মেডিক্যালের চিকিৎসকের ‘ভুল’, শিশুর বাঁ পায়ের বদলে ডান পায়ে অস্ত্রোপচার

স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: মেডিক্যাল কলেজগুলির বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ প্রায়শই শিরোনামে উঠে আসে৷ কিন্তু এ অভিযোগ ভয়ঙ্কর৷ ন’মাসের এক শিশু৷ তার বাঁ পায়ে সমস্যা নিয়ে ভর্তি করা হয়েছিল বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে৷ চিকিৎসকরা বলেন অপারেশন করতে হবে৷ কিন্তু অপারেশন টেবিল থেকে যখন ওই দুধের শিশুকে বের করে আনা হল দেখা গেল তার ডান পায়ে ব্যান্ডেজ বাধা৷ ‘ভুল’ করে চিকিৎসকরা ডান পায়ে অপারেশন করেছে৷

ন’মাসের এক শিশু কন্যার বাঁ পায়ের সমস্যা অপারেশন করতে গিয়ে ডান পায়ের অপারেশন করে দিলেন বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক চিকিত্সক। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে হাসপাতালে৷ প্রশ্ন উঠছে, মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক এতটা ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ কীভাবে হতে পারেন৷

- Advertisement -

একইসঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে অভিযুক্ত চিকিৎসকের যোগ্যতা নিয়েও৷ একজন মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক যদি সুস্থ পায়ে ছুরি, কাঁচি চালিয়ে দিতে পারেন তা হলে তো তিনি অনেক কিছুই করতে পারেন বলছে শিশুটির পরিবার৷ অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠিন শাস্তি দেওয়া হোক অভিযুক্তকে সে দাবিও ইতিমধ্যেই উঠতে শুরু করেছে৷

হুগলির গোঘাট থানার বালিগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা রবিয়েল আলি খান বলেন, নবীনা খাতুন নামে ওই শিশুটির জন্মের দেড় মাস পর থেকেই তার বাঁ পায়ে একটি সমস্যা দেখা দেয়। এরপর বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিত্সকদের দেখালে তাঁরা অপারেশন করানোর কথা বলেন৷ অস্ত্রোপচারে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে আশ্বাসও দেন৷

সেইমতো শিশুটির চিকিত্সা চলছিল৷ মঙ্গলবার চিকিত্সক অপারেশনের ডেট দেন। এদিন বিকাল সাড়ে চারটে নাগাদ অপারেশন টেবিলে নিয়ে যাওয়া হয় নবীনাকে। প্রায় ঘণ্টাখানেক পর অপারেশন থিয়েটার থেকে শিশুটিকে বার করা হয়। এরপরই পরিবারের লোকজন দেখেন, শিশুটির বাঁ পায়ের বদলে ডান পায়ে অপারেশন করা হয়েছে।

সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা চিকিত্সকের কাছে ছুটে যান। এরপর ফের শিশুটিকে অপারেশন টেবিলে তোলা হয়। ফের তার বাঁ পায়ের অপারেশন করা হয়। এই ঘটনায় শিশুটির অবস্থা সঙ্কটজনক হয়ে পড়েছে বলে রবিয়েল খান জানিয়েছেন। যদিও এ ব্যাপারে হাসপাতালের চিকিত্সকরা কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তবে হাসপাতালের ডেপুটি সুপার অমিতাভ সাহা জানান, এই ঘটনার কথা শুনেছেন। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷

Advertisement
-----