচিত৷ আমি এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করি৷”

তবে কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য শতাব্দী রায়৷ তাঁর বক্তব্য, “এটা কী অদ্ভুত কথা! কলকাতা-দিল্লিতে এখন যা গরম পড়ে তাতে ২৪ ডিগ্রিতে ঠান্ডা দিলে চলবে? তাতে কী কাজ হবে? এই দুই শহরে ১৮-২০ ডিগ্রিতে না নামালে এসি চালানোই যায় না৷ আর বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে সরকারের যদি সাধারণ মানুষের খরচই কমাতে চায়, তাহলে প্রত্যেক মাসে ভূতুড়ে বিলগুলো দেখে ব্যবস্থা নিক৷ দেখা যাচ্ছে কারও কারও বাড়িতে মাত্র একটা লাইট, একটা ফ্যান চলে৷ সারা মাসে যেখানে ২০০ টাকা আসার কথা, সেখানে তাদেরই বিল আসছে ৩ হাজার টাকা! এটা কী করে ঘটছে? যাঁরা এসি কেনেন তাঁরা কত বিল আসতে পারে, সেই অঙ্কটা মাথায় রেখেই কেনেন৷ সরকারকে এসব ভাবতে হবে না৷”

----
--