স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: তেলেঙ্গানার চন্দ্রশেখর রাওয়ের মতো পালটি খাবেন চন্দ্রবাবু নাইডুও৷ বাংলায় তিনি আসছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রতিবেশী মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রশেখর রাওয়ের রাস্তায় হেঁটে তিনি মোদী-ক্যাম্পেই যোগ দেবেন৷ ভবিষ্যতবাণী করেছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ৷ কিন্তু মমতার কী হবে? Kolkata24x7 দিলীপ বলেন, ওরা দিদিমনির অবস্থা কেমন তা দেখে নিচ্ছেন৷

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে রাজ্যে আসবেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী নারা চন্দ্রবাবু নাইডু৷ সম্প্রতি দিল্লিতে গিয়ে তিনি কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করে এসেছেন৷ রাজ্যে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তিনি দেখা করবেন তা সেদিনই জানিয়েছিলেন৷ মঙ্গলবার নবান্ন সূত্রে যা খবর পাওয়া গিয়েছে, ১৯ নভেম্বর তিনি মমতার সঙ্গে সম্ভবত নবান্নেই দেখা করতে আসছেন৷ স্বাভাবিক ভাবেই লোকসভা ভোটমুথী দেশে জোট-অঙ্কের সমাধান করতে এই সাক্ষাৎ কিছুটা হলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের সাহায্য করবে৷

ইতিমধ্যেই বিজেপি বিরোধী জোটে কংগ্রেসকে পাশে পেতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছে চন্দ্রবাবু৷ রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, তিনি বিজেপি বিরোধী জোটে প্রধানমন্ত্রীর পদপ্রার্থী হতে চান৷ অবশ্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কেও রাজধানীতে এই আলোচনা এক সময় তুঙ্গে উঠেছিল৷ মমতা অবশ্য বলেছিলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রিত্ব চান না৷ বাংলা বিপ্লবের জন্ম দিয়েছে৷ দেশের এই সন্ধিক্ষণে তিনি Kingmaker হতে চান৷

মঙ্গলবার কলকাতায় দিলীপ বলেন, ‘‘ওখানকার চন্দ্রশেখর রাও-ও দেখা করে গেলেন৷ এখন উলটো সুর গাইলেন৷ আমার মনে হয় ব্যতিক্রম কিছু হবে না৷ এটাই হবে৷ ওরা দেখতে চাইছেন দিদিমনির অবস্থা ঠিক আছে কি না৷ তার সঙ্গে যাওয়া ঠিক হবে কি না৷ কার সঙ্গে কে যাবে এটা ওদের চিন্তা৷ বিজেপি একা লড়ে বাংলার পরিবর্তন আনবে৷’’ তবে যখন তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কালভাকুন্তলা চন্দ্রশেখর রাও কলকাতায় এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মঙ্গে দেখা করেছিলেন, সেই সময়, দিলীপের বক্তব্য ছিল, আঞ্চলিক পার্টিগুলি এন ডি এ’তে ‘রসালো ডিপার্টমেন্ট’ পেতে এখন থেকেই সক্রিয়৷ চন্দ্রশেখর রাও এসেছেন৷ কালীঘাটে পুজো দিয়ে বাড়ি যান৷ ভোট এগিয়ে এলেই কিছু আঞ্চলিক পার্টি দর কষাকষি শুরু করে৷ কিন্তু তাতে কিছু হয়না৷ কারণ সাধারণ মানুষ উন্নয়ন চান৷ উন্নয়নের নিরিখেই ভোট হয়৷

তবে, ২০১৯ লোকসভা ভোটের দিন ঘোষণার আগেই সারা দেশের নেতা-নেত্রীদের সঙ্গে দেখা করে বেড়াচ্ছেন চন্দ্রবাবু৷ তবে বহুজন সমাজ পার্টি নেত্রী মায়াবতি তাঁকে কোনও প্রতিশ্রুতি না দিতে পারলেও তৃণমূল নেত্রী তাঁকে বিজেপি বিরোধী জোটে এগিয়ে চলার মানসিক জোর জোগাবেন, তা প্রায় নিশ্চিত৷ কিন্তু বিজেপি নেতারা বলছেন, এই যে ফ্রন্টের কথা বলা হচ্ছে, তার নীতি বা আদর্শ বলে কিছুই নেই৷ খালি মিডিয়াতেই এর কথা শোনা যায়৷ এই সব আঞ্চলিক দলগুলি জানে, ভোটের তাদের কাছে যা আসন আছে তাও থাকবে না৷ তখন এই দর কষাকষি করার ক্ষমতাও হারাবে৷

----
--