দু’ দশক পর সোনার ইতিহাস গড়লেন চানু

নিউইর্য়ক: দু’ দশক আগের কথা৷ ১৯৯৪-৯৫ সালে কার্নম মালেশ্বরী ভারতের হয়ে প্রথম ও শেষবার ভারোত্তেলনে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জিতেছিল৷ দীর্ঘ ২২ বছর খরার মধ্যে কেটে গিয়েছে ভারতের ভারোত্তোলন৷ কিন্তু মুম্বইয়ের তনয়া চানু মিরাবাঈয়ের হাত ধরে ভারত আবার বিশ্ব মঞ্চে সোনা জিতল৷ মার্কিন মুলুকে ভারতকে সোনা এনে দিলেন মণিপুরী কন্যা৷ সেই সঙ্গে স্বর্ণাক্ষরে রচিত হল আর এক ইতিহাস৷

থাই তারকা সাকচারোইন থুনিয়া এই প্রতিযোগাতায় রুপো জিতেছেন ১৯৩ কেজির ভারোত্তোলনে৷ ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন আইরিস তারকা সেগুরা অ্যানা মোট ১৮২ কেজি ভারোত্তোলন করে৷ চানু তুলেছেন মোট ১৯৪ কেজি যার জন্য তাঁর ঝুলিতে এসেছে সোনার পদক৷

মালেশ্বরী যেখানে শেষ করেছিলেন ঠিক সে জায়গা থেকেই হাল ধরলেন মণিপুরে ২৩ বছরের চানু৷ ৪৮ কেজির বিভাগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আনাহিমে চানু এদিন ফের ভারতের সোনার মেয়ে হলেন৷ ৮৫ কেজি স্ন্যাচের পর ১০৯ কেজি জার্ক করে মোট তিনি ১৯৪ কেজি ভারোত্তোলন করেছেন৷ সেগুরার থেকে মাত্র এক কেজি বেশি ভার তুলে ২০১৭ আইডব্লিউএফ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জিতলেন তিনি৷ ৮৫ কেজির দ্বিতীয় স্ন্যাচে পরাস্ত হওয়ার পর তৃতীয় স্ন্যাচে কোন ভুল করেননি৷ কিন্তু তারপর ক্লিন ও জার্ক পর্যায়ে ১০৩, ১০৭ ও ১০৯ কেজি সহজেই উতড়ে যান তিনি৷ ভারতের হয়ে সনজিতা চানুও এদিন পঞ্চম স্থান অধিকার করেছেন৷

- Advertisement -

গত বছর রিও অলিম্পিকের মঞ্চে মানসিক বল হারিয়ে নাম নথিভুক্ত করতে পারেননি চানু৷ আনাহিমের সভায়ও নিজের সঙ্গে স্নায়ুযুদ্ধ করেছেন মণিপুরী কন্যা৷ চানু রেলওয়েতে মনিপুরের এক অঞ্চলে চাকরি করার পাশাপাশি রোজ অনুশীলন করেন৷ চাকরি জীবনের সঙ্গে আবেগের ভারোত্তোলনের এতটুকু আপোস করেন না বছর বইশের এই তনয়া৷ সোনা জেতার পর মঞ্চে দাঁড়িয়েই জাতীয় পতাকার দিকে তাকিয়ে চানুর চোখে আনন্দাশ্রু৷ তিনি বলেন, ‘ কোচের কাছে আমি ঋণী৷ উনি আমাকে প্রচুর খাটিয়েছেন যার ফল পাচ্ছি৷ আমরা এখন থেকেই ২০২০ টোকিও সফরের ব্লু-প্রিন্ট বানাচ্ছি৷’ এই জয়ের পর রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ টুইট করে অভিনন্দন জানিয়েছেন সোনার মেয়েকে৷

Advertisement ---
---
-----